মশলা হিসেবে পরিচিত আদার উপকারিতা শুনলে অবাক হবেন

বাঙালিদের ঘরে আদা (Ginger) পাওয়া যাবে না এমনটি হতে পারে না। এশিয়ানদের মধ্যে মশলা হিসেবেই আদা বেশি পরিচিত। কিন্তু আমরা কি আদার প্রকৃত গুনাগুণ সম্পর্কে সব জানি? তরকারির স্বাদ বর্ধক হিসেবে ব্যবহার করলেও শতাব্দীর পর শতাব্দী আদার প্রচলন কিন্তু ঔষধি গুণের জন্যই!

খুব কম মানুষই আছে যারা আদার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে এটি গ্রহণ করে থাকে। বরং অধিকাংশ মানুষ জেনে এসেছে যে, রান্নার অনেক উপকরণের মধ্যে আদা সামান্য একটি উপকরণ। কিন্তু এই সামান্য উপকরণের স্বাস্থ্য গুণ শুনলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে। তো চলুন আজকের আলোচনা থেকে আদার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে সব জানতে চেষ্টা করবো।

আদার উপকারিতা কি? 

আদার উপকারিতা সম্পর্কে নানাবিধ গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। এই পর্যায়ে আদার ১৬ টি উপকারিতা পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো।

১. আদা বদহজমের সমস্যা দূর করে 

বদহজম (Indigestion) বলতে পেটের মধ্যে খাবার সহজে হজম না হওয়াকে বোঝায় যার লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় পেটে গ্যাস জমা, টক ঢেঁকুর, বুকজ্বালা, অস্বস্তি বোধ, খাদ্যের প্রতি অনীহা ইত্যাদি। সাধারণত পাকস্থলী থেকে খাবার ধীরে বের হওয়ার ফলে বদহজম সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর মজার বিষয় হলো আদা খাওয়ার মাধ্যমে পাকস্থলীর এই কাজের গতি বেড়ে যায়। (Leech, 2021)

এছাড়াও আদা খাওয়ার মাধ্যমে মুখের লালা গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় তথা লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। আর লালা রসের মধ্যে শর্করা ও ফ্যাট জাতীয় খাবার হজমে সহায়তাকারী এনজাইম রয়েছে। আপনি যদি দীর্ঘদিন যাবত বদহজম সমস্যায় ভোগেন তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে ১.২ গ্রাম পরিমাণ আদা অথবা আদার গুঁড়া খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে করে আপনার বদহজম সমস্যা দূর হবে এবং পাকস্থলি যথাসময়ে খালি হয়ে খাদ্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

 

২. আদা ডায়রিয়া সারাতে সাহায্য করে 

ডায়রিয়া বা Food poisoning একটি কমন স্বাস্থ্য সমস্যা যার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে আদা খেতে পারেন।‌ এক্ষেত্রে আদার মধ্যে বিদ্যমান Phytochemicals সমূহ পেটে মোচড়ানো ব্যথা এবং জীবাণু দূর করার মাধ্যমে ডায়রিয়া সারাতে সহায়তা করবে। এই ব্যাপারে বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদা ডায়রিয়া সহ নানাবিধ পেটের সমস্যা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। (Villines, 2018)

ডায়রিয়া সারাতে আদা কিভাবে এবং কতটুকু পরিমাণে খাবেন? এই ব্যাপারে হেলথ এক্সপার্টদের মতামত হলো ০.৫ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা আদা সরাসরি অথবা আদা পানি তৈরি করে খেতে হবে। একবার খাওয়ার পর ডায়রিয়া না কমলে পরবর্তীতে মাত্রা বাড়িয়ে ১ গ্রাম করে খেতে হবে। তবে ডায়রিয়া ও বমির ফলে শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিলে সেই পর্যায়ে ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভরসা না করে বরং রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন দিতে হবে।

 

৩. আদায় রয়েছে আইবিএস (IBS- irritable bowel syndrome) এর সমাধান 

আইবিএস একটি দীর্ঘমেয়াদি পেটের সমস্যা যেখানে পরিপাকতন্ত্রের কোনো গঠনগত পরিবর্তন বা সমস্যা হয় না। তবে এক্ষেত্রে পরিপাকনালির পেশিগুলোর অস্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খেলে হজমে সমস্যা সহ পেটের নানাবিধ সমস্যা দেখা যায়। দুঃখজনক একটি বিষয় হলো, আইবিএস সারাতে পারে এমন কোনো ওষুধ এখনো পর্যন্ত নেই।

আর তাই ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে আইবিএস এর জন্য নিয়মিত আদা খেতে পারেন। আদা পেটের প্রায় সব ধরনের সমস্যায় জাদুকরী সমাধান দিতে পারে বিধায় আইবিএস এর ক্ষেত্রেও এটি সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। আর তাছাড়াও ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় আইবিএস এর ক্ষেত্রে আদার উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়েছে।‌ (Villines, 2018) যদিও এটি কোনো চিকিৎসক কর্তৃক নির্দেশিত হয় না, তবে নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত বলে নির্দ্বিধায় আদা গ্রহণ করতে পারেন।

 

৪. আদা বমি ভাব দূর করে

কাঁচা আদা অথবা আদা চা বমি বমি ভাব (Nausea) দূর করার জন্য খুবই পরিচিত। যেমন- গর্ভকালীন সময়ে এবং ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপি চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বমি বমি ভাব দূর করতে আদা ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে বাসে চলাচল করতে গেলেই এই সমস্যায় ভোগেন আবার অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে বমি বমি ভাব বোধ করেন। তাদের জন্য খালি পেটে কাঁচা আদা অথবা আদা চায়ের অভ্যাস করা খুবই প্রয়োজনীয়। তবে মনে রাখবেন, বমি বমি ভাব আর বমি (Vomiting) হওয়া এক বিষয় নয়। আর আদা বমি বমি ভাব দূর করতে পারলেও বমি রোধ করতে আদা কোনো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না।

 

৫. মাসিকের ব্যথা দূরীকরণে আদা খুবই উপকারী

দৈনিক নিয়ম করে আদা সেবনের মাধ্যমে শরীরের ব্যথা বেদনা অনেকটাই কমে যায়। বিশেষত মহিলাদের মাসিকের শুরুর দিকে পেটে মোচড়ানো ব্যথা ও যন্ত্রণা কমাতে আদা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ব্যাপারে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাসিকের ব্যথা কমাতে ব্যথা নাশক ওষুধের (প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন) মতোই আদা কাজ করে থাকে। যেহেতু আদা একটি প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত উপাদান, আর তাই মাসিকের ব্যথা কমাতে আপনিও খেতে পারেন সরাসরি কাঁচা আদা অথবা আদার চা। (Leech, 2021)

 

৬. জ্বালাপোড়ার সমস্যা সমাধানে আদা উপকারী 

আদার মধ্যে Gingerol নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ নাশক গুণাবলী শরীরের জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করে। অনেকেই হাত-পা অথবা শরীরে জ্বালাপোড়া বোধ করেন। বিশেষত বাত ব্যথা ও যন্ত্রণা কমাতে আদা খেতে পারেন। আদার তেল বাত ব্যথা অথবা আর্থ্রাইটিস জনিত হাঁটু ও জয়েন্টে ব্যবহারের মাধ্যমে সুফল পাওয়া যায়।

এছাড়াও মেনোপজের সময়টাতে মহিলাদের শরীরে অনেক জ্বালাপোড়া হয় যার জন্য হরমোন থেরাপি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তবে হরমোন থেরাপির বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। আর তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিরাপদ চিকিৎসা হিসেবে নিয়মিত আদা অথবা আদা চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 

৭. শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমায়

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে আদার ভূমিকা কেমন তা জানতে ২০১৬ সালে ৮০ জন মহিলার উপর একটি গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী মহিলাদের প্রতিদিন ২ গ্রাম করে আদা ১২ সপ্তাহ ধরে খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতঃপর লক্ষ্য করে দেখা যায় যে, তাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন অনেকটাই কমে গেছে এবং সেই সাথে কোমড়-পেটের মাপ (WHR- waist hip ratio) ঠিক হয়েছে। (Leech, 2021)

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রাণীদের উপর আরো কতকগুলো গবেষণা চালিয়ে ওজন কমাতে আদার কার্যকরিতা লক্ষ্য করা গেছে। আদা শরীরের ক্যালরি ব্যয় হতে সহায়তা করে এবং প্রদাহ নাশক গুণাবলী রয়েছে যা শরীরের ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন রোগ বা হরমোন জনিত সমস্যা দায়ী বলে ওজন কমাতে চাইলে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।

থাইরোয়েডের গ্রন্থির সমস্যা বা হাইপোথাইরয়েডিজম আপনার শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ কিনা তা জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

৮. আদা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে 

শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির সাথে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে। আর তাছাড়া গবেষণায়ও দেখা গেছে যে, নিয়মিত আদা খাওয়ার মাধ্যমে যেমন শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে তেমনি ভাবে তা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ অথবা ইনসুলিন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আদার উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। বরং ওষুধের সাথে সহায়ক উপাদান হিসেবে আদা বা আদার গুঁড়া খেতে পারেন।

 

৯. আদা হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়

যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের ক্ষেত্রে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগারের উপস্থিতি হার্টের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত আদা খাওয়ার মাধ্যমে হার্টের রোগ যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এছাড়াও চাইনিজ, ইন্দোনেশিয়ান এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে হার্ট ভালো রাখতে আদার ব্যবহার বহুকাল আগে থেকেই চলে আসছে। (Kelly, 2017)

 

১০. ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে

হার্টের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। আর খারাপ কোলেস্টেরল বলতে LDL- low density lipoprotein কে বোঝানো হয়।‌ গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত আদা খাওয়ার মাধ্যমে রক্তে LDL এর পরিমাণ কমে যায়। এছাড়াও সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আদার প্রদাহ নাশক গুণাবলী রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না।

আদার ভূমিকা গবেষণায় পাওয়া গেলেও কোলেস্টেরল কমাতে এর উপর ভরসা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ রক্তের কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য দৈনিক যে পরিমাণে আদা খাওয়ার প্রয়োজন তা একজন মানুষের জন্য অতিরিক্ত। তবে কোলেস্টেরল কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি সহায়ক উপাদান হিসেবে আদা খেতে পারেন।

 

১১. আদা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে

আদাতে ‘৬-জিনজেরল’ নামক এক ধরনের উপাদান আবিষ্কৃত হয়েছে যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কোলনের প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া কমাতে প্রতিদিন ২ গ্রাম আদা খাওয়া খুবই উপকারী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার ও

এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের (Ovarian cancer) ঝুঁকি কমাতে আদার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এই বিষয়ে আরো অধিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

স্তন ক্যান্সার কেন হয় এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়াবলী সম্পর্কে জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

১২. আদা ব্রেইন এর স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে

অক্সাডেটিভ স্ট্রেস (Oxidative stress) এবং ব্রেইনের প্রদাহ মানুষকে ক্রমশ মানসিক দিক দিয়ে দুর্বল করে দেয়। আদা এই মানসিক দুর্বলতা এবং বয়সের সাথে সাথে বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার অসংগতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। গবেষনায় দেখা গেছে আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়োএক্টিভ উপাদান ব্রেইনকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও বয়সজনিত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ও আলজেইমার্স রোগ (Alzheimer’s disease) প্রতিরোধে আদা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

১৩. শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয় 

মেটাবলিজ (Metabolism) এর ফলে প্রতিনিয়ত শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ জমা হয় যা কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়। শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে আদা। এক্ষেত্রে সামান্য আদা উপরের চামড়া ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফুটানো গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। অতঃপর হালকা গরম অবস্থায় অথবা ঠান্ডা করে পান করুন। এটি আদা পানি নামে পরিচিত যা সবার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। আপনি চাইলে এর সাথে লেবু যোগ করতে পারেন যা স্বাদ ও গন্ধ বৃদ্ধি করবে।

 

১৪. মুখের জীবাণু দূর করে 

মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ একটি কমন ঘটনা যার ফলে দাঁত ও মাড়িতে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। আদা চিবিয়ে খাওয়া অথবা আদা পানি খাওয়ার মাধ্যমে মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে দাঁত ও মাড়ি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি ভাবে তা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া জনিত মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চিবানো শুরু করুন, ফলাফল পেয়ে যাবেন সাথে সাথেই।

 

১৫. ত্বকের দাগ দূর করে সজীবতা ফিরিয়ে আনে

আদা যে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তাই নয়, বরং রূপ চর্চায় আদা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বকের উপরিভাগের কোনো দাগ দূর করতে আদা পিষে লাগাতে পারেন। আদার প্রদাহ নাশক গুণাবলী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এক্ষেত্রে দাগ দূর করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে এবং ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে আনতে আদা দারুন একটি উপাদান। (HOPP, 2021)

 

১৬. খুশকি দূর করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে 

 খুশকি (Dandruff) খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা যার ফলে চুল পড়ে যেতে পারে। আপনার মাথায় খুশকি দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন আদা। কারণ আদার রয়েছে ফাংগাস ও ব্যাকটেরিয়া নাশক গুণাবলী যা মাথার খুশকি দূর করবে।

এছাড়াও মাথার চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন আদার তেল। এটি বাজারে কিনতে পাওয়া যায় যা চুলের গোড়ায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান সরবরাহ এবং মাথার ত্বকে রক্ত প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি করে থাকে।

 

আদার উপকারিতা ও ক্ষতি 

আদার যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে আদা খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমনঃ

  • গ্যাস
  • বুকজ্বালা
  • পেট ব্যথা ইত্যাদি

আদা বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যেতে পারে। যেমনঃ

  • ফ্রেশ কাঁচা আদা
  • আদা পানি বা আদা চা
  • আদার গুঁড়া
  • মশলা হিসেবে সাধারণত আদা বাটা অথবা শুকনো আদা ব্যবহার করা হয়
  • আদার তেল অথবা জুস বানিয়েও খাওয়া হয়

আদার উপকারিতা ও ক্ষতি 

কতটুকু পরিমাণে আদা খাওয়া নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তরে হেলথ এক্সপার্টদের মতামত হলো যেভাবেই খাওয়া হোক না কেনো দৈনিক সর্বোচ্চ ৪ গ্রামের বেশি আদা খাওয়া উচিত নয়। (Villines, 2018) গর্ভাবস্থায় আদা, আদার গুঁড়া, আদা পানি ইত্যাদি খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মা ও তার সন্তানের সমস্যা হয় এমনটি কোনো গবেষণায় দেখা যায় নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আদা খাওয়ার মাত্রা দৈনিক ১ গ্রাম হওয়া উত্তম। এর বেশি মাত্রায় সরাসরি কাঁচা আদা খাওয়ার পূর্বে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।‌

আদার উপকারিতা ভিডিও 

আদার গুনাগুণ সম্পর্কে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে। তবে আপনি যদি ভিডিও দেখার মাধ্যমে আদা সম্পর্কে বিজ্ঞান সম্মত সঠিক ধারণা পেতে চান অথবা আপনার প্রিয়জনকে আদার উপকারিতা সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য জানাতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য আমাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল HealthInfoBd থেকে আদার উপকারিতা টাইটেলের ভিডিও টি উপযুক্ত হবে বলে আশা করছি।

আদার যে কিছু বিশেষ উপকারিতা রয়েছে সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আদার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে সব কিছু জানার পর যাদের আদা খাওয়ার অভ্যাস নেই তারাও নিয়মিত আদা সেবনের অভ্যাস গড়ে তুলবেন হয়তো। তবে মনে রাখবেন, আদা ঔষুধি গুণাগুণ সম্পন্ন একটি খাবার মাত্র যা কখনোই সরাসরি ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে কাজে দেবে না।

 

 

References

HOPP, D. (2021, NOV 28). Ginger For Skin: The Complete Guide. Retrieved from Byrdie: https://www.byrdie.com/benefits-of-ginger

Kelly, A. R. (2017, August 10). Love Ginger, Love Your Heart. Retrieved from The Ginger People: https://gingerpeople.com/love-ginger-love-your-heart/

Leech, J. (2021, March 19). 11 Proven Health Benefits of Ginger. Retrieved from Healthline: https://www.healthline.com/nutrition/11-proven-benefits-of-ginger#1.-Contains-gingerol,-which-has-powerful-medicinal-properties

Villines, Z. (2018, January 8). What to know about ginger for diarrhea. Retrieved from Medical News Today: https://www.medicalnewstoday.com/articles/320546#research

Last Updated on May 9, 2022

Was this article helpful?
YesNo