পুরুষত্বহীনতা (Erectile Dysfunction) পুরুষের একটি প্রধান যৌন সমস্যা, যার ফলে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হয় না। দাম্পত্য জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো যৌনতা। আর সুস্থ যৌন জীবনের জন্য পুরুষের যৌন সক্ষমতা একটি অপরিহার্য বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্ব ব্যাপী ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমস্যা বেড়ে চলেছে। আর ধারণা করা হচ্ছে যে ২০২৫ সাল নাগাদ ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ৩২২ মিলিয়ন হতে পারে।


ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ফলে বিষাদময় যৌন জীবন, পুরুষের মনে হীনমন্যতার‌ সৃষ্টি হওয়া, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেখানে আমাদের সমাজে যৌনতা অত্যন্ত গোপনীয় ও লজ্জা জনক একটি বিষয় সেখানে একজন ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি সহায়তা ও সমাধান ব্যতীত অসীম হতাশায় ভেঙে পড়েন।

এই অনুচ্ছেদে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের কারণ, লক্ষণ, জটিলতা, প্রতিকার ও প্রতিরোধ (ওষুধ, খাবার, এক্সারসাইজ, শকওয়েভ থেরাপি, ঘরোয়া  চিকিৎসা ইত্যাদি) বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা একজন পুরুষকে সুস্থ যৌন জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।

Table of Contents

ইরেকটাইল ডিসফাংশন কি? What is erectile dysfunction?

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন পুরুষের লিঙ্গ (Penis) শিথিল অবস্থায় থাকে। যে কোন ধরনের যৌন উদ্দীপক কার্যকলাপের ফলে শারীরিক ভাবে উত্তেজিত হলে তখন লিঙ্গ উত্থান (erection) হয় যা স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। হরমোন ও স্নায়ুবিক উত্তেজনার ফলে লিঙ্গের মধ্যে (corpora cavernosa) রক্ত সঞ্চালনের ফলে লিঙ্গ উত্থান ঘটে থাকে।

কোন কারণ বশত লিঙ্গের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটলে তখন লিঙ্গ যথাযথ ভাবে উত্থান হয় না। এই অবস্থাকে মেডিক্যালের ভাষায় পুরুষত্বহীনতা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction, or ED) বলা হয়।

সাধারণত ৪০ ঊর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যেতে পারে। কখন বুঝতে পারবেন যে আপনি ইরেকটাইল ডিসফাংশন এ আক্রান্ত?
এই সমস্যা বুঝতে হলে লিঙ্গ উত্থান সম্পর্কিত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ১৪ থেকে ১৬ বার লিঙ্গ উত্থান হতে পারে।

তবে কতবার ‌লিঙ্গ উত্থান হলো সেটি মুখ্য বিষয় নয়, বরং যৌন ক্রিয়া সম্পাদন করার মতো যথেষ্ট লিঙ্গ উত্থান হলেই তা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে। মাঝে মাঝে (occasionally) লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে তা ইরেকটাইল ডিসফাংশন বলে বিবেচিত হবে না। উল্লেখ্য দীর্ঘসময় (৪ ঘন্টার‌ বেশি) ধরে যদি লিঙ্গ একটানা উত্থান হয়ে থাকে তবে সেটিও অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে যাকে মেডিকেলের ভাষায় priapism বলা হয়।

 

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকির কারণ কি? (Risk factors of Erectile Dysfunction in Bengali)

জাতি,‌ বর্ণ ও বয়স ভেদে ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যার তারতম্য দেখা যায়। যেমন: সবচেয়ে বেশি পরিমাণে এই সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষ রয়েছে জাপানে আর সবচেয়ে কম রয়েছে ব্রাজিলে। তেমনি ভাবে সাদা বর্ণের মানুষের তুলনায় কালো বর্ণের মানুষের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন হওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে। তবে বর্ণ ও জাতিগত এই তফাতের কারণ এখনো সুস্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তারতম্য দেখা যায় বয়স ভেদে এবং এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কারণও দেখতে পাওয়া যায়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যৌন হরমোন (Testosterone) এর উৎপাদন কমতে থাকে। যার‌ ফলে ৪০-৫০ বছরের পুরুষের ক্ষেত্রে যতটা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সমস্যা হয় ক্রমাগত বেশি বয়সের ক্ষেত্রে আরো বেশি হারে এই সমস্যা দেখা যায়। একবার যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করার কতক্ষণ পর আবার লিঙ্গ উত্থান হবে? এই বিষয়টিও বয়সের উপর নির্ভর করে যাকে refractory period বলা হয়।

বয়স ভেদে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন এমনকি বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ১ সপ্তাহ পর পুনরায় উত্থান হতে পারে।তবে এই বিষয়টি তখন ইরেকটাইল ডিসফাংশন হিসেবে গণ্য হবে না। বরং বার্ধক্যকালীন সমস্যা বলে বিবেচিত হবে।

জন হপকিন্স মেডিসিন (John Hopkins Medicine) এর তথ্য অনুযায়ী আরোও যে সমস্ত বিষয়গুলো (risk factors) ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • ডায়াবেটিস (Type 2 diabetes)
  • উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) ও রক্তনালী সম্পর্কিত সমস্যা
  • রক্তে HDL (ভালো কোলেস্টেরল) এর ঘাটতি কিন্তু LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) এর আধিক্যতা
  • কিডনির সমস্যা অথবা অন্য কোন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • ধুমপান ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি ইত্যাদি

(আরও জানুন- ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণ এবং ডায়াবেটিস কমানোর উপায়!)

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (পুরুষত্বহীনতা) কারণ কি? (Causes of Erectile Dysfunction in Bengali)

 

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (পুরুষত্বহীনতা) কারণ কি

 

পুরুষের যৌন উত্তেজনা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে যার সঙ্গে মস্তিষ্ক, হরমোন, আবেগ, পেশী, রক্তনালী, স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়গুলো জড়িত। সঠিক ভাবে যৌন ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য লিঙ্গ উত্থান হয়ে কমপক্ষে থেকে মিনিট থাকতে হবে। কিন্তু ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ক্ষেত্রে লিঙ্গের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সঞ্চালন হয় না‌। অথবা রক্ত সঞ্চালনের পর তা পুনরায় বেড়িয়ে আসে।‌ আর যার দরুন যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো যথেষ্ট পরিমাণে লিঙ্গ উত্থান হয় না।

এই সমস্যার‌ সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিচে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শারীরিক ও মানসিক কারণ সমূহ তুলে ধরা হলো যা ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পুরুষত্বহীনতা প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য জেনে নেওয়া জরুরি। (Hall, 2021)

১। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর তথ্য অনুযায়ী বিএমআই ইনডেক্স (BMI) এর তুলনায় শরীরের অতিরিক্ত ওজন পুরুষত্বহীনতার (ED) সম্ভাবনাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

২। রক্তসংবহন তন্ত্রের কোন ত্রুটি বা রোগের ফলে লিঙ্গের মধ্যে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে থাকে। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন এর তথ্য অনুযায়ী যাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতা দেখা দেওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে।

৩। নেশা দ্রব্য যেমন অ্যালকোহল, সিগারেট, হেরোইনসহ অন্যান্য প্রায় সকল ধরনের ‌ড্রাগস যৌন সক্ষমতা নষ্ট করে দেয় বিশেষত ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সৃষ্টি করে। ১০০ জন ‌মদ্যপায়ী মানুষের উপর চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে তাদের ‌মধ্যে ৭২ জন মানুষ পুরুষত্বহীনতায় ভুগছেন।

৪। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন এর তথ্য অনুযায়ী কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যা সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে Erectile Dysfunction হতে পারে। এমন কিছু ওষুধ হলো:

  • Antidepressants
  • Antihistamines
  • ব্যথা নাশক ওষুধ
  • উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ
  • পারকিনসন রোগের ওষুধ
  • কেমোথেরাপি (Chemotherapy)

৫। সেক্স হরমোন (testosterone) এর পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলে এই সমস্যা হতে পারে। নানাবিধ কারণে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন হওয়া কমে যেতে পারে।‌ (Kahl, 2020) যেমন:

  • বয়স বেড়ে যাওয়া
  • স্থূলতা (Obesity)
  • অলস জীবন যাপন
  • নিরামিষ আহার করা
  • দূষিত পরিবেশে‌ বসবাস
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করা
  • মানসিক চাপ ও‌‌ বিষন্নতা ইত্যাদি

৬। প্রোস্টেট বেড়ে যাওয়া (Benign prostatic hyperplasia বা BPH) অথবা প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসার ফলে ইরেকটাইল ডিসফাংশ হতে পারে। বিশেষত BPH বা ক্যান্সারের জন্য ‌যে ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে প্রোস্টেট অপসারণ করা হয় সে ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়।

৭। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল (HMS) এর তথ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত বাইসাইকেল চালানোর‌ ফলে যৌনাঙ্গের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আঘাত লাগতে পারে যার দরুন ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও যৌনাঙ্গে অন্য যে কোন ধরনের আঘাতের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।

৮। যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব, অসচেতনতা ও যৌন মিলনের সঠিক পদ্ধতি (sex position) সম্পর্কিত অজ্ঞতার ফলেও পুরুষত্বহীনতার সৃষ্টি হয়।

৯। মানসিক সমস্যা ইরেকটাইল ডিসফাংশন সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।‌ বিশেষত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষন্নতা এক্ষেত্রে প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও যৌন সঙ্গীর প্রতি অনীহা, সঠিক বোঝাপড়ার অভাব ও দূরত্বের ফলেও এমনটি হতে পারে।

পর্নো ভিডিও, হস্তমৈথুন এবং পুরুষত্বহীনতা

পর্নো ভিডিও দেখা অথবা হস্তমৈথুন করার সাথে পুরুষত্বহীনতার কোন যোগসূত্র রয়েছে কি? পর্নো আসক্তির ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নানাবিধ ক্ষতি হতে পারে তন্মধ্যে ইরেকটাইল ডিসফাংশন অন্যতম। ২৮০০০ ইতালীয় পুরুষের (Italian men) উপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে পর্নো ভিডিও দেখেন এমন পুরুষদের যৌন সক্ষমতা কমে যায় এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশন হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। উপরন্তু পর্নো ভিডিও দেখার ফলে স্বাভাবিক যৌন কামনা কমে যায় অথচ বিকৃত যৌন রুচির সৃষ্টি হতে পারে। তাই Porn Video দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত।

পর্নো ভিডিও দেখার সাথে হস্তমৈথুনের সম্পর্ক রয়েছে। Porn Video দেখার ফলে হস্তমৈথুনের ইচ্ছা হতে পারে। তবে পর্নো ভিডিও দেখা ছাড়াও উত্তেজনা (sexual excitement) বশত হস্তমৈথুনের ইচ্ছা জাগ্রত হতে পারে। হস্তমৈথুন করা কি স্বাভাবিক? এর সঙ্গে পুরুষত্বহীনতার কোন সম্পর্ক রয়েছে কি? গবেষণায় হস্তমৈথুনের কোন ক্ষতিকারিতা পরিলক্ষিত হয় নি। বরং এটিকে নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তবে অত্যাধিক পরিমাণে হস্তমৈথুন করলে লিঙ্গ আঘাত প্রাপ্ত হয়। যার দরুন ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মত গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের লক্ষণগুলি কি? (Symptoms of Erectile Dysfunction in Bengali)

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH) এর তথ্য অনুযায়ী ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ক্ষেত্রে নিচের তিনটি লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন:

১। কদাচিৎ লিঙ্গ উত্থান ঘটে কিন্তু যৌন ক্রিয়া করার ইচ্ছা হলে সেই সময়ে লিঙ্গ উত্থান না হওয়া।

২। লিঙ্গ উত্থান ঘটে কিন্তু তা যৌন ক্রিয়া করার মতো যথেষ্ট নয় অর্থাৎ লিঙ্গ যোনি গর্তে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় না।

৩। কখনোই লিঙ্গ উত্থান ঘটে না।

এই লক্ষণগুলো একটানা ৩ মাসের বেশি সময় ধরে হতে থাকলে তখন তা ইরেকটাইল ডিসফাংশন বলে বিবেচিত হবে। তবে এর চেয়ে কম সময় ধরে অথবা কদাচিৎ লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা হলে তা‌তে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাময়িক অসুস্থতা,‌ বিশেষ কিছু ওষুধ সেবন অথবা পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী এমনটি মাঝে মধ্যে হতে পারে। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ক্ষেত্রে সাধারণত লিঙ্গ উত্থান ব্যতীত অন্য কোন শারীরিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে রোগীর মধ্যে কিছু মানসিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে।‌ যেমন:

  • হীনমন্যতায় ভোগা
  • মানসিক অস্থিরতা দেখা যায়
  • একা থাকতে পছন্দ করে অর্থাৎ মানুষের ‌সঙ্গ এড়িয়ে যেতে চায়
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা (performance anxiety)
  • নিজেকে দোষী মনে করা (guilty feeling)

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (পুরুষত্বহীনতা) কত প্রকার? (Types of Erectile Dysfunction in Bengali)

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সাথে সম্পর্কিত আরো কিছু যৌন সমস্যা রয়েছে যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। নিচে এমন কিছু সমস্যার কথা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

ক ) ইচ্ছার অভাব: মানসিক সমস্যা বা স্ত্রীর সাথে দূরত্ব অথবা যৌনতা বিষয়ক অজ্ঞতা থেকে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো যথেষ্ট ইচ্ছা জাগ্রত হয় না (Lack of desire) যা একধরনের যৌন সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। এই সমস্যার সাথে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে কারণ ইচ্ছার অভাব থাকলে সেক্ষেত্রে কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা ব্যতিরেকেই লিঙ্গ উত্থানে বিঘ্ন ঘটে থাকে।

খ )দ্রুত বীর্যপাত: যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এর তথ্য অনুযায়ী বীর্যপাতের গড় সময় কাল ৫ মিনিট। তিন‌ (৩) মিনিটের কম সময়ে বীর্যপাত হলে তা দ্রুত বীর্যপাত (premature ejaculation) হিসেবে গণ্য হবে। যৌন ক্রিয়ার আদর্শ সময়কাল ৭ থেকে ১৩ মিনিট অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বীর্যপাত হলে তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে।

গ ) অর্গাজম না হওয়া: লিঙ্গের গঠনগত ত্রুটি, রক্তনালীতে বাধা অথবা পর্যাপ্ত উত্তেজনার‌ অভাবে এই সমস্যা হতে পারে। যার ফলে যৌন ক্রিয়া সুখকর মনে হয় না। বীর্যপাতের ক্ষেত্রে অনেক বিলম্ব (৩০ মিনিটের বেশি) হয় যা অস্বাভাবিক এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বীর্যপাত নাও হতে পারে। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ দ্রুত বীর্যপাতের তুলনায় বীর্যপাত না হওয়া অধিক জটিলতর সমস্যা।

ঘ)Retrograde ejaculation: অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যৌন ক্রিয়ায় অর্গাজম হয় কিন্তু বীর্যপাত হয় না। এমনটি ঘটে থাকে যখন বীর্যপাত না হয়ে বরং বীর্য (semen) উল্টো পথে ব্লাডারের দিকে চলে যায়। স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট গ্রন্থির সার্জারি ইত্যাদির কারণে এই সমস্যা হতে পারে।

ঙ) ব্যথা: যৌন ক্রিয়ার সময় অস্বাভাবিক ব্যথা বোধ হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে যে সমস্ত কারণে যৌন ক্রিয়ায় ব্যথা বোধ হতে পারে তা হলো

  • Peyronie’s disease
  • যৌন ‌রোগ (Sexually transmitted diseases বা STDs) যেমন সিফিলিস ও গনোরিয়া
  • লিঙ্গের অস্বাভাবিক বক্রতা
  • Foreskin Problems ইত্যাদি

ইরেকটাইল ডিসফাংশন নির্ণয় কিভাবে করে? (Diagnosis of Erectile Dysfunction in Bengali)

তিন‌‌ মাস‌ বা তার বেশি সময় ধরে একটানা লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যায় ভুগলে একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা হরমোনের ডাক্তার (Endocrinologist) দেখাতে হবে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। রোগের ইতিহাস ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে ইরেকটাইল ডিসফাংশন নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক যে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন তা হলো-

  • ব্লাড প্রেসার চেক করা
  • অন্ডকোষ ও প্রস্টেট পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG of penile shaft)
  • Nocturnal penile tumescence (NPT) test
  • রক্তে গ্লুকোজ, থাইরয়েড ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ নির্ণয় করা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine R/E)
  • Injection test ইত্যাদি

যেহেতু ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর মানসিক সমস্যা রয়েছে কি না তা জানা জরুরি। বিশেষত যৌন ক্রিয়ায় অনীহা, যৌন সঙ্গীর প্রতি উদাসীনতা, ক্ষোভ, ঘৃণা, রাগ ইত্যাদির কারণে এই সমস্যা হতে পারে। মানসিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রোগীকে নানাবিধ প্রশ্ন করতে পারেন। রোগীকে এই ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর হতে হবে অর্থাৎ কোন কিছু গোপন করা যাবে না বরং চিকিৎসকের কাছে রোগের ইতিহাস অকপটে বলে দিতে হবে।

বিশেষত অনেক সময় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে কোন শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে না সেক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার কারণেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে রোগের প্রতিকার তথা চিকিৎসার জন্য রোগ নির্ণয় (Diagnosis) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আর একমাত্র রোগীর সহযোগিতা পেলেই চিকিৎসক সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (নপুংসকতা) এর জটিলতা কি? (Complications of Erectile Dysfunction in Bengali)

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটায়। যার ফলে যে সমস্ত জটিলতা হতে পারে তা হলো

  • দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয় কারণ একজন স্ত্রী স্বভাবতই তার স্বামীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তার যৌন চাহিদা পূরণ করতে চায়। কিন্তু ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যায় আক্রান্ত স্বামী তার স্ত্রীর সাথে যৌন ক্রিয়া করতে সক্ষম হয় না। অনেক সময় এই সমস্যার দরুন বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে।
  • পুরুষের যৌন সক্ষমতা যেমন তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় তেমনি অক্ষমতার ফলে মনের মধ্যে অশান্তি, বিষাদ ও হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়।
  • পুরুষত্বহীনতার ফলে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয় না। যার দরুন বংশগতির ধারা বিঘ্নিত হয়।

সর্বোপরি ইরেকটাইল ডিসফাংশন একটি জটিল সমস্যা বলে বিবেচিত কারণ এই সমস্যার দরুন স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে আশার কথা হলো এই যে ইরেকটাইল ডিসফাংশন সমস্যার চিকিৎসা বা প্রতিকার রয়েছে। এমনকি সচেতনতা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে ইহা প্রতিরোধ করাও সম্ভবপর হয়ে থাকে।

Treatment of Erectile Dysfunction

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য চিকিৎসা কি? (Treatment of Erectile Dysfunction in Bengali)

রোগের কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় তারতম্য রয়েছে। শারীরিক ও মানসিক কারণ ভেদে ওষুধ, শল্যচিকিৎসা ও কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত ও বিজ্ঞান সম্মত যে সমস্ত ব্যবস্থা এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। (Biggers, 2019)

  • ওষুধ :চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ওষুধ সমূহ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন:
  1. avanafil (Stendra)
  2. sildenafil (Viagra)
  3. tadalafil (Cialis)
  4. vardenafil (Levitra, Staxyn)
  5. Alprostadil (Caverject, Edex, MUSE)

মুখে সেবনের এই ওষুধ গুলো লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পুরুষত্বহীনতা দূর করে থাকে। তবে এই ওষুধ গুলোর কিছু ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে (যেমন: মাথাব্যথা, ঝিমুনি ভাব, দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া, ওষুধের প্রতি নির্ভরশীলতা ইত্যাদি) আর তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্ত ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

  • Testosterone Therapy (TRT): পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন যা কমে গেলে পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়। এই সমস্যা প্রতিকারে টেস্টোস্টেরন থেরাপি (TRT) কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। মুখে ওষুধ সেবন অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে TRT গ্রহণ করা যায় তবে অবশ্যই তা হতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। কেননা যথাযথ মাত্রায় TRT গ্রহণ করা না ‌হলে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন: বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক, হাত পা ফুলে যাওয়া, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া ইত্যাদি।

 

  • Vacuum pumps: এটি একধরনের প্লাষ্টিকের যন্ত্র যা লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। এবং লিঙ্গ থেকে পুনরায় রক্ত ফিরে আসতে বাধা প্রদান করে যার ফলে লিঙ্গ উত্থান হয়ে থাকে। চিকিৎসকের নির্দেশনা অথবা ব্যবহারের নির্দেশিকা অনুযায়ী যথাযথ নিয়ম মেনে এটি ব্যবহার করা উচিত। একটানা ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে এটি ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ তাতে যৌনাঙ্গের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

  • কাউন্সেলিং: মানসিক সমস্যার দরুন সৃষ্ট ইরেকটাইল ডিসফাংশন প্রতিকারে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিং কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও যৌনতা বিষয়ক সঠিক পরামর্শ, যৌন আসন (sex position) ও কৌশল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান এই সমস্যার প্রতিকার হতে পারে।

 

  • ব্যায়াম ও খাদ্য: ব্যায়ামের ফলে যৌনাঙ্গের পার্শ্ববর্তী (পেলভিক ফ্লোর) অঞ্চলের পেশী ও রক্তনালীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উপরন্তু ব্যায়ামের ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায়। অপরদিকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সমস্যা প্রতিকারে সহায়তা করে। কোন কোন খাবার গুলো গ্রহণ করা পুরুষত্বহীনতা দূর করতে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে সেই বিষয়ে এই অনুচ্ছেদের শেষের দিকে আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যৌন সমস্যা সমাধানে প্রচলিত অনেক চিকিৎসা পদ্ধতি (হারবাল, কবিরাজি, হেকিমি ইত্যাদি) রয়েছে যার অধিকাংশই বিজ্ঞান সম্মত নয়। নানাবিধ চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা অনেক সময় মানুষকে আকৃষ্ট করে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে পারে। এই সব অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয় কারণ তাতে যৌন স্বাস্থ্য মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইডির (ED) প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়া উচিত পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ

ইডির (ED বা erectile dysfunction) সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও কার্যকরী উপায় হলো পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ। এই ব্যায়ামের মাধ্যমে পেলভিক অঞ্চলের পেশী সমূহ, রক্তনালী ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। পেলভিক অঞ্চলের পেশী সমূহের ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এই ব্যায়াম করতে হয়। ছবিতে দেখা নিয়ম অনুযায়ী হাঁটু ভাঁজ করা এবং পুনরায় সোজা করার মাধ্যমে এই ব্যায়াম করা যায়।‌ এছাড়াও চিৎ হয়ে শুয়ে দুই পা ক্রমাগত চাপানো (Flexion) এবং ছড়ানোর (Extension) মাধ্যমে এই ব্যায়াম করা যেতে পারে।

পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ ব্যতীত আরো যে সমস্ত ব্যায়াম ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে তা হলো হাঁটা, দৌড়ানো, দড়ি লাফানো (skipping rope), সাঁতার, ইয়োগা (Yoga) ইত্যাদি। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে দৈনিক ৩০ মিনিট করে হাঁটার (walking) ফলে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমে যায়।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের বৈপ্লবিক চিকিৎসা শকওয়েভ থেরাপি

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর তথ্য অনুযায়ী ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় শকওয়েভ থেরাপি (Shockwave therapy) বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে শকওয়েভ থেরাপির ফলে যৌনাঙ্গের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। কখন ব্যবহৃত হয় শকওয়েভ থেরাপি?

যখন প্রাথমিক স্তরের চিকিৎসা যেমন মুখে ওষুধ সেবন, কাউন্সেলিং এবং জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের দ্বারা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রতিকার না হয় তখন একজন যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী এই থেরাপি নেওয়া যেতে পারে।

এটি একটি লম্বা লাঠি সদৃশ যন্ত্র বিশেষ যা বাহ্যিক ভাবে লিঙ্গের সংস্পর্শে নেওয়া হয়। একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে লিঙ্গের বিভিন্ন স্থানে যন্ত্র দ্বারা ছুঁয়ে থাকেন।

এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের ফলে লিঙ্গ রক্ত সঞ্চালন জনিত সমস্যা দূরীভূত হয়। এটি সম্পূর্ণ ব্যথাহীন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা সপ্তাহে ২ দিন করে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী ৩ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার পুনরাবৃত্তি করতে হবে অর্থাৎ ২ দিন করে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে হবে। একবার চিকিৎসা গ্রহণের পর ইহার কার্যকারিতা ১ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই দীর্ঘদিন ধরে এই চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত নয়।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর ঘরোয়া চিকিৎসা

ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর ঘরোয়া চিকিৎসা

চিকিৎসার তুলনায় ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা বেশি লাভজনক কারণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। উপরন্তু তা সহজেই পাওয়া যায় এবং অর্থ ও সময় সাশ্রয়ী। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ইরেকটাইল ডিসফাংশন প্রতিকারের জন্য করণীয় বিষয়াবলী নিম্নরূপ:

  • কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা যৌন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
    এমন খাবার পরিহার করতে হবে। যেমন: চর্বি, লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।
  • এমন কিছু খাবার রয়েছে যা যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই সমস্ত খাবার বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত। যেমন: পালং শাক, কফি, আপেল, তরমুজ, অ্যাভোকাডো, গাজর, টমেটো ইত্যাদি।
  • এছাড়াও ভেষজ গুণ সম্পন্ন কিছু প্রাকৃতিক খাবার উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন: মধু, অলিভ অয়েল, আদা, পেঁয়াজ ইত্যাদি।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (পুরুষত্বহীনতা) কিভাবে প্রতিরোধ করবেন? (How to prevent Erectile Dysfunction in Bengali)

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেমন পুরুষত্বহীনতার (ED) সম্ভাবনা বেড়ে যায় তেমনি অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। নিচে এমন কিছু নির্দেশনা দেয়া হলো যা ইরেকটাইল ডিসফাংশন প্রতিরোধ করতে তথা একজন পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

  • গবেষণায় দেখা গেছে যে সমস্ত খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় সে সমস্ত খাবার গুলো ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।
    তাই এমন খাবার (চর্বি ও প্রক্রিয়া জাত খাবার) পরিহার করতে হবে।
  • অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে পুরুষত্বহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
  • ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রফেসর ইরা শার্লিপ (Ira Sharlip, MD) বলেছেন, অল্প মাত্রায় অ্যালকোহল পান করলে তা পুরুষত্বহীনতার সৃষ্টি করে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে অধিক মাত্রায় অ্যালকোহল পান করা যাবে না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে
  • ধুমপান বর্জন করতে হবে
  • স্টেরয়েড (Steroids) জাতীয় ঔষধ পরিহার করতে হবে
  • অহেতুক মানসিক চাপ ও‌‌ দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে

ইরেকটাইল ডিসফাংশন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা যে কোন পুরুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে এর জন্য বিচলিত হওয়া যাবে না। যথাযথ কারণ নির্ণয় পূর্বক উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা এবং লজ্জা দূর করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। আসুন আমরা অহেতুক লজ্জা থেকে উত্তরণ হয়ে যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে সচেতন হই।

 

 

References

Biggers, A. (2019, December 23). Everything You Need to Know About Erectile Dysfunction (ED). Retrieved from Healthline: healthline.com/health/erectile-dysfunction

Freeman, D. (2013, October 18). Protect Your Erection: 11 Tips.Retrieved from WebM:  webmd.com/erectile-dysfunction/features/protect-your-erection-11-tips

Hall, K. (2021, September 13). What Causes Erectile Dysfunction and What Can You Do About It? Retrieved from Forhims: forhims.com/blog/what-causes-erectile-dysfunction-and-what-can-you-do-about-it

Krane, R. J. (1999, july). The likely worldwide increase in erectile dysfunction between 1995 and 2025 and some possible policy consequences. Retrieved from NIH: https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/10444124/

Roland, J. (2020, March 09). Shockwave Therapy for Erectile Dysfunction: Does It Work? Retrieved from Healthline: healthline.com/health/shockwave-therapy-for-ed

Last Updated on May 12, 2022

Was this article helpful?
YesNo