আনারস (Pineapple) খুব রসালো একটি ফল যা আমাদের দেশে হাঁটে বাজারে সহজেই কিনতে পাওয়া যায়।‌ শুধু আমাদের দেশে নয়, বরং সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয়তার সাথে এই ফলটির চাষাবাদ ও খাওয়া হয়ে থাকে। তবে বিস্ময়কর ভাবে আমাদের দেশে আনারস খাওয়া নিয়ে কিছু প্রচলিত ধ্যান ধারণা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে আনারস খাওয়ার উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম এবং আনারস সম্পর্কিত সব ধ্যান ধারনার বিজ্ঞান সম্মত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। 

আনারসের উপকারিতা

আনারসের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Ananas comosus যা Bromeliaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড ডাটা সেন্ট্রালের তথ্য অনুযায়ী,‌ আনারস কম ক্যালোরি সম্পন্ন একটি খাবার যার ৮৬ শতাংশ হলো পানি। এক কাপ পরিমাণ পাকা আনারস (১৬৫ গ্রাম) থেকে ৮৩ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে রয়েছেঃ (Wartenberg, 2022)

  • ২১.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট
  • ২.৩ গ্রাম ফাইবার
  • ১.৭ গ্রাম ফ্যাট
  • ১ গ্রাম প্রোটিন 

সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ম্যাংগানিজ রয়েছে এবং সামান্য পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি (বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, বি৯) কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে।‌ আনারস খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের জন্য যে সমস্ত উপকার হতে পারে তা হলোঃ 

১। আনারসে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে যা গরমের দিনে শরীরে পানির চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।‌ কাঠফাঁটা দুপুরে শরীরের ক্লান্তি দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে পারে। 

২। আনারস হলো এন্টি অক্সিডেন্ট এর খুব ভালো উৎস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

৩। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো (flavonoids, phenolic, bromelain) হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

৪। আনারসে থাকা ব্রোমেলেইন হজমের সমস্যা দূর করে এবং পরিপাক তন্ত্র (Digestive system) ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  

৫। প্রদাহ নাশক হিসেবে কাজ করে এবং আর্থ্রাইটিস এর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। 

আনারস খাওয়ার নিয়ম

আনারস‌‌ নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর ফল যা খেতে যেমন মজাদার তেমনি শরীরের জন্য নানাবিধ উপকারী ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন ভাবে আনার‌স খাওয়া যেতে পারে। যেমনঃ সালাদ হিসেবে, জুস বানিয়ে অথবা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে সরাসরি খাওয়া। তবে একবারে বেশি পরিমাণে আনারস খাওয়া উচিত হবে না। কারণ, তাতে ডায়রিয়া,‌ বমি, পেট ব্যথা সহ নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। দিনে একবার একবাটি পরিমাণ অথবা একগ্লাস জুস খাওয়া যেতে পারে। তবে জুস বানানোর সময় চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকতে হবে। 

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে, খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা বেশি কিনা? আনারস একটি সাইট্রাস গোত্রীয় ফল যা খালিপেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ, সাইট্রাস গোত্রীয় ফল একদম খালিপেটে খেলে এসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব ইত্যাদি হতে পারে।‌ আর তাই খাবার খাওয়ার কিছু সময় পরে আনারস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।‌ যেমনঃ সকাল বেলায় ১০/১১ টার দিকে হালকা নাস্তা অথবা বিকাল বেলার নাস্তা হিসেবে আনারস খাওয়া উত্তম। 

আনারসে কোন এসিড থাকে?

আনারসে থাকে সাইট্রিক এসিড ও‌ ম্যালিক‌ এসিড।‌ এগুলো হলো জৈব এসিড যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। 

আনারস খেয়ে দুধ খেলে কি হয়? 

আনারস খেয়ে দুধ খেলে কোন রকমের বিষক্রিয়া হয় না এবং মরে যাওয়ার অথবা অসুস্থ হয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।  (Rahman, 2017)

গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়? 

গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কোনো সমস্যা হবে এমনটা কোনো গবেষণায় দেখা যায় নি।‌ বরং, গর্ভকালীন সময়ে আনারস খাওয়া নিরাপদ হিসেবে মনে করা হয়। (Rahman, 2017)

আনারস খেলে কি বাচ্চা নষ্ট হয়?

আনারস খাওয়ার ফলে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও, যে সমস্ত বাচ্চারা মায়ের বুকের দুধ পান করে তারা আনারস খেতে পারবে।

 

References

Rahman, M. (2017, 02). Food taboo of taking pineapple and milk at a time. Retrieved from Researchgate: https://www.researchgate.net/publication/314079364_Food_taboo_of_taking_pineapple_and_milk_at_a_time
Wartenberg, L. (2022, March 16). Pineapple: 8 Impressive Health Benefits. Retrieved from healthline:
https://www.healthline.com/nutrition/benefits-of-pineapple#TOC_TITLE_HDR_2

Last Updated on December 18, 2023