বাঙ্গালীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পানের আয়োজন না থাকলে যেন অনুষ্ঠানই সম্পন্ন হয় না। বিশেষত হিন্দু রীতিতে বিভিন্ন পূজা উৎসবে ও বিয়েতে পান যেন বাধ্যতামূলক। আবার ঘরে ঘরে অনেক দাদী নানী আছেন যাদের পান না খেলে চলেই না।

পানপাতা (Betel leaf) খাওয়ার কিছু বিশেষ উপকারিতা গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে। এই কথাটি শোনার পর একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে আসতে পারে যে, তাহলে কি পান খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত? এই অনুচ্ছেদে পানের ২৫ টি উপকারিতা এবং আপনার জন্য পান খাওয়া উচিত হবে কিনা সেই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Table of Contents

পান পাতার ২৫ টি উপকারিতা

১।পানপাতার মুখের দুর্গন্ধ দূর করেঃ 

অনেকের মুখে দুর্গন্ধ থাকে যা নিঃশ্বাস ফেলতে অথবা কথা বলার সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে দায়ী হলো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। পান চেবানোর ফলে মুখের দুর্গন্ধ অনেকটাই দূর হয়ে যায় কারণ পানপাতার মধ্যে রয়েছে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী গুনাগুণ। এছাড়াও দাঁত ও মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করে দাঁত ও মাড়িকে শক্ত রাখতে সহায়তা করে পান‌। তবে দীর্ঘদিন ধরে পান খাওয়ার ফলে দাঁতে দাগ পড়ে যেতে পারে।

২। পানপাতার হজমে সাহায্য করেঃ 

খাবার গ্রহণের পর অনেকের ক্ষেত্রেই পান খাওয়ার অভ্যাস দেখা যায়।‌ পান মুখে চেবানোর সময় প্রচুর পরিমাণে লালা (Saliva) নিঃসরণ হয়। আর লালাতে রয়েছে শর্করা ও ফ্যাট জাতীয় খাবার হজমে সহায়তাকারী এনজাইম। আর তাই খাবার গ্রহণের পর পান খাওয়া হলে তা হজমের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩।পানপাতার গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধ করে

খাবার গ্রহণের পর সর্বপ্রথম তা পাকস্থলীতে গিয়ে জমে যেখানে হজমের জন্য প্রচুর পরিমাণে এসিড নিঃসরণ হয়। অনেকসময় অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের ফলে বুক জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয় যা একসময়ে গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পানপাতা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। (Sewlani, 2016)

৪। ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

যাদের পান চিবানোর অভ্যাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্ষুধা বোধ কম দেখা যায়। আর কম ক্ষুধা থেকে কম পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আর তাছাড়া পানের মধ্যে তেমন কোনো ক্যালরি নেই বললেই চলে। পানের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ হলো পানি এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পান পাতায় মাত্র ৪৪ ক্যালরি রয়েছে।

৫। পানপাতার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে, পানের মধ্যে রয়েছে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার গুণাগুণ। তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ওষুধ সেবনের পরিবর্তে পান খাওয়া বা পানের রস কোনোটিই এখনো পর্যন্ত নির্দেশিত হয় নি। বরং ওষুধ না খেয়ে পানের উপর ভরসা করলে তাতে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। (Nath, 2021)

৬। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় 

রক্তে Total cholesterol, triglycerides, LDL (low-density lipoprotein) ইত্যাদি বেড়ে গেলে তা উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। পক্ষান্তরে HDL (high density lipoprotein) হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পানের মধ্যে “eugenol” নামক বিশেষ বিশেষ একটি উপাদান রয়েছে যা HDL এর পরিমাণ বাড়াতে এবং সেই সাথে হার্টের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

৭। পানপাতার মাথাব্যথা কমাতে পানপাতা

মাথাব্যথা একটি কমন স্বাস্থ্য সমস্যা যা কখনো হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মাথাব্যথা শুরু হলে কিভাবে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন সবাই। মাথাব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে হাতের নাগালে পাওয়া একটি পানপাতা খাওয়ার মাধ্যমে অথবা রস করে কপালে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

তবে মাথাব্যথা যদি হঠাৎ করে আরম্ভ হয় এবং তার সাথে নিম্নলিখিত লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেক্ষেত্রে পানের উপর ভরসা না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা জটিল প্রকৃতির রোগ যেমন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। যেমনঃ

  • মুখ বেঁকে যাওয়া
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • হাত অবশ হয়ে আসা 

 

৮। প্রদাহ নাশক হিসেবে কাজ করে

পানপাতার রয়েছে অসাধারণ প্রদাহ নাশক গুণাবলী যা কোমড় ব্যথা, বাত ব্যথা ও পুরুষের ক্ষেত্রে অন্ডকোষের প্রদাহ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে পানের রস বাহ্যিকভাবে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে এর সাথে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৯। ক্ষত শুকাতে সহায়তা করে

শরীরের কোথাও পুড়ে যাওয়া ক্ষত দ্রুত সারাতে ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে পানের রস ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে পানের মধ্যে থাকা প্রদাহ নাশক ও জীবাণু বিরোধী গুণাবলী এবং বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষত সারাতে সহায়তা করে থাকে।

তবে খুব বেশি পরিমাণের ক্ষত অথবা ইনফেকশন হয়েছে এমতাবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। উল্লেখ্য ইনফেকশনের ক্ষেত্রে সাধারণত লক্ষণ হিসেবে রক্তক্ষরণ, প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বর থাকে।

১০। পানপাতার বিষন্নতা দূর করে 

বিষন্নতা (Depression) খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটি মানসিক ব্যাধি যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানুষকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমান সময়ে বিষন্নতা নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং কাউন্সেলিং এর প্রচলন শুরু হয়েছে। তবে এর আগে থেকেই প্রাকৃতিক নিরাময়ের উপাদান হিসেবে পানের ব্যবহার হয়ে আসছে।

পান চেবানোর সময় ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয় এবং catecholamines নামক হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। শরীরে বিশেষ এই হরমোনের ঘাটতি হওয়ার সাথে বিষন্নতা সৃষ্টির যোগসূত্র রয়েছে। আর তাই পান খাওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকে বিষন্নতা থেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

১১। পানপাতার ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে 

পানের মধ্যে থাকা Phytonutrients গুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পান‌ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত নয়।‌ কারণ গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত পান খায় তাদের ক্ষেত্রে মুখগহ্বরে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে। (Nath, 2021)

পান খাওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ করে আবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়! এমন ভিন্নধর্মী তথ্যের বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে অনুচ্ছেদটির শেষের দিকে। তবে তার আগে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরো কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে পানের ব্যবহার করা যেতে পারে সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১২।‌‌ যৌন উদ্দীপক হিসেবে পানপাতাঃ

পানপাতা প্রাকৃতিক যৌন উদ্দীপক ওষুধ (Aphrodisiac) হিসেবে ব্যবহারের বেশ প্রচলন দেখা যায়। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বে পান‌ খাওয়ার মাধ্যমে দ্রুত বীর্যপাত প্রতিরোধ করা সহ যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এই বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

তারপরও পানপাতা যৌন উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করে দেখতে পারেন কারণ এটি নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। তবে আপনার ক্ষেত্রে যদি কোনো রোগের দরুন যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা বা ED (erectile dysfunction) এর কারণ এবং সমাধান।

১৩। জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পানপাতাঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে, পানপাতা শুক্রাণুর মধ্যে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তবে কি এটি জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা যাবে? না, কারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে যেখানে একটি শুক্রাণুও নারীর ডিম্বাণু্র সাথে মিলে ভ্রূণ তৈরি করতে না পারে। পানের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেখা যায় না যে সব শুক্রাণুর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি পানপাতা কিভাবে ব্যবহার করা যাবে সেই ব্যাপারেও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় নি কোনো গবেষণায়। আর‌‌ তাই জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (Nath, 2021)

১৪. পানপাতার ব্রণ দূর করে

পানপাতায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুণ ব্রণ (Acne) দূর করতে সাহায্য করে। পানপাতা এবং কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে ব্রণের উপর লাগালে খুব দ্রুত তা সেরে যাবে। ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের সুবিধা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না।

অনেকের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে হরমোন জনিত সমস্যা থাকতে পারে। এমতাবস্থায় ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন না করে বরং একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ব্রণ সারাতে হবে।

 

১৫। ফোঁড়া সারাতে পানপাতাঃ

ফোঁড়ার জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে পানপাতা ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি পানপাতা ক্যাষ্টর অয়েল (castor oil) অথবা অলিভ অয়েলের মধ্যে ডুবিয়ে তেলটুকু গরম করে নিন। অতঃপর ফোঁড়ার উপরে সেই পানপাতাটি প্রলেপ দিয়ে রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন পান খুব গরম অবস্থায় যেন লাগানো না হয়। এই পদ্ধতিতে ফোঁড়া দ্রুত ফেটে গিয়ে ভেতরে থাকা পুঁজ বের হওয়ার সুযোগ পাবে।

 

১৬। চুল পড়া কমায়ঃ 

চুল পড়া (Hair fall) খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চুল পড়া কমাতে বিশেষ অবদান রাখতে পারে পানপাতা। পানপাতা বেটে তিলের তেল বা নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে চুলের গোঁড়ায় এবং মাথার তালুতে দিয়ে ১ ঘন্টা রাখুন। ১ ঘন্টা পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আশা করা যায় এতে করে চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে।

১৭। স্নায়ুবিক দুর্বলতা দূর করেঃ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ অথবা বিরতিহীন কাজের ফলে অনেকসময় স্নায়ুবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা যায়। প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পানপাতা টনিকের (Tonic) মতো কাজ করে বলে মনে করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমত একটি পানপাতা নিয়ে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রস বানিয়ে নিতে হবে। অতঃপর এই রসের সাথে এক চামচ পরিমাণ মধু মেশিয়ে সকাল বিকাল দুইবার করে খেতে থাকুন।

১৮। প্রস্রাব নিঃসরণে সমস্যাঃ

নানাবিধ কারণে প্রস্রাব নিঃসরণ কমে যেতে পারে আবার অনেকের ক্ষেত্রে একদম প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় বিশেষত বয়স্কদের বেলায় এমনটি বেশি হয়ে থাকে। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পান পাতা রস করে কয়েকবার খাওয়ার মাধ্যমে ফলাফল আশা করা যেতে পারে। তবে পান পাতার রস খাওয়ার দীর্ঘসময় পর পর্যন্ত প্রস্রাব না‌ হলে অথবা তলপেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

১৯। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পানের বোঁটা তেল‌ লাগিয়ে মলদ্বারে ঢুকিয়ে দিলে ততক্ষণাৎ পায়খানা হয়। বড়দের ক্ষেত্রেও পানপাতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে থাকে তবে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি ভিন্নতর। পান খাওয়ার মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেয় না।

 

উল্লেখ্য বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা গেলে সেক্ষেত্রে খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পানি এবং আঁশ জাতীয় খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তারপরও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর না হলে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ প্রতিনিয়ত পানের বোঁটা ব্যবহার করে পায়খানা করানোর ফলে মলদ্বারে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

২০। গলা ব্যথা ও কাশি দূর করেঃ

গলা ব্যথা ও কাশির জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পানপাতা। এক্ষেত্রে পানপাতা রস বানিয়ে খাওয়া অথবা তেলের সাথে গরম করে বাহ্যিক ভাবে গলায় প্রলেপ দেওয়ার মাধ্যমে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হয়।

 

২১। বুকের দুধ নিঃসরণ বৃদ্ধি করেঃ 

সন্তান প্রসবের পর অনেক মায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাচ্চাকে পর্যাপ্ত দুধ দিতে পারছেন না। দুধ দেওয়ার সময় স্তনে ব্যথা অথবা কম পরিমাণে দুধ নিঃসরণ হচ্ছে এমন সমস্যার সমাধান হিসেবে তেলের সাথে পানপাতা গরম করে স্তনে বাহ্যিকভাবে প্রলেপ দেওয়ার মাধ্যমে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হয়।

 

২২। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করেঃ

শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলো ঘামের সাথে বের হয়। আর তাই ঘামের ফলে অনেকের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এই সমস্যার ঘরোয়া সমাধান হিসেবে কয়েকটি পানপাতা ১ কাপ পরিমাণ গরম পানিতে ফোটান। প্রতিদিন এভাবে ১ কাপ পানি পান করুন যা আপনার শরীরের টক্সিক পদার্থ গুলো বের করে দেবে এবং শরীরের দুর্গন্ধ কমে যাবে।

২৩। চুলকানি কমাতে সাহায্য করেঃ

আপনার শরীরে চুলকানি থাকলে তা কমাতে সহায়তা করবে পানপাতা। এক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ টি পানপাতা একটি পাত্রের মধ্যে পানি নিয়ে ফোটান। অতঃপর সেই পানি গোসলের পানিতে মিশিয়ে অথবা সরাসরি চুলকানির স্থানে লাগানোর মাধ্যমে উপকারিতা যাচাই করতে পারেন আপনি নিজেই। (Ghosh, 2016)

 

২৪। ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করেঃ

ছত্রাকের সংক্রমণ (Fungal infection) সাধারণত শরীরের স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে হয়ে থাকে। বিশেষত মহিলাদের যৌনাঙ্গে ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে চুলকানি একটি কমন ঘটনা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পানপাতা নারিকেল তেলের মধ্যে নিয়ে সেই তেল আগুনের তাপে গরম করে নিন। অতঃপর সেই তেল কুসুম গরম অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে লাগান। পানের মধ্যে রয়েছে ছত্রাক নাশক গুণাবলী সেই সাথে নারিকেল তেলের মধ্যেও যা আপনাকে এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

 

২৫। পান‌ পাতার তেল (Betel leaf oil) 

বাজারে পানপাতার তেল কিনতে পাওয়া যায় যা বাহ্যিকভাবে ব্যবহারের করার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বিষয়ে উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। বিশেষত ব্যথা ও প্রদাহ নাশক হিসেবে অথবা জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করতে এটি সহায়তা করে থাকে।

ক্রমাগত সর্দি পড়ার দরুন নাকের মধ্যে ক্ষত, কানে জীবাণুর সংক্রমণ ও ব্যথা, আঙ্গুলের ডগায় নখের কোনায় পুঁজ উৎপন্ন হওয়া ও‌ ব্যথা সহ যেকোনো ধরনের মাংসপেশীর ব্যথায় পানপাতার তেল ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যাবে। রোগ লক্ষণের জটিলতার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

পান‌ খাওয়া উচিত কিনা? 

উপরের আলোচনার মাধ্যমে পানপাতার অনেকগুলো উপকারিতা উঠে এসেছে। তবে কি আপনি আজ থেকেই পানপাতা খাওয়া শুরু করবেন? এই প্রশ্নের সহজ উত্তরে বলা যায় যে, খাবেন না। কারণ কেউই শুধু পানপাতা খায় না। যাদের ক্ষেত্রে পান‌ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাদেরকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাওয়া যাবে যে, পানের মধ্যে সুপারি (Betel nuts), চুন বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট, খয়ের, জর্দা বা তামাক এবং অন্যান্য বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। শুধুমাত্র পান বাদে বাকি সব গুলো উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যেমনঃ

✓সুপারিকে Carcinogenic উপাদান বলা হয় যা মুখগহ্বরে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

✓চুন খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, কিডনিতে পাথর হওয়া সহ হার্টের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও চুন খাওয়ার মাধ্যমে মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে থাকে।

 

✓জর্দা তথা তামাকজাত‌ দ্রব্য যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষায় রাখে না।

 

যা হোক, পানের যে সমস্ত উপকারিতা রয়েছে সেই তুলনায় বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে পান খাওয়ার ফলে যতটুকু ক্ষতি হবে সেই দিক বিবেচনায় পান‌ খাওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো। তবে আপনি যদি একান্তই মনে করেন যে, নেশা আপনাকে কাবু করতে পারবে না, তাহলে মাঝে মধ্যে শুধু পানপাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। সেই সাথে পানের রস অথবা পানপাতার তেল বিভিন্ন সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহারের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

 

 

References

Ghosh, A. (2016, 11 4). Beauty benefits of betel leaves. Retrieved from FEMINA: https://m.femina.in/wellness/home-remedies/beauty-benefits-of-betel-leaves-28613.amp

Nath, M. (2021). Chemistry behind the Betel Leaves and Betel Quid: . iris publishers, 1-8.

Sewlani, S. S. (2016, 12 30). Top 10 Medicinal Benefits of Betel Leaves. Retrieved from Medindia: https://www.medindia.net/amp/dietandnutrition/top-10-medicinal-benefits-of-betel-leaves.htm

 

Last Updated on April 28, 2022

Was this article helpful?
YesNo