ক্যালসিয়াম (Calcium) একটি খনিজ উপাদান যা দাঁত ও হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম, রক্ত ও‌ স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতি প্রয়োজনীয় এই খনিজ উপাদানটি শরীরের মধ্যে উৎপাদন হয় না। বরং ‌তা খাবার অথবা সাপ্লিমেন্ট এর মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। শরীরে এর ঘাটতি হলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।

শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল বয়সের মানুষের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে ক্যালসিয়ামের অভাবে কি সমস্যা হয়, অভাব পূরণে কার্যকরী উপায় সমূহ, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট কি এবং এটি কখন খাওয়ার প্রয়োজন হয়, এবং ভিটামিন ডি এর সাথে এর সম্পর্ক বিষয়ক আলোচনা করা হয়েছে।

 

 

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কি হয়?

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কি হয়

এর ঘাটতি হলে শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে তা বুঝতে হলে প্রথমত জানতে হবে Calcium শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কি কি কার্যাবলী সম্পাদন করে। খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খনিজ (mineral) যার মধ্যে অন্যতম হলো ক্যালসিয়াম। হাড় ও দাঁতের গঠনে প্রায় ৯৯% পর্যন্ত এই খনিজ উপাদানটির ভূমিকা রয়েছে। শরীরের যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে এর অবদান রয়েছে তা হলো:

  • শিশুদের হাড়ের গঠনে সহায়তা করে ও সঠিক সময়ে দাঁত উঠতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বয়স্কদের হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখে ও হাড় ক্ষয় হওয়া রোধ করে
  • মহিলাদের মেনোপজের পর হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে থাকে। যা প্রতিরোধে এই খনিজ উপাদান টি সহায়তা করে
  • মাংস পেশীর সংকোচন ও প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে
  • রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তাকারী ফ্যাক্টর গুলোর কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে (Singh, 2019)
  • হৃদপেশী (cardiac muscles) ও রক্তনালীর কার্যক্রমে সহায়তা করে
  • এনজাইম গঠনে ভূমিকা রাখে‌। এনজাইম (enzyme) হলো শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা কারী উপাদান।
  • গর্ভকালীন সময়ে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে
  • রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে
  • কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

শরীরের অভ্যন্তরে কোন বিশেষ প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম উৎপন্ন হতে পারে না। বাইরে থেকে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। অতঃপর ভিটামিন ডি এর সহায়তায় শরীর তা শোষণ করতে সক্ষম হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে অনুচ্ছেদটির শেষের দিকে আলোচনা করা হয়েছে।

ক্যালসিয়াম ঘাটতি হলে শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা যায়?

গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজ উপাদানটির (Calcium) ঘাটতি হলে উপরে বর্ণিত যে সমস্ত কাজে এর ভূমিকা রয়েছে তাতে বিঘ্ন ঘটে। তবে এর ঘাটতি হলে প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায় না। ক্ষেত্র বিশেষে মৃদু প্রকৃতির লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

সামান্যতম কোন লক্ষণ দেখা দিলেও অবহেলা না করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লক্ষণ দেখা পাওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ঘাটতি পুষে রাখলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সাধারণত যে সমস্ত লক্ষণ গুলো দেখা যায় তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

১। ক্যালসিয়াম হাড়ের মধ্যে মজুদ থাকে এবং হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রেখে হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে। রক্তে Calcium ion (Ca2+) এর ঘাটতি হলে হাড় থেকে Calcium নিঃসরণ হতে থাকে। যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে।

২। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের গঠন যথাযথ ভাবে হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে হাড়ের বিকৃতি দেখা দিতে পারে যাকে রিকেটস (Rickets) বলা হয়। এছাড়াও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং শিশু বেঁটে প্রকৃতির হতে পারে।

৩। ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া সহ হাত ও পায়ের নখ শুষ্ক এবং ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে যায়। ত্বকের অধিক শুষ্কতার দরুন মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। এছাড়াও একজিমা ও সোরিয়াসিস এর মত যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগ হতে পারে।

৪। শিশুদের ক্ষেত্রে দেরিতে দাঁত উঠতে দেখা যায়। আর বয়স্কদের বেলায় দাঁতের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন দাঁত ক্ষয় প্রাপ্ত হওয়া, সহজেই ভেঙে যাওয়া, দাঁতের গোড়া (Roots) দুর্বল হয়ে যাওয়া সহ মাড়িতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।

৫। মাংসপেশীতে অসাড়তা ও ব্যথা বোধ হতে পারে বিশেষত দৌড়ানো অথবা হাঁটার সময় বাহু ও পায়ের উরুতে ব্যথা বোধ হয়। বেশি পরিমাণে Calcium এর ঘাটতির ফলে ব্যথা ও অসাড়ভাব তীব্র ভাবে দেখা দেয় এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে খিঁচুনিও (convulsions) হতে পারে।

৬। শারীরিক ভাবে দুর্বলতা বোধ হয়। অল্প পরিশ্রমেই শরীরে অধিক পরিমাণে ক্লান্তি ভর করে। কাজের প্রতি অনীহা দেখা দেয়।

৭। মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার (dizziness) মত যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও অনিদ্রা (insomnia), কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা এবং সহজেই ভুলে যাওয়ার মত সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে।

৯। মহিলাদের মাসিক শুরুর আগে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে যাকে premenstrual syndrome (PMS) বলা হয়।

১০। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এর অভাব জনিত কারণে বিষন্নতা (Depression) সৃষ্টি হতে পারে।

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণ কি?

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর তথ্য অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রায় ৩.৫ বিলিয়নের বেশি মানুষ ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে অভাবের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন:

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করা
  • শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ হজমে সমস্যা হওয়া (lactose intolerance) যা একধরনের জিনগত রোগ
  • শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি এর অভাব
  • পরিপাকতন্ত্রের রোগ (inflammatory bowel disease or celiac disease)
  • মহিলাদের মেনোপজের ফলে হরমোনের পরিবর্তন
  • কিছু কিছু ওষুধের প্রভাব যেমন: phenytoin, phenobarbital, rifampin, corticosteroids etc.
  • কিডনির অকার্যকারিতা
  • অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (pancreatitis)
  • বংশগত কারণ ইত্যাদি

কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হওয়ার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন:

  • যুবকদের তুলনায় বয়স্কদের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে
  • পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি সম্ভাবনা দেখা যায়
  • যাদের প্যারাথাইরয়েড গ্ল্যান্ড শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে
  • যে সমস্ত মহিলাদের মাসিক হয় না (amenorrhea)
  • সূর্যের তাপ শরীরে লাগতে পারে না
  • প্রাণীজ আমিষ যেমন দুধ, ডিম, মাংস ইত্যাদি গ্রহণ করেন না
  • যারা বেশি পরিমাণে কোমল পানীয় (Carbonated drinks) সেবন‌ করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি সম্ভাবনা দেখা যায়।

ক্যালসিয়াম ঘাটতির চিকিৎসা কি?

অভাব জনিত লক্ষণ দেখা গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসক তার পর্যবেক্ষণ ও পারিবারিক ইতিহাস জানার পরে যদি মনে করেন ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়েছে তবে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়েছে কিনা। যদি রক্তে 8.8 mg/deci পরিমাণের চেয়ে কম মাত্রায় Calcium থাকে তবে তা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি বলে বিবেচিত হবে। এই অবস্থাকে মেডিক্যাল টার্ম অনুযায়ী hypocalcemia বলা হয়। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ক্যালসিয়াম ঘাটতির চিকিৎসা খুব বেশি জটিল প্রকৃতির নয়। বরং খুব সহজেই Calcium সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শুধু খাবারের মাধ্যমে ঘাটতি মেটানো সম্ভবপর হয় না। তখন Calcium supplements গ্রহণের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবার গ্রহণ করা নিরাপদ হলেও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অন্যথায় তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণত নিম্নলিখিত সাপ্লিমেন্ট গুলো বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন:

  • ক্যালসিয়াম carbonate যা সহজলভ্য, কম দামে পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক বেশি কার্যকরী।
  • Calcium citrate যা খুব সহজেই শরীর শোষণ করতে সক্ষম হয়।
  • ক্যালসিয়াম ফসফেট যা নিরাপদ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে না।

ব্যবহারের সুবিধার্থে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাপ্লিমেন্ট গুলোকে ট্যাবলেট, চুষে খাওয়ার বড়ি এবং তরল আকারে বাজারজাত করে থাকেন। তরল প্রকৃতির সাপ্লিমেন্ট জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসক ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় (Vein) প্রয়োগ করে থাকেন।

উল্লেখ্য কিছু বিশেষ প্রকৃতির ওষুধ রয়েছে যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যেন Calcium supplements গ্রহণের সময় সেই সমস্ত ওষুধ গুলো সেবন করা না হয়। তবে সেই ওষুধ গুলোর মধ্যে কোনটি যদি শরীরের জন্য আবশ্যক হয়ে থাকে (যেমন: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ) তবে সেক্ষেত্রে চিকিৎসককে বিষয় টি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। এমতাবস্থায় চিকিৎসক সেই অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করে দিবেন অথবা অন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ওষুধের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

  • উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (beta-blockers)
  • এলুমিনিয়াম সমৃদ্ধ এন্টাসিড ওষুধ
  • কোলেস্টেরলের ওষুধ
  • ইস্ট্রোজেন ট্যাবলেট
  • Digoxin
  • প্রস্রাবের ওষুধ (Diuretics)
  • Fluoroquinolones and Tetracyclines.

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং করণীয় বিষয়

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর তথ্য অনুযায়ী গর্ভকালীন সময়ে গর্ভস্থ বাচ্চার সঠিক বিকাশের জন্য Calcium অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানটির ঘাটতি হলে গর্ভবতী মায়ের নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সাথে শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে।‌ শিশুর শরীরের গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে।

শিশুর‌ জন্মের ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে যদি নিম্নলিখিত উপসর্গ গুলো দেখা যায় তবে বুঝতে হবে তার শরীরে এর ঘাটতি রয়েছে। মেডিক্যালের ভাষায় এটাকে Neonatal hypocalcemia বলা হয়। লক্ষণ গুলো হলো:

  • বুক ধড়ফড় করা
  • আস্তে আস্তে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া
  • ঠিক মতো দুধ খেতে না চাওয়া
  • শরীরে ঝাঁকুনি বা খিঁচুনি হওয়া

এমতাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ পরীক্ষা করে তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক Calcium supplements বাচ্চার মায়ের জন্য নির্দেশিত করতে পারেন যা বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর শরীরে কার্যকর হবে। অন্যথায় সরাসরি বাচ্চার শরীরে শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে Calcium supplements দিয়ে থাকেন। উল্লেখ্য যে সমস্ত শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো না হয় বরং গরুর দুধ অথবা কৌটাজাত দুধ খাওয়ানো হয় তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কীভাবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রোধ করবেন?

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS of UK) এর নির্দেশনা অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক (১৯ থেকে ৬৪ পর্যন্ত) মানুষের জন্য দৈনিক সর্বনিম্ন ৭০০ মিগ্রা (700 mg) Calcium এর দরকার যা খাবার থেকে গ্রহণ করতে হবে। শরীরে যেন Calcium এর ঘাটতি না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।‌ এই ব্যাপারে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর নির্দেশনা হলো:

  • ১ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য দৈনিক ২০০-২৬০ মিগ্রা
  • ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চাদের জন্য ৭০০ মিগ্রা
  • ৪ থেকে ৮ বছরের জন্য ১০০০ মিগ্রা
  • ৯ থেকে ১৮ বছরের* জন্য ১৩০০ মিগ্রা
  • ১৯ থেকে ৭০ বছরের জন্য ১০০০ মিগ্রা
  • ৭০ এর বেশি বয়সী মানুষদের জন্য ১২০০ মিগ্রা

বয়ঃসন্ধি কালে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে Calcium দরকার হয় কারণ এই সময়ে হাড়ের গঠন‌ মজবুত হয়। (Gavin, n.d) আর তাই এই বয়সের জন্য তুলনামূলক বেশি পরিমাণে এই খনিজ উপাদান গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুকে বুকের দুধ পান করান এমন মায়েদের জন্য দৈনিক ১০০০ মিগ্রা এর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কিশোরী বয়সে (১৪-১৮ বছর) গর্ভধারণ করলে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে (১৩০০ মিগ্রা) ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। উপরের সকল নির্দেশনা নারী পুরুষ সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।‌ তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য প্রত্যেহ ১২০০ মিগ্রা করে Calcium গ্রহণ করা দরকার। কারণ ৪৫ থেকে ৫০ বছরের পরে নারীর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। অর্থাৎ মেনোপজ হয় যার ফলে শরীরে হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে থাকে।

এর ঘাটতি রোধ করে সুস্থ্য জীবন যাপন করতে চাইলে নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী যথাযথ পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। কোন কোন খাবার গুলোতে বেশি পরিমাণে Calcium রয়েছে সে ব্যাপারে নিচে আলোচনা করা হয়েছে। খাবার গ্রহণের সাথে সাথে শরীরে যেন ভিটামিন ডি এর ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ভিটামিন ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা Calcium শোষণে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য সূর্যের তাপ সরাসরি ত্বকে লাগাতে হবে। এছাড়াও শরীরে Calcium শোষণের ক্ষেত্রে অন্য কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে‌ তা দূরীকরণের চেষ্টা করতে হবে।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের গাইড

 

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের

খাবার হচ্ছে এর সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উৎস। প্রায় প্রত্যেক খাবারের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটি বিদ্যমান রয়েছে, কোনটায় খুবই সামান্য পরিমাণে আবার কোনটায় বেশি পরিমাণে। দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে এবং তা শরীরের জন্য খুব সহজেই শোষণ উপযোগী। তবে কিছু কিছু উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও অনেক বেশি পরিমাণে এই খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। বেশি পরিমাণে Calcium রয়েছে এমন কিছু খাবারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো। সেই সাথে কোন খাবারে কতটুকু পরিমাণে এটি বিদ্যমান রয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

 দুধ এবং দুধ থেকে উৎপন্ন খাবার গুলোতে অনেক বেশি পরিমাণে Calcium রয়েছে। উপরন্তু দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করার ফলে খুব সহজেই তা থেকে শরীর Calcium শোষণ করতে সক্ষম হয়। যে পরিমাণে থাকে-

  • এক কাপ গরুর দুধে প্রায় ৩০০ মিগ্রা
  • ১ কাপ ছাগলের দুধে রয়েছে প্রায় ৩২৭ মিগ্রা
  • এক আউন্স পনির (Cheese) থেকে প্রায় ৩৩১ মিগ্রা যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক নির্দেশিত মাত্রার প্রায় ৩৩ শতাংশ।

 

  • কাঠবাদাম

প্রায় সব রকমের বাদামের মধ্যেই Calcium থাকলেও কাঠবাদামে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে। এক আউন্স কাঠবাদাম থেকে প্রায় ৭৫ মিগ্রা পর্যন্ত এটি পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত এই খাবারটিতে আরো রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ই যা শরীরের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

  • খাদ্য বীজ

বিভিন্ন ধরনের ফসলের বীজ রয়েছে যা খাবার হিসাবে গ্রহণ করা যায়। এমন খাবারের মধ্যে চিয়া বীজ ও তিল Calcium এর উৎস হিসেবে বিশেষ ভাবে পরিচিত। এক টেবিল চামচ তিলে রয়েছে প্রায় ৯০ মিগ্রা এবং চিয়া বীজে রয়েছে প্রায় ১৮০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম।

  • স্যালমন মাছ

বিশেষ প্রজাতির এই মাছটিতে প্রচুর পরিমাণে Calcium রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্যালমন মাছে প্রায় ৩৫০ মিগ্রা পর্যন্ত Calcium রয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী উপাদান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড।

  • শস্যদানা

যারা প্রাণীজ আমিষ গ্রহণ করেন না (নিরামিষাশী) তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শস্যদানা Calcium এর উৎস হিসেবে উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষত মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, শিমের বিচি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে Calcium রয়েছে। এক কাপ শস্যদানা থেকে ‌২৪৪ মিগ্রা পর্যন্ত এটি পাওয়া যেতে পারে।

  • শাকসবজি

সবুজ শাকসবজি বিশেষত পালং শাকে এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এক কাপ পরিমাণ রান্না করা সবজিতে প্রায় ২৬৬ মিগ্রা পর্যন্ত পাওয়া যায়। উপরন্তু সবুজ শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

এসব ছাড়াও আরো কিছু খাবার শরীরের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষত যে খাবার গুলোতে ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। এই উপাদান গুলো শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ও সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

  • সামুদ্রিক খাবার (seafood), ব্রকলি, বাদাম, শস্যদানা ইত্যাদি যাতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম।
  • মাছ, ডিমের কুসুম, লাল মাংস ইত্যাদি খাবার এবং সূর্যের তাপ থেকে শরীর ভিটামিন ডি পেয়ে থাকে।
  • মুরগির মাংস, তিল ও শস্যদানা যাতে রয়েছে ফসফরাস।

ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট)

 

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট

সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রচলিত Calcium supplements হলো ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট। কাদের জন্য এই ট্যাবলেট প্রয়োজন হতে পারে তা উল্লেখ করা হলো।

  • যাদের শরীরে অতি মাত্রায় Calcium এর ঘাটতি‌ রয়েছে
  • যারা দীর্ঘদিন যাবত নিরামিষ আহার করেন
  • যারা দুধ খেতে পারেন না বিশেষত Lactose Intolerance এর রোগী
  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি অনীহা বা অ্যালার্জি
  • গর্ভকালীন সময়ে নারীর শরীরে বেশি পরিমাণে Calcium এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়
  • যে সমস্ত মহিলা সন্তানকে বুকের দুধ পান করান
  • মেনোপজের পর মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  • হাড় ক্ষয়ে যাওয়া (Osteoporosis) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

উপরে উল্লেখিত ক্ষেত্র সমুহের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Calcium ট্যাবলেট গ্রহণ করা যেতে পারে।
ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের উপকারিতা হলো এটি খুব সহজেই শরীরে Calcium এর ঘাটতি‌ দূর করতে সক্ষম হয়।
এবং রক্তে Calcium ion এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষত হাড়ের জন্য এই সাপ্লিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
রক্তে Calcium ion এর সরবরাহের জন্য হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া প্রতিরোধ করে।‌ উপরন্তু হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে তোলে।

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০০ মিগ্রা ট্যাবলেট দৈনিক ২ বার করে সেবন করতে হবে। অন্যথায় ১০০০ মিগ্রা ট্যাবলেট দিনে মাত্র একবার গ্রহণ করতে হবে
  • ভরাপেটে ওষুধ সেবন করতে হবে। একদম খালি পেটে ওষুধ সেবন করলে এসিড নিঃসরণের ফলে পাকস্থলীতে ক্ষত হতে পারে
  • ওষুধ খেতে ভুলে গেলে পরবর্তী ডোজের সময় দুই ডোজ ওষুধ একবারে সেবন করা যাবে না
  • দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫০০ মিগ্রা এর বেশি পরিমাণে ওষুধ সেবন করা উচিত নয়
  • ওষুধ সেবনের পরে কোনো জটিলতা বা allergic reaction দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে
  • গর্ভবতী মহিলা ও শিশুকে বুকের দুধ পান করান এমন মায়েদের জন্যও এই ওষুধটি নিরাপদ

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

প্রায় প্রত্যেক ওষুধের কার্যকারিতার পাশাপাশি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে খুব কম পরিমাণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে যা নিচে তুলে ধরা হলো। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটি সেবনের ফলে শরীরে নানাধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত তা কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • মাথাব্যথা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • তৃষ্ণা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • পেটে মোচড়ানো ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • মাংস পেশী ও হাড়ে ব্যথা
  • প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
  • ক্ষেত্রবিশেষে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যেতে পারে

Calcium D ট্যাবলেট এর উপকারিতা

ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য শরীরে ভিটামিন ডি এর উপস্থিতি আবশ্যক। তাই বাজারে যে সমস্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট পাওয়া যায় তা মূলত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ এর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়ে থাকে যেন আলাদা করে ভিটামিন ডি গ্রহণের প্রয়োজন না পড়ে। সাধারণত নিম্নলিখিত নামে এই ওষুধটি বাজারে পাওয়া যায়। যেমন: Acical-M, Aristocal-M, Cadmin plus, Calboplex, Ostocal-M, Ostogen plus ইত্যাদি।

ক্যালসিয়াম ডি ট্যাবলেট এর বিশেষ উপকারিতা হলো এটি সেবনের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি একসাথে পূরণ হয়ে থাকে। হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে ওষুধটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। উপরন্তু হাড় ক্ষয়ে যাওয়া রোগীদের জন্য ওষুধটি নির্দেশিত হয়ে থাকে। কারণ, হাড় ক্ষয়ে যাওয়া (osteoporosis) প্রতিরোধ করতেও ওষুধ টির কার্যকারিতা রয়েছে।

পুরুষদের জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট

সাধারণত পুরুষদের জন্য এটি সেবনের প্রয়োজন পড়ে না। তবে ৭০ বছরের পরে প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেহ সর্বোচ্চ ১২০০ মিগ্রা পর্যন্ত Calcium সেবন করা যেতে পারে। কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যালসিয়াম নামক এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানটি পুরুষের যৌন কার্যকলাপে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যার (Erectile dysfunction) ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এই ওষুধটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন যৌন রোগ বিশেষজ্ঞরা।

মহিলাদের জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট

মহিলাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।
বিশেষত গর্ভকালীন সময়ে ও সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে যখন বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করায়,
তখন শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে এর চাহিদা পূরণের জন্য নিয়মিত Calcium ট্যাবলেট সেবনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়াও এটি হতে পারে 50 বছরের বেশি মহিলাদের জন্য সেরা ক্যালসিয়াম সম্পূরক ওষুধ।
সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছরের পর মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।
এসময় শরীরে হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে থাকে।
আর যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড়‌ ক্ষয় হয়ে যেতে থাকে।
এই বয়সের মহিলাদের জন্য হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সেবন করার প্রয়োজন পড়ে।

ভিটামিন ডি ?

Vitamin D চর্বিতে দ্রবনীয় একটি ভিটামিন যা শরীরের জন্য সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় কিন্তু নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন ডি অন্ত্রের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করে এবং রক্তে এদের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সূর্যের তাপ ত্বকে লাগানোর মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হতে পারে।
এছাড়াও মাছ, মাংস ও ডিমের কুসুম থেকে এটি পাওয়া যায়।
ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS of UK) এর তথ্য অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে দৈনিক ১০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি থাকলে সেক্ষেত্রে শরীর‌ যথাযথ ভাবে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সক্ষম হয় না।
উপরন্তু ভিটামিন ডি এর অভাব জনিত আরো অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এর অভাবে আরো কি কি জটিলতা হতে পারে সে ব্যাপারে জানতে ভিটামিন ডি এর উপর আমাদের লিখা অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

 

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের মধ্যে পার্থক্য

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উপাদান।ভিটামিন ডি এর সহায়তায় শরীর Calcium শোষণ করতে সক্ষম হয় আর ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় গঠনে সহায়তা করে।
সেই হিসেবে এই উপাদান দুটির মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
তবে উপাদান দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন।
ভিটামিন ডি হলো এক ধরনের ভিটামিন যা শরীরের জন্য খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
অপরদিকে ক্যালসিয়াম হলো একটি খনিজ (Mineral) উপাদান যা তুলনামূলক বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয়ে থাকে।
তবে উপাদান দুটি একসাথে মানুষের শরীরের হাড়কে শক্ত ও মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ক্যালসিয়াম শরীরের গঠন ও অন্যান্য নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে বিশেষ অবদান রাখে।
তেমনি ভাবে শরীরে এর ঘাটতি হলে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এই ঘাটতি প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
প্রয়োজনে Calcium supplements গ্রহণ করতে হবে তবে অবশ্যই তা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং নিরাপদ মাত্রায়।
ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের অযাচিত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে যা প্রতিরোধে সকলের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।

Last Updated on February 2, 2022

Was this article helpful?
YesNo