মানুষের গলার সামনের দিকে প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড (Thyroid gland) নামক ছোট্ট একটি গ্রন্থি রয়েছে যা থেকে ট্রায়োডোথাইরোনিন (Triiodothyronine, T3) এবং থাইরক্সিন (Thyroxin, T4) হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। এই হরমোনদ্বয় মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ ও বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) সহ শরীরের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

থাইরয়েড গ্রন্থির সবচেয়ে কমন সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)  যার ফলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ব্যঘাত ঘটে থাকে। এই রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতা।

এই অনুচ্ছেদে হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণ, লক্ষণ, ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও হাইপোথাইরয়েডিজমের সাথে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া সহ বিষন্নতা (Depression) এবং প্রেগন্যান্সির (Pregnancy) কি সম্পর্ক রয়েছে সেই বিষয় গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও থাকছে হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর খাদ্য তালিকা এবং প্রতিরোধের কিছু কার্যকরী টিপস।

Table of Contents

হাইপোথাইরয়েডিজম কি? What is Hypothyroidism?

হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) হলো একটি মেডিকেল টার্ম যেখানে Hypo শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয় “কম” এবং Thyroidism এর অর্থ হলো থাইরয়েডের কার্যক্রম। অর্থাৎ কোনো কারণ বশত থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম কমে যাওয়া তথা ট্রায়োডোথাইরোনিন (T3) ও থাইরক্সিন (T4) হরমোন নিঃসরণ কমে গেলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।

হাইপোথাইরয়েডিজমকে অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune disease) বলা হয় যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিকতার দরুন হয়ে থাকে। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিক আচরণের ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষ থেকে যথাযথ ভাবে হরমোন নিঃসরণ হতে পারে না। আর তখন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যঘাত ঘটে এবং নানাবিধ অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়।

থাইরয়েড ঘাটতির সমস্যা কতটা কমন?

বর্তমান সময়ে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি তথা হাইপোথাইরয়েডিজম একটি কমন সমস্যা। বৃটিশ মেডিকেল বুলেটিনের এক তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের বেশি মানুষের ক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি তথা Hypothyroidism এর সমস্যা দেখা যায়। সেই সাথে চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য হলো এই যে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুণ বেশি। (Raman, 2021) 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH of US) এর তথ্য অনুযায়ী আমেরিকাতে ১২ বছরের উর্ধ্বের মোট জনসংখ্যার ৪.৬ শতাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই রোগ হতে দেখা যায়। (Holland, 2020) আমেরিকার মতো আমাদের দেশেও হরমোন জনিত রোগ হিসেবে ডায়াবেটিসের পরেই রয়েছে থাইরয়েডের সমস্যা বা হাইপোথাইরয়েডিজম।

বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি হারে হতে দেখা যায়। বাংলাদেশে একটি বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের মধ্যকার যারা টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আরেকটি জটিল সমস্যা হলো হাইপোগ্লাইসেমিয়া যে ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

থাইরয়েড রোগের প্রকার কী? Types of Thyroid Disorders

হাইপোথাইরয়েডিজম ছাড়াও থাইরয়েডের আরো নানাবিধ সমস্যা (Thyroid disorders) হতে পারে। যেমনঃ

হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism): কোনো কারণ বশত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ হতে থাকলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

থাইরয়েডের এই সমস্যাটি তুলনামূলক ভাবে কম হারে হতে দেখা যায়। এই রোগের ক্ষেত্রে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া অথচ শরীরের ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম এর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে যা নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো।

হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)
থাইরয়েডের কার্যক্রম তথা হরমোন নিঃসরণ কমে যায় থাইরয়েডের কার্যক্রম তথা হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়
তুলনামূলক অধিক হারে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে হাইপোথাইরয়েডিজমের তুলনায় হাইপারথাইরয়েডিজম কম হারে হতে দেখা যায়
প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী হলো Hashimoto’s diseases প্রধান কারণ হলো Graves’ disease
সাধারণত শরীরের ওজন বেড়ে যায় শরীরের ওজন কমে যায়
রক্তে TSH (Thyroid stimulating hormone) এর পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু T4 এর মাত্রা কম থাকে রক্তে TSH এর মাত্রা কম থাকে এবং T4 এর মাত্রা বেশি থাকে

 

গলগণ্ড (Goiter): সাধারণত আয়োডিনের (Iodine) অভাবে এই রোগটি হয়ে থাকে যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলায় বড় টিউমারের মতো দেখা যায়। আগেকার দিনে গলগণ্ড রোগটি অনেক বেশি হারে হতে দেখা যেতো তবে বর্তমানে এই রোগের প্রকোপ অনেক কম।

থাইরয়েড ক্যান্সার (Thyroid cancer): শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো থাইরয়েড গ্রন্থিতেও ক্যান্সারের সংক্রমণ হতে পারে তবে তা খুবই বিরল। প্রাথমিক অবস্থায় গলায় সামান্য ফোলাভাব, দীর্ঘদিন যাবত গলার স্বর বসে যাওয়া, খাবার গিলতে কষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

থাইরয়েড রোগের কারণ কী? Causes of Thyroid Disorders

থাইরয়েডের রোগের (Thyroid disorders) ক্ষেত্রে যেমন ভিন্নতা দেখা যায় তেমনি ভাবে রোগ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কারণও রয়েছে। যেমনঃ

হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণ হিসেবে দায়ী বিষয়গুলো হলোঃ

  • Graves’ disease নামক একপ্রকার রোগ যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করতে উদ্দীপনা জোগায়
  • থাইরয়েডের গ্রন্থির টিউমার যেখান থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন (T4) নিঃসরণ হয়
  • Thyroiditis বা থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ ইত্যাদি

গলগণ্ড রোগের অন্যতম কারণ হলো আয়োডিনের অভাব। এছাড়াও অন্যান্য কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে Hashimoto’s disease, Graves’ disease, Thyroid nodules, থাইরয়েডের প্রদাহ ইত্যাদি।

থাইরয়েড ক্যান্সারের কারণ হিসেবে দায়ী হলো বংশগত থাইরয়েড ক্যান্সারের ইতিহাস,‌ রেডিয়েশন (Radiation), অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা (Obesity) ইত্যাদি।

হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগণ্ড ও থাইরয়েড ক্যান্সারের মতো হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু কারণ রয়েছে যা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

Hypothyroidism কেন হয়?

হাইপোথাইরয়েডিজম কেন হয় এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যে সমস্ত বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো Hashimoto’s diseases নামক রোগটি। এই রোগের প্রধান আক্রমণের স্থান হলো থাইরয়েড গ্রন্থি আর যার ফলে এই গ্রন্থিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ (Inflammation) হয়। এমতাবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। হাইপোথাইরয়েডিজমের আরো অন্যান্য কারণ গুলো হলোঃ

Pituitary disorder: মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে TSH- thyroid stimulating hormone নামক একধরনের হরমোন নিঃসরণ হয় যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পিটুইটারি গ্রন্থির কোনো রোগ বা টিউমারের ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণ কমে যায়।

আয়োডিনের (Iodine) অভাব: খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো আয়োডিন যা শরীরের জন্য খুবই সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়ে থাকে। খাদ্যে আয়োডিনের অভাব থাকলে তা যেমন গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করতে পারে তেমনি ভাবে আয়োডিনের অভাব জনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজমও হতে পারে।

হাইপারথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা: কারো হাইপারথাইরয়েডিজম হলে তখন চিকিৎসা হিসেবে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম তথা হরমোন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করা হয়। কখনো কখনো এই চিকিৎসার মাধ্যমে হরমোন নিঃসরণের মাত্রা এতটাই কমে যায় যে তা পরবর্তীতে হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

থাইরয়েড গ্রন্থি অপসারণ: থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো রোগ বিশেষত থাইরয়েডের টিউমার বা ক্যান্সারের হলে সেক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার (Surgery) মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থির কিছু অংশ বা কখনো কখনো পুরো থাইরয়েড গ্রন্থিটি অপসারণ করা হয়। এমতাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণ কমে যায়।

রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation therapy): থাইরয়েডের টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার পরে অথবা শল্যচিকিৎসার বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে রেডিয়েশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে যা হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মানসিক রোগ, ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ রয়েছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। যেমনঃ

  • lithium
  • mitotane (Lysodren)
  • interleukin-2 (IL-2)
  • amiodarone (Pacerone)

উল্লেখ্য, নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে অনেকেই জন্মগত ভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির ত্রুটি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। আবার অনেক শিশুর ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়াও জন্মগ্রহণ করতে দেখা যায় যা শিশুদের হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়ার প্রধান কারণ।

Hypothyroidism এর রিস্ক ফেক্টরগুলো কি কি?

যে কোনো বয়স ও মানুষের ক্ষেত্রেই হাইপোথাইরয়েডিজম রোগটি হতে পারে। তবে কিছু কিছু বিষয়কে এই‌ রোগের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমনঃ

  • পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশেষত গর্ভাবস্থায় এবং গর্ভকালীন সময়ের পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত অধিক সম্ভাবনা দেখা যায়
  • ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ
  • থাইরয়েড রোগের পারিবারিক ইতিহাস
  • টাইপ-১ ডায়াবেটিসের রোগী

Hypothyroidism এর লক্ষণ কি?

হাইপোথাইরয়েডিজম এর ক্ষেত্রে হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ ও রোগীর বয়স অনুযায়ী লক্ষণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে রোগের একদম প্রারম্ভিক অবস্থায় অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ ও শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সময়ের সাথে সাথে পরবর্তীতে নিম্নলিখিত লক্ষণ সমূহ দেখা যায়। যেমনঃ

  • খুব সহজেই ঠান্ডা লাগা
  • ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে যায়
  • চোখ ও মুখের ফোলাভাব
  • কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
  • গলার স্বর বসে যায়
  • শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া অথবা চুল পড়া (Hair falling)
  • ঘুমের সমস্যা দেখা যায়
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক বা অতিরিক্ত মাসিক হয়
  • স্মৃতি শক্তি কমে যায়
  • বিষন্নতা (Depression)

এছাড়াও ক্ষেত্র বিশেষে থাইরয়েড গ্রন্থি বেড়ে যাওয়ার (Enlarged thyroid gland) দরুন গলায় সামান্য ফোলাভাব দেখা যায়।

Hypothyroidism এর লক্ষণ কি (নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে)?

তবে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত লক্ষণ গুলো দেখা যায় না। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে যে ধরনের লক্ষণ দেখা যায় তা হলোঃ (Mayo Clinic, 2020)

  • ত্বকে হলদে ভাব। (Jaundice)
  • জিহ্বা বড় মনে হয় বা মুখের বাইরে বেরিয়ে থাকে।
  • শ্বাসকষ্ট। (Difficulty breathing)
  • নাভিতে হার্ণিয়া। (Umbilical hernia)
  • অতিরিক্ত ঘুমানো।
  • শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
  • দেরিতে দাঁত উঠে।
  • মানসিক বিকাশে বাধা ইত্যাদি।

Hypothyroidism কিভাবে ডায়াগনোসিস করা হয়?

লক্ষণ দেখে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) হয়েছে বলে মনে হলে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অথবা হরমোনের ডাক্তার (Endocrinologist) দেখাতে হবে। চিকিৎসক প্রাথমিক ভাবে শারীরিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গলায় কোনো অস্বাভাবিক ফোলাভাব আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। অতঃপর নিশ্চিত ভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য কতিপয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

Hypothyroidism ডায়াগনোসিসের জন্য সর্বপ্রথম যে পরীক্ষাটি করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে তার নাম হলো TSH টেস্ট যা সম্পন্ন করার জন্য নমুনা হিসেবে রক্ত (Blood) সংগ্রহ করা হয়। অতঃপর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় যে রক্তে কি পরিমাণে TSH হরমোন রয়েছে। সুস্থ ব্যক্তির রক্তে TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা হলো ০.৪ থেকে ৪ মিলি ইউনিট পার লিটার (0.4 to 4 mU/L)

রক্তে TSH এর মাত্রা ৪ মিলি ইউনিট পার লিটারের (>4 mU/L) বেশি থাকলে বুঝতে হবে যে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম কমে গেছে। আর তাই থাইরয়েডের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে প্রতিনিয়ত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে TSH হরমোন নিঃসরণ হচ্ছে। তবে TSH এর পাশাপাশি T4 পরীক্ষার মাধ্যমে একদম নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রকৃতপক্ষে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়েছে কিনা।

Hypothyroidism কিভাবে ডায়াগনোসিস করা হয়

T4 পরীক্ষা: T4 বলতে থাইরক্সিন (Thyroxine) হরমোনকে বোঝানো হয়ে থাকে। এই পরীক্ষার নমুনা হিসেবে রক্ত সংগ্রহ করে রক্তে কি পরিমাণে Thyroxine বা T4 হরমোন রয়েছে তা নির্ণয় করা হয়। রক্তে T4 এর স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৫ থেকে ১১ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটার (5.0 – 11.0 ug/dL- micrograms per deciliter)

রক্তে T4 এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং সেই সাথে TSH এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হলে তখন হাইপোথাইরয়েডিজম হয়েছে বলে ধরা হয়।

T3 test: সাধারণত হাইপোথাইরয়েডিজম নির্ণয়ের জন্য T3 test বা রক্তে কি পরিমাণে T3- Triiodothyronine হরমোন রয়েছে তা জানার প্রয়োজন হয়‌ না। তবে ক্ষেত্র বিশেষে চিকিৎসকরা থাইরয়েডের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এই পরীক্ষাটি করার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। রক্তে T3 এর স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১০০ থেকে ২০০ ন্যানো গ্রাম পার ডেসিলিটার (100 to 200 ng/dL – nanograms per deciliter)

উল্লেখ্য, হাইপারথাইরয়েডিজম নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও TSH এবং T4 টেস্ট করানো হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজমের ঠিক উল্টো ফলাফল দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ রক্তে TSH এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে এবং T4 এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে।

Hypothyroidism এর অলটারনেটিভ চিকিৎসা

Hypothyroidism এর বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশে রয়েছে হোমিওপ্যাথি। এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি যা একইসাথে সহজলভ্য এবং থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিকারে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। হাইপোথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসায় কারণ ও লক্ষণ অনুযায়ী নিম্নলিখিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সমূহ নির্দেশিত হয়ে থাকে।

  • Iodine 2c
  • Thyroidinum 3x
  • Natrum Muriaticum
  • Kali Carbonicum
  • Calcarea Carbonica
  • Calcaria Iodum
  • Thuja Occidentalis etc.

উপরে উল্লেখিত ওষুধগুলো অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে।

Hypothyroidism এর ওষুধ

পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে হাইপোথাইরয়েডিজম নিশ্চিত ভাবে নির্ণয় করা হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। এই রোগের চিকিৎসার জন্য সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এবং এই রোগের চিকিৎসা খুব বেশি ব্যয়বহুল নয় তবে অনেকের ক্ষেত্রেই সারাজীবন ব্যাপী ওষুধ সেবন করতে হয়।

Hypothyroidism এর ক্ষেত্রে শরীরে হরমোনের ঘাটতি পূরণ করতে এবং রোগ লক্ষণের উপশমের জন্য সর্বাধিক কার্যকরী ওষুধ হলো Levothyroxine যা বাজারে Thyrox, Levoxyl, Synthroid, Thormon ইত্যাদি নামে কিনতে পাওয়া যায়।

Levothyroxine ওষুধটি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল এবং ইনজেকশন ফর্মে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সকল অবস্থায় চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

এছাড়াও যে সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আয়োডিনের অভাব জনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম এর সৃষ্টি হয়ে থাকে তাদের জন্য কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট (Iodine supplements) গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সাপ্লিমেন্ট ব্যতীত আয়োডিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেও আয়োডিনের অভাব পূরণ করা যেতে পারে।

Hypothyroidism রোগীদের খাবার তালিকা

Hypothyroidism রোগীদের খাবার তালিকা

Hypothyroidism এর রোগীর জন্য বিশেষ খাদ্য তালিকা মেনে চলা উচিত। কারণ কতিপয় খাবার রয়েছে যা হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে আবার তেমনি ভাবে কতিপয় খাবার উপকারী ভূমিকা পালন করে। যেমনঃ (Raman, 2021)

  • আয়োডিনের অভাব থাকলে আয়োডিন সমৃদ্ধ লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুধ ও ডিম খেতে হবে
  • সেলেনিয়াম (Selenium) থাইরয়েডের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আর তাই সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন টুনা ফিশ, শিমের বিচি, দুধ, সামুদ্রিক মাছ (sardines) ইত্যাদি খেতে হবে
  • সেলেনিয়ামের মতো জিংক (Zinc) থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে

কোন ধরনের খাবার থেকে জিংক পাওয়া যায় তা জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

  • Goitrogens নামক উপাদান রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। Goitrogens হলো এমন একধরনের উপাদান যা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত করে। Goitrogens রয়েছে এমন খাবার হিসেবে চিহ্নিত হলো সয়াবিন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, মিষ্টি আলু, স্ট্রবেরি, চীনাবাদাম ইত্যাদি। তবে এই খাবার গুলো খুব ভালো ভাবে রান্না করলে Goitrogens ধর্ম নষ্ট হয়ে যায়। আর তাই রান্না করে খাওয়া যেতে পারে
  • অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করা উচিত
  • কফি, গ্রিন টি, এলকোহল ইত্যাদি থাইরয়েড গ্রন্থির জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আর তাই এই পানীয় গুলো কম খাওয়া উচিত

Hypothyroidism এর জটিলতা কি?

Hypothyroidism এর যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে তা পরবর্তীতে আরো জটিলতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যেমনঃ (Mayo Clinic, 2020)

গলগণ্ড (Goiter): বর্তমান সময়ে গলগণ্ড রোগ খুব একটা দেখা যায় না তবে দীর্ঘদিন যাবত হাইপোথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে তা থেকে গলগণ্ড রোগের উৎপত্তি হতে পারে।

হার্টের সমস্যা: Hypothyroidism এর সাথে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL- low density lipoprotein) বেড়ে যাওয়ার একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। আর রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে কোলেস্টেরলের উপস্থিতি হার্টের রোগ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ায়।

মানসিক সমস্যা: মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষত তীব্র মাত্রার ডিপ্রেশন বা বিষন্নতার সৃষ্টি হয়ে থাকে।

নার্ভের সমস্যা (Peripheral neuropathy): নার্ভ বা স্নায়ু শরীর থেকে মস্তিষ্কে সংকেত বহন করে এবং মস্তিষ্কের নির্দেশনা শরীরের মাংসপেশীতে পৌঁছে দেয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের ফলে নার্ভের সমস্যা হতে পারে যার দরুন হাত ও পায়ে অসাড়তা বোধ (numbness) হয়।  

ইনফার্টিলি (Infertility): যৌন স্বাস্থ্য এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতার সাথে থাইরয়েড হরমোনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতির ফলে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া সহ সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়।

Myxedema: দীর্ঘদিন যাবত হাইপোথাইরয়েডিজম এর সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করা না‌ হলে সেক্ষেত্রে প্রাণঘাতী এই জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেখানে রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

Hypothyroidism এবং ডিপ্রেশান এর মধ্যে সম্পর্ক কি?

গবেষণায় দেখা গেছে যে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশানে (Depression) ভোগার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ মানুষের মস্তিষ্কের উপর থাইরয়েড হরমোনের বিশেষ ক্রিয়া রয়েছে আর তাই থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ কমে গেলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। (Holland, 2020)

তাই ডিপ্রেশান বা বিষন্নতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রায়ই থাইরয়েডের পরীক্ষা (TSH, T4, T3) করানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কারণ অধিকাংশ ডিপ্রেশানের রোগীর ক্ষেত্রেই কারণ হিসেবে দায়ী হলো হাইপোথাইরয়েডিজম। আর এমতাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যার চিকিৎসার মাধ্যমেই বিষন্নতা দূর করা যায়।

Hypothyroidism এবং অস্থিরতার মধ্যে সম্পর্ক কি?

ডিপ্রেশানের মতো একইভাবে অস্থিরতা বা উদ্বিগ্নতার সাথে হাইপোথাইরয়েডিজম এর সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১০০ জন হাইপোথাইরয়েডিজম এর রোগীর উপর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে তাদের মধ্যকার ৬৩ জন ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা বা অস্থিরতা দেখা যায়। (Holland, 2020)

এর কারণ হিসেবে মস্তিষ্কের উপর থাইরয়েড হরমোনের প্রভাব এবং হাইপোথাইরয়েডিজম এর দরুন ঘুমের সমস্যাকে দায়ী করা যায়। তবে অস্থিরতা ও হাইপোথাইরয়েডিজম এর মধ্যকার বিশেষ যোগসূত্র খুঁজে পেতে এখনো গবেষণা বিদ্যমান রয়েছে।

Hypothyroidism হলে প্রেগ্ন্যান্সিতে কি সমস্যা হতে পারে?

হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতা কম থাকে। অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা রয়েছে এমন মহিলারা সহজেই গর্ভধারণ করতে সক্ষম হয় না। আবার গর্ভধারণ করতে সক্ষম হলেও সেক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমনঃ

  • রক্তস্বল্পতা
  • গর্ভপাত (miscarriage)
  • Preeclampsia নামক গর্ভকালীন জটিল রোগ
  • মৃত বাচ্চা প্রসব করা
  • কম ওজনের বাচ্চা প্রসব করা
  • ত্রুটিপূর্ণ শিশু জন্ম দেয়া
  • শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ না হওয়া ইত্যাদি

উল্লেখিত সমস্যা গুলো এড়াতে চাইলে গর্ভধারণের পূর্বে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। অর্থাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিকারের জন্য যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) অথবা হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ওজন বাড়ার সাথে Hypothyroidism এর কি সম্পর্ক?

হাইপোথাইরয়েডিজম এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কম পরিমাণে হরমোন (T3 & T4) নিঃসরণ হয়ে থাকে। এই হরমোনদ্বয় শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় (Metabolism) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই হরমোনের ঘাটতির দরুন বিপাক কার্যক্রম কমে যায় অর্থাৎ শরীরে কম পরিমাণে ক্যালরি ব্যয় হতে থাকে। কিন্তু নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের ফলে খাদ্য উপাদান শরীরের মধ্যে ফ্যাট হিসেবে জমা হয় তথা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে থাকে।

এমতাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যার সমাধানের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এবং সেই সাথে প্রত্যেকদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যায়াম করতে হবে। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়াও আরেক গবেষণায় দেখা গেছে যে আমিষ জাতীয় (Protein) খাবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো হলে তা বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে আমিষ জাতীয় খাবার হিসেবে মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। (Raman, 2021)

ওজন কমার সাথে Hypothyroidism এর কি সম্পর্ক?

হাইপোথাইরয়েডিজমে সাধারণত ওজন বেড়ে যায়। তবে হাইপোথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা হিসেবে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা হলে তা শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। তবে ওষুধ সেবনের ফলে শরীরের ওজন না কমলে সেক্ষেত্রে আবার নিয়মিত ব্যায়াম এবং একজন পুষ্টিবিদের (Dietitian) পরামর্শ অনুযায়ী খাবার তালিকা তৈরি করতে হবে।

উল্লেখ্য, হাইপারথাইরয়েডিজম এর সাথে শরীরের ওজন কমে যাওয়ার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ হলে তখন বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং অনেক বেশি পরিমাণে ক্যালরি ব্যয় হতে থাকে। আর এমতাবস্থায় শরীরে ফ্যাট জমা হতে পারে না বরং অতিরিক্ত শক্তির জোগান দিতে শরীরের ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে।

Hypothyroidism প্রতিরোধের উপায় কি?

হাইপোথাইরয়েডিজম প্রতিরোধের তেমন কোনো পরীক্ষিত উপায় না থাকলেও নিম্নলিখিত নির্দেশনা গুলো মেনে চলার মাধ্যমে থাইরয়েডের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যেমনঃ (Shomon, 2019)

  • হাইপোথাইরয়েডিজম এর একটি অন্যতম কারণ হলো রেডিয়েশন যা এক্সরে করার সময় নির্গত হয়। আর তাই ঘাড়, মাথা ও দাঁতের এক্সরে করানোর সময় গলায় বিশেষ প্রকৃতির (Thyroid Collar) বন্ধনী ব্যবহার করতে হবে
  • গবেষণায় দেখা গেছে যে ধুমপান থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম বিঘ্নিত করে। আর তাই ধুমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে
  • গলায় অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে
  • আয়োডিন, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে
  • এছাড়াও সার্বিক ভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। আর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উপায় হলো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা

কোন কোন খাবারের মধ্যে ক্যালসিয়াম রয়েছে, এবং কিভাবে শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় তা জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

হাইপোথাইরয়েডিজম বর্তমান সময়ের একটি কমন রোগ যা অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই হতে দেখা যাচ্ছে। আর তাই এই রোগের ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সারা বিশ্ব জুড়ে থাইরয়েডের রোগ সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতি বছর ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস পালন করা হয়ে থাকে। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই এবং সুস্থ থাকি।

 

References

Holland, K. (2020, December 16). Everything You Need to Know About Hypothyroidism. Retrieved from Healthline: https://www.healthline.com/health/hypothyroidism/symptoms-treatments-more

Mayo Clinic. (2020, November 19). Hypothyroidism (underactive thyroid). Retrieved from Mayo Clinic: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/hypothyroidism/symptoms-causes/syc-20350284

Raman, R. (2021, June 17). Best Diet for Hypothyroidism: Foods to Eat, Foods to Avoid. Retrieved from Healthline: https://www.healthline.com/nutrition/hypothyroidism-diet

Shomon, M. (2019, November 07). 10 Ways to Reduce Your Risk of Thyroid Disease. Retrieved from Very Well Health: https://www.verywellhealth.com/ways-to-reduce-thyroid-disease-risk-3233225

 

Last Updated on February 21, 2022

Was this article helpful?
YesNo