ভিটামিন কে (Vitamin K) চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন অর্থাৎ এটি চর্বি জাতীয় খাবারের সহায়তায় শরীরে শোষিত হয়। ভিটামিন কে এর কাজ কি তথা মানুষের শরীরে এটি কি কি উপকারিতা বয়ে আনে, এই ভিটামিনের অভাব কাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভাব জনিত লক্ষণ কি কি এবং কোন কোন খাবার থেকে ‘ভিটামিন কে’ পাওয়া যায় সেই বিষয়ে এই অনুচ্ছেদে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। 

ভিটামিন কে এর উপকারিতা

‘ভিটামিন কে’ খুব সামান্য পরিমাণে শরীরের জন্য প্রয়োজন হয় তবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখে। এই ভিটামিনের প্রধান কাজ হলো প্রোথ্রোম্বিন (Prothrombin) নামক বিশেষ একধরনের প্রোটিন উপাদান তৈরি করা যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এছাড়াও অন্যান্য কাজ বা উপকারিতার মধ্যে রয়েছে- 

  • হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে এবং হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়
  • এছাড়াও বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্মৃতি শক্তি ভালো রাখতে অবদান রাখে

ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রোগ 

সাধারণত শরীরে ভিটামিন কে এর অভাব হয় না কারণ এটি চর্বিতে দ্রবণীয় বলে শরীরে সংরক্ষিত থাকে। দ্বিতীয়ত এটি খুব সহজেই খাবার থেকে পাওয়া যায় আবার শরীরের অভ্যন্তরে তৈরি হতে পারে। তবুও ক্ষেত্রে বিশেষে এই‌ ভিটামিনের অভাব দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের লিভার ডিজিজ, প্যানক্রিয়াস এর সমস্যা, অন্ত্রের রোগ ইত্যাদি আছে তাদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দেয়।‌ এছাড়াও কিছু কিছু ঔষধ (Warfarin) সেবন করা এবং দীর্ঘদিন ধরে এন্টি বায়োটিকের ব্যবহারের ফলে ভিটামিন কে এর অভাব হতে পারে। ভিটামিন কে এর অভাব জনিত সমস্যা গুলো হলোঃ 

  • রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হওয়া 
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ 
  • হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি 

শরীরে ভিটামিন কে এর অভাব হয়েছে কিনা তা Prothrombin Time (PT) নামক একটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে জানা যায়। 

ভিটামিন কে জাতীয় খাবার

একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য দৈনিক ১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৯০ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণে ভিটামিন কে প্রয়োজন হয়। একজন গর্ভবতী নারী এবং শিশুকে বুকের দুধ পান করান এমন মায়ের জন্যও ৯০ মাইক্রোগ্রাম যথেষ্ট হবে। ভিটামিন কে এর দুইটি প্রকরণ রয়েছে যার প্রত্যেকটি প্রকরণ আলাদা আলাদা উৎস থেকে পাওয়া যায়। যেমনঃ (Harvard’s T.H. Chan School of Public Health, n.d.)

ভিটামিন কে১ (Phylloquinone): 

মূলত উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া যায়। যেমনঃ

  • সব ধরণের সবুজ শাকসবজি; বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঁধাকপি হলো ভিটামিন কে এর সবচেয়ে ভালো একটি উৎস যা একাধারে সহজলভ্য এবং দামেও বেশ সস্তা। এছাড়াও ব্রকলি, লেটুস, পালংশাক, শালগম, শিম, বরবটি ইত্যাদি থেকে ভিটামিন কে পাওয়া যায়। 
  • গাজর, শশা, পেঁপে, পেয়ারা, বেদানা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি 

ভিটামিন কে২ (Menaquinones)

ভিটামিন কে২ পাওয়া যা প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার থেকে। যেমনঃ মাংস, পনির,‌ ডিম, দই ইত্যাদি। তবে যারা নিরামিষ আহার করেন অর্থাৎ প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করেন না তাদের জন্য চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতিনিয়ত শরীরের মধ্যে ভিটামিন কে১ থেকে ভিটামিন কে২ তৈরি হয়ে থাকে। 

ভিটামিন কে ক্যাপসুল

ভিটামিন কে এর অভাব খুব বিরল ঘটনা। আর তাই অন্য সব ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট (ক্যাপসুল, ট্যাবলেট বা সিরাপ আকারে) বাজারে পাওয়া গেলেও ভিটামিন কে সাপ্লিমেন্ট খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে কারো ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের অভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। 

মনে রাখবেন, খাবার কখনো শরীরে ভিটামিন অতিরিক্ত হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় না তবে সাপ্লিমেন্ট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা হলে তা বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।‌ এছাড়াও, যাদের নিয়মিত কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ এবং রক্ত পাতলা রাখার ঔষধ (যেমনঃ Warfarin) সেবন করতে হয় তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন কে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পূর্বে চিকিৎসককে ঔষধ গ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে জানানো উচিত।‌

References

Harvard’s T.H. Chan School of Public Health. (n.d.). Vitamin K . From Harvard’s T.H. Chan School of Public Health: https://www.hsph.harvard.edu/nutritionsource/vitamin-k/

Last Updated on December 18, 2023