আমরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি যার অধিকাংশই ঘটে থাকে ভাইরাস (viruses) ও ব্যাকটেরিয়ার (bacteria) সংক্রমণে। তবে সব ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী নয় বরং কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া শরীরের জন্য উপকারীও বটে। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দুইটি আলাদা প্রকৃতির অণুজীব (microorganisms) যাদের সংক্রমণের ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্নতর হয়ে থাকে।

এই অনুচ্ছেদে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যকার পার্থক্য, কিভাবে সংক্রমণ ঘটে, ভাইরাসজনিত রোগ এবং ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে কোন ধরনের সংক্রমণ কিভাবে নির্ণয় করা যায় এবং কি ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত সেই বিষয়ে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিজ্ঞান সম্মত কার্যকরী কিছু টিপস।

Bacterial এবং Viral Infections এর মধ্যে পার্থক্য কি?

Bacterial এবং viral infection এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে প্রথমত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব অর্থাৎ খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির যা খালি চোখে দেখা যায় না। ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার (0.2 to 5 micrometer) পর্যন্ত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য ১ মিলিমিটারের (millimeter) ১ হাজার ভাগের এক ভাগকে ১ মাইক্রোমিটার বলা হয়।

অপরদিকে ভাইরাস হলো ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও অতিক্ষুদ্র আকৃতির অণুজীব যার আকার ১০ থেকে ৩০০ ন্যানো মিটার (10 to 300 nanometer) পর্যন্ত হয়ে থাকে। ১ মিলিমিটারের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগকে ১ ন্যানো মিটার বলা হয় আর তাই সাধারণত অতি ক্ষুদ্র বস্তু বা অণুজীব পরিমাপের ক্ষেত্রে ন্যানো মিটার ব্যবহার করা হয়।

পৃথিবীতে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে এবং তার মধ্যে মাত্র কতিপয় ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে সংক্রমণের মাধ্যমে রোগ (Diseases) সৃষ্টি করে থাকে। এছাড়াও অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা মানুষের শরীরের ক্ষতিকর কোষ অপসারণ, ভিটামিন সরবরাহ ও হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

পক্ষান্তরে আমাদের বসবাসের এই পৃথিবীতে ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ভাইরাস রয়েছে। কিছু কিছু ভাইরাস পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আবার কতিপয় ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণের ফলে রোগ উৎপাদন করে থাকে।

যে সমস্ত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে রোগ উৎপাদন করে থাকে তাদেরকে প্যাথোজেনিক অণুজীব (Pathogenic micro) বলা হয়। মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রবৃত্তি, লক্ষণ ও উপসর্গ, সংক্রমণের ফলে উদ্ভূত রোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া বিশেষ পার্থক্য রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে নিচে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Bacterial Infections কিভাবে ছড়ায়?

ব্যাকটেরিয়ার শুধুমাত্র জীব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি কখনোই জড় পদার্থ হিসেবে থাকতে পারে না। অর্থাৎ মানুষের শরীরে সংক্রমণের পূর্বেও প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া জীবের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সরাসরি একজন রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলোঃ (Seladi-Schulman, 2020)

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো, কোলাকুলি করা, চুম্বন করা ইত্যাদি।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক, তোয়ালে, বিছানা ইত্যাদি ব্যবহার করা।
  • হাঁচি, কাশির সাথে নির্গত কণা (Droplets) অন্যজনের নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ।
  • ব্যাকটেরিয়া জনিত যৌনরোগের (Sexually transmitted diseases) সংক্রমণ সাধারণত অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ছড়ায়।

সরাসরি মানুষের শরীর ব্যতীত খাদ্য, পানি, মাটি ও বায়ুর মাধ্যমেও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমনঃ

  • টাইফয়েড একটি পানি বাহিত ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। টাইফয়েড রোগের ব্যাকটেরিয়া সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) পানি ও‌ খাদ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
  • ফুড পয়জনিং এর জন্য দায়ী Clostridium botulinum নামক ব্যাকটেরিয়া খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • চর্মরোগ (folliculitis) সৃষ্টির জন্য দায়ী Pseudomonas aeruginosa নামক ব্যাকটেরিয়া অস্বাস্থ্যকর গোসলখানা থেকে ছড়ায়। বিশেষত স্যাঁতস্যাঁতে কমোড ও বাথটাব ব্যবহারের সময় এবং গোসলখানার‌ মেঝেতে বসে গোসল করার ফলে এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে থাকে।

Bacterial Infections কিভাবে ছড়ায়

এছাড়াও বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে প্রাণিটি পূর্বে থেকে সেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে অথবা শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়ার বাহক হিসেবও কাজ করতে পারে। প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে এমন ব্যাকটেরিয়া ও সৃষ্ট রোগ সমূহ হলোঃ

  • Bartonella henselae নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত বিড়ালের কামড় অথবা আঁচড় লাগলে মানুষের জ্বর ও লিম্ফ নোড ফুলে যেতে দেখা যায়।
  • Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যা প্লেগ রোগ (Plague) সৃষ্টি করে।
  • Francisella tularensis নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা মশা ও ইঁদুর কামড়ানোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং tularemia নামক রোগের সৃষ্টি করে। এটি একটি বিরল প্রকৃতির রোগ যেখানে ত্বকে ক্ষত, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া ও জ্বর হয়ে থাকে।

এছাড়াও ছাড়পোকা কামড়ানোর ফলে Staphylococcus এর সংক্রমণ হতে পারে যা cellulitis নামক চর্মরোগের জন্য দায়ী।

Bacterial Infection এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ কি কি?

সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায় না। বরং ব্যাকটেরিয়ার ধরন এবং সংক্রমণের স্থান বিশেষে লক্ষণের বেলায় পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা প্রায় সব ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে দেখা যায়। যেমনঃ (Huizen, 2020)

  • জ্বর ।
  • মাথাব্যথা। (Headache)
  • শীতবোধ অথবা ঘাম হওয়া।
  • শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাকস্থলী অথবা অন্ত্রে (intestines) হলে সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণ সমূহ দেখা যায়।

  • পেটে ব্যথা।
  • বমি বমি ভাব ও বমি।
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া।
  • ডায়রিয়া। (Diarrhoea)

শ্বাসতন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ঠান্ডা, কাশি,‌ শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, জ্বর, শীতবোধ ইত্যাদি দেখা যায়।

কানে (Ear infection) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা যার ফলে লক্ষণ হিসেবে কানের মধ্যে তীব্র ব্যথা, শুনতে না পাওয়া, কান দিয়ে পুঁজ পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

Bacterial vaginosis (BV) নামক ব্যাকটেরিয়া মহিলাদের গোপনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটায়। এক্ষেত্রে লক্ষণ হিসেবে যৌনাঙ্গে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, সাদা স্রাব (discharge) ও গন্ধ ইত্যাদি হতে দেখা যায়।

খুব কমন Bacterial Infections গুলো কি কি?

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে মানুষের শরীরে যে রোগগুলো খুব বেশি হয়ে থাকে সে বিষয়ে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

গলায় ইনফেকশন (Strep throat) যা Streptococcus ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। লক্ষণ হিসেবে গলা ব্যথা, খাবার গিলতে কষ্ট, জ্বর, মাথাব্যথা ও গলার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে দেখা যায়।

গলায় ইনফেকশনের সঠিক চিকিৎসা না হলে বাতজ্বর (Rheumatic fever) হতে পারে যা পরবর্তীতে হৃদরোগ সহ নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এমতাবস্থায় করণীয় বিষয়াবলী সম্পর্কে জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

UTI (urinary tract infection) বা প্রস্রাব নালীতে প্রদাহ যাকে প্রচলিত ভাষায় প্রস্রাবে ইনফেকশন নামে অভিহিত করা হয়। প্রস্রাবে ইনফেকশন সবচেয়ে বেশি হারে হয়ে থাকে মহিলাদের ক্ষেত্রে কারণ মহিলাদের প্রস্রাব নালীর (Urethra) দৈর্ঘ্য পুরুষের তুলনায় ছোট। এক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

গনোরিয়া (gonorrhea) একটি যৌন রোগ যা Neisseria gonorrhoeae নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রস্রাব ও যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানাবিধ অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়।

Tuberculosis বা টিবি রোগ যা Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়েই এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ফুসফুসের হয়ে থাকে এবং লক্ষণ হিসেবে একটানা ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি, বুকে ব্যথা ও কাশির সাথে রক্ত বের হতে দেখা যায়।

মেনিনজাইটিস (meningitis) যা মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। তবে কদাচিৎ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হতে পারে। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো pneumococcus, meningococcus, Listeria monocytogenes, E. coli, Haemophilus influenzae ইত্যাদি। মেনিনজাইটিস এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় তীব্র মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, আলোর দিকে তাকালে সমস্যা, ঘাড়ে ব্যথা, উচ্চ মাত্রার জ্বর ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো যে সমস্ত রোগ হতে দেখা যায় তা হলো ব্যাকটেরিয়া জনিত ফুড পয়জনিং (food poisoning), টিটেনাস (tetanus), সেলুলাইটিস (cellulitis) বা চর্মরোগ, কানে প্রদাহ, যৌনাঙ্গে সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি।

কোন ধরনের Infection এ এন্টিবায়োটিক খেতে হয়?

কোন ধরনের Infection এ এন্টিবায়োটিক খেতে হয়?

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে সেক্ষেত্রে এন্টি বায়োটিক (antibiotics) ওষুধ সেবন করতে হয়। এন্টি বায়োটিক হলো এমন একধরনের ওষুধ যা শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রচলিত ও কার্যকরী এন্টি বায়োটিক ওষুধ সমূহের কোনটি কোন ধরনের রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলোঃ

 

এন্টি বায়োটিক (antibiotics) ব্যবহার ক্ষেত্র
Cephalosporins বা cephalexin ত্বকের ক্ষত, গ্যাংগ্রিন, মেনিনজাইটিস
পেনিসিলিন (Penicillins) গ্রুপের এন্টি বায়োটিক সমূহ যেমন amoxicillin, flucloxacillin, co-amoxiclav ইত্যাদি শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন, প্রস্রাবের ইনফেকশন (UTI- urinary tract infections)
Tetracyclines গ্রুপের এন্টি বায়োটিক যেমন doxycycline এবং lymecycline ব্রণের সমস্যা ও গলা ব্যথা
Macrolides গ্রুপের এন্টি বায়োটিক ওষুধ যেমন azithromycin, erythromycin এবং clarithromycin শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনের জন্য বিশেষত যাদের ক্ষেত্রে পেনিসিলিনে এলার্জি (penicillin allergy) রয়েছে
Fluoroquinolones গ্রুপের এন্টি বায়োটিক ciprofloxacin এবং levofloxacin প্রায় সব ধরনের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষভাবে প্রস্রাবের ইনফেকশন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে
Cef-3 বা Cefixime প্রস্রাবে ইনফেকশন, শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন এবং যৌন রোগের সংক্রমণ (STDs- sexually transmitted diseases)
chloramphenicol এবং fusidic acid চোখ ও কানের ইনফেকশন

 

উল্লেখিত ক্ষেত্র সমূহের বাইরেও এন্টি বায়োটিক ওষুধ নির্দেশিত হতে পারে। মনে রাখবেন সকল ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনের জন্য কোন এন্টি বায়োটিক সবচেয়ে ভালো কার্যকরী হবে তা একজন চিকিৎসক কর্তৃক নির্ধারিত হওয়া উচিত। এছাড়াও এন্টি বায়োটিক ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমনঃ

  • শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে
  • নির্ধারিত মাত্রা ও সঠিক সময়ে ওষুধ সেবন করা জরুরি। কেননা এন্টি বায়োটিক ওষুধ একটি সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে। আর তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এন্টি বায়োটিক সেবন করতে হবে
  • ওষুধ চলাকালীন সময়ে অন্য কোনো ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হলে বিষয়টি অবশ্যই চিকিৎসককে অবহিত করতে হবে

এন্টি বায়োটিক ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওষুধের ডোজ সম্পন্ন করতে হবে। রোগ লক্ষণ কমে গেলে নিজে নিজেই ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না। কারণ এতে করে এন্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (antibiotic resistance) নামক মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হয় যেখানে শরীরে সেই এন্টি বায়োটিক ওষুধ আর কাজ করতে পারে না। আর তাই অবশ্যই এন্টি বায়োটিক ওষুধের যত্রতত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

এন্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়েছে কিনা বা হলে সেক্ষেত্রে করণীয় কি? এক্ষেত্রে C & S blood test নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে শরীরে‌ কোন কোন এন্টি-বায়োটিকের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি হয়েছে এবং কোনগুলোর প্রতি শরীরে এখনো সংবেদনশীলতা (Sensitivity) বিদ্যমান রয়েছে। এক্ষেত্রে যে এন্টি বায়োটিক গুলোর ক্ষেত্রে এখনো রেজিস্ট্যান্সি দেখা যায় নি শুধুমাত্র সেই ওষুধ গুলোই শরীরে কাজ করবে অর্থাৎ সেগুলোই সেবন করা যাবে।

সতর্কতা

উল্লেখ্য নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এন্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হতে দেখা যায়। এই ব্যাপারে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে শিশুরা যেহেতু ওষুধ সেবন করে নি তাহলে এন্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কি করে হতে পারে? মা বাবার ক্ষেত্রে এন্টি বায়োটিক ওষুধের অযাচিত ব্যবহার এবং গর্ভকালীন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত যত্রতত্র ওষুধ ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া হিসেবে নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে এন্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হতে পারে। আর তাই সর্বাবস্থায় নিজের সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এন্টি বায়োটিক ওষুধের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি।

Viral Infections কিভাবে ছড়ায়?

ভাইরাস হলো এমন একধরনের অণুজীব যা জড় ও জীব উভয় অবস্থাতেই থাকতে পারে। মানুষের শরীরে সংক্রমণের পূর্বে প্রকৃতিতে ভাইরাস সাধারণত জড় পদার্থ হিসেবে থাকে। কোনো ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের আক্রমণ হলে তখন তা জীবের মতো আচরণ করে অর্থাৎ বংশবিস্তার ও ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

ব্যাকটেরিয়ার মতো ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ মানুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। আবার নানাবিধ প্রাণি সহ খাদ্য, পানি, মাটি, বায়ু ইত্যাদির মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমনঃ

  • পানিবাহিত ভাইরাস জনিত রোগের মধ্যে অন্যতম হলো কলেরা। তবে বর্তমানে কলেরার সংক্রমণ অনেক কম হয়ে থাকে
  • বায়ুবাহিত রোগ হিসেবে রয়েছে ফ্লু (Flu), ঠান্ডা লাগা, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি
  • কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস (Rabies) ছড়িয়ে পড়ে
  • মশার কামড়ে জিকা ভাইরাস, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি রোগের ভাইরাস ছড়াতে পারে

খুব কমন Viral Infections গুলো কি কি?

ভাইরাস সংক্রমণের ফলে যে সমস্ত রোগ ব্যাধি হয়ে থাকে তার মধ্যে খুব কমন কয়েকটি রোগ হলোঃ

  • হাম (measles)
  • বসন্ত (chickenpox)
  • করোনা ভাইরাস (Corona virus)
  • HPV (Human Papilloma Virus) যার সংক্রমণে যৌনাঙ্গে আঁচিল বা টিউমার হয়ে থাকে
  • HIV (human immunodeficiency virus) ভাইরাস যার সংক্রমণে প্রাণঘাতী এইডস (AIDS- acquired immunodeficiency syndrome) রোগ হয়ে থাকে
  • হেপাটাইটিস বি ও সি (Hepatitis B & C) যা লিভারের (Liver) রোগ সৃষ্টি করে
  • মহিলাদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার (Cervical cancer) যা human papillomavirus (HPV) ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে

জরায়ু মুখের ক্যান্সার ‌প্রতিরোধ করতে কি করতে হবে সেই বিষয়ে জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

Viral Infection এর চিকিৎসা কি?

ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিহত করতে যেমন এন্টি বায়োটিক ওষুধ রয়েছে তেমনি ভাইরাসের জন্য রয়েছে এন্টি ভাইরাল (antiviral) ওষুধ। তবে এন্টি বায়োটিকের মতো এন্টি ভাইরাল ওষুধের ব্যবহার খুব বেশি করা হয়ে থাকে না। কারণ অধিকাংশ ভাইরাসের সংক্রমণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজে থেকে প্রতিহত করতে পারে। আর তাছাড়া এন্টি ভাইরাল ওষুধ বেশ ব্যয়বহুল হয়ে থাকে এবং সব ধরনের ভাইরাসের জন্য পর্যাপ্ত এন্টি ভাইরাল ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয় নি।‌

তবে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার হয়েছে। টিকা গ্রহণের ফলে ভাইরাস জনিত রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রচলিত টিকা সমূহ হাম, বসন্ত, কলেরা, প্লেগ, জরায়ু মুখের ক্যান্সার, করোনা ইত্যাদি সহ আরো বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

তবে একবার ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু কিছু এন্টি ভাইরাল ওষুধ রয়েছে তা সেবন করতে হবে। এর পাশাপাশি ওটিসি ওষুধ (OTC medicines), পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা সহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস সংক্রমণের নির্ণয়

ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস সংক্রমণের নির্ণয়

ব্যাকটেরিয়া নাকি ভাইরাস? কোনটির সংক্রমণ হয়েছে তা চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে নির্ণয় (Diagnosis) করা জরুরি। কেননা দুই ধরনের অণুজীবের চিকিৎসায় দুইটি ভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। যেমনঃ এন্টি বায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে কিন্তু কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। তেমনি ভাবে এন্টি ভাইরাল ওষুধের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। (Ansorge, 2021)

রোগ লক্ষণ দেখা গেলে সেক্ষেত্রে তা ব্যাকটেরিয়া জনিত নাকি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ সেটা নির্ণয় করার জন্য কতিপয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমনঃ

রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests): নমুনা হিসেবে রক্ত সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাতে বিদ্যমান এন্টিবডি (antibody) দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কি ধরনের অণুজীবের সংক্রমণ হয়েছে।

প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine R/E): ল্যাবরেটরিতে প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবের ইনফেকশন নির্ণয় সহ প্রস্রাবে অস্বাভাবিক উপাদানের উপস্থিতি দেখে জীবাণু ও রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মল পরীক্ষা (stool culture): প্রস্রাবের মতো রোগীর মল ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা করে অণুজীবের সংক্রমণ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করা যায়।

টিবি পরীক্ষা (MT test): ইনজেকশনের মাধ্যমে ত্বকের নিচে বিশেষ একধরনের রাসায়নিক উপাদান ঢুকিয়ে দিয়ে ৭২ ঘন্টা পরে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে mycobacterium tuberculosis এর সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

বায়োপসি (Biopsy): শরীরের টিস্যু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে যা সাধারণত টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় যেহেতু বিভিন্ন ভাইরাস ঘটিত টিউমার হতে দেখা যায় আর তাই কদাচিৎ ক্ষেত্রে অণুজীবের সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্যে এই পরীক্ষা করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।

Covid-19 কেমন প্রকৃতির ভাইরাসের সংক্রমণ?

সারা বিশ্বে মহামারী সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হলো করোনা ভাইরাস (Coronavirus) যা মূলত মানুষের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। এই ভাইরাসের সংক্রমণে শুরুতে জটিলতর লক্ষণ দেখা যায় না তবে এই ভাইরাসের প্রকৃতি বেশ জটিল। অর্থাৎ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ তা দ্রুত পরিবর্তনশীল।

বর্তমান সময়ে ওমিক্রন ভাইরাস সংক্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে যা করোনা ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন বা প্রকৃতি। এর ভয়াবহতা হলো পরিবর্তনশীলতা (Mutation) এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা। ওমিক্রন ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়াবলী হলোঃ

  • হাঁচি ও কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু, রুমাল অথবা হাতের কনুই ভাঁজ করে মুখ ঢেকে নিতে হবে।
  • রাস্তায় চলার সময় এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও ব্যায়াম করতে হবে।

Covid-19 কেমন প্রকৃতির ভাইরাসের সংক্রমণ

সর্দি হলে সেটি Bacterial না Viral, তা বুঝার উপায় কি?

সর্দি হলে তা ব্যাকটেরিয়া নাকি ভাইরাস জনিত সংক্রমণের ফলে হয়েছে তা সহজেই অনুমান করে বলা যায় না। তবে সাধারণত সর্দি বা কাশি রাইনো ভাইরাসের (rhinoviruses) সংক্রমণে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মৃদু প্রকৃতির জ্বর,‌ ঠান্ডা, কাশি ইত্যাদি দেখা যায়। যদিও এটি ভাইরাস জনিত রোগ কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো এন্টি ভাইরাল ওষুধ সেবনের প্রয়োজন পড়ে না। বরং দুর্বল প্রকৃতির এই সব ভাইরাসকে শরীর তার নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা শিঘ্রই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তবে রোগ লক্ষণ কমাতে এবং সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে করণীয় বিষয়াবলী হলোঃ

  • OTC medicine (over the counter) যা চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়াই সংগ্রহ করা যায় এমন ওষুধ সেবন করতে হবে।‌ এক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ প্রকৃতির ওষুধ হলো প্যারাসিটামল (Paracetamol)
  • ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত।‌ ধুলা বালি ও ময়লা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে
  • গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করা উপকারী হতে পারে

প্যারাসিটামল ওষুধ সেবনের মাত্রা বিষয়ক সঠিক নির্দেশনা পেতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

ভাইরাস ছাড়া ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের ফলেও ঠান্ডার সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে কতিপয় লক্ষণ দেখে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। যেমনঃ

  • ১০ থেকে ১৪ দিনের বেশি সময় পর্যন্ত ঠান্ডা লেগে থাকা
  • এই‌ সময়ের মধ্যে ওটিসি (OTC) ওষুধ সেবন করার ফলে রোগ লক্ষণ কমে যাওয়ার পরিবর্তে আরো জটিলতর হতে থাকলে
  • উচ্চ মাত্রার জ্বর দেখা গেলে

এই পর্যায়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে আসলেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে কিনা। অতঃপর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কফের কালার দেখে বুঝার উপায় আছে কি তা Bacterial না Viral Infection?

ঠান্ডা ও কাশির ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা (mucus) অথবা কফের কালার দেখে কোন ধরনের অণুজীবের সংক্রমণ হয়েছে তা নির্ণয় করা যায় না। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কফের কালার সবুজ বর্ণের হলে তা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা এলার্জি যে কোনো ক্ষেত্রেই কফের বর্ণ সবুজ হতে পারে।

এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক ধারণা বিস্তার লাভ করেছে প্রাচীন কালের চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে। কারণ সেই সময়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিলো না। আর তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য নানাবিধ অবৈজ্ঞানিক পন্থা অবলম্বন করা হতো। এই ধরনের পন্থা বর্তমান সময়ে বেশি দেখা যায় আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতিতে কারণ এই সমস্ত চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানকে উপেক্ষা করে প্রাচীন কালীন রীতিনীতিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে।

একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞানের যুগে প্রাচীন কালীন পদ্ধতি অবলম্বন করে রোগ নির্ণয় করা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। আর তাই ঠান্ডা, কাশি সহ যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে।

মানুষের পাকস্থলীতে থাকা জীবানূ কি Bacterial না Viral?

মানুষের পাকস্থলী ও অন্ত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহ নানাধরনের অণুজীবের সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে লক্ষণ হিসেবে বমি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা যায়। এমতাবস্থায় কোন ধরনের অণুজীবের সংক্রমণ হয়েছে তা নির্ণয় করা জরুরি নয় এবং গুরুতর চিকিৎসা গ্রহণের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। বরং বাড়িতে থেকেই খাবার স্যালাইন খাওয়া এবং বিশ্রামের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে উঠে।

ব্যাকটেরিয়া হোক অথবা ভাইরাস যে কোনো ধরনের অণুজীবের সংক্রমণের ফলে একটানা তিন দিনের বেশি সময় পর্যন্ত রোগ লক্ষণ থাকলে বা বমি ও ডায়রিয়ার সাথে রক্ত অথবা শরীরে মারাত্বক পানি স্বল্পতার দেখা দিলে সেক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

Helicobacter pylori নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে পাকস্থলীতে আলসার (stomach ulcers) হয়ে থাকে। পাকস্থলীতে আলসারের লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় বমি বমি ভাব, খাবার খেতে না পারা, বুকজ্বালা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি।

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মতো মানুষের পেটে বা অন্ত্রে কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ঘাটতি হলে সেক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, রক্ত স্বল্পতা (anemia), ডায়রিয়া, শরীরের ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

Infections কিভাবে ডায়াগনোসিস করা হয়?

সাধারণ ভাবে ইনফেকশন (Infection) বলতে শরীরে যে কোনো ধরনের অণুজীবের আক্রমণ ও বিস্তারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া যেমন অণুজীব হতে পারে তেমনি ভাবে অন্যান্য আরও কিছু অণুজীব রয়েছে। যেমনঃ ঈষ্ট (yeast), ছত্রাক বা ফাংগাস (fungi),‌ প্যারাসাইট (parasites), প্রোটোজোয়া (protozoa) ইত্যাদি।

কোন ধরনের অণুজীবের সংক্রমণ হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। তবে শুধুমাত্র লক্ষণ বিবেচনায় অণুজীবের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় না। আর তাই যে কোনো ধরনের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইনফেকশন নির্ণয়ের জন্য সাধারণত রক্ত, প্রস্রাব, মল, কফ ইত্যাদি নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

Infection কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

Infection কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সহ যেকোনো ধরনের অণুজীবের সংক্রমণই প্রতিরোধ করা যায়। ইনফেকশন প্রতিরোধে করণীয় বিষয়াবলী সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। (Barrell, 2020)

  • খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালো ভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে
  • নিরাপদ পানি (safe water) পান ও রান্নার কাজে ব্যবহার করতে হবে
  • রাতে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় মুখে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে
  • খাবার উত্তম ভাবে সিদ্ধ হয় এমন ভাবে রান্না করতে হবে। খাবার ঢেকে রাখতে হবে যেনো তাতে মাছি বা অন্যান্য পোকা মাকড় না বসে
  • বিছানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেনো তাতে ছাড়পোকা বিস্তার লাভ না করে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা উত্তম
  • অন্যের ব্যবহৃত পোশাক ও বিছানা ব্যবহার না করাই ভালো
  • গোসলখানা ও টয়লেট পরিষ্কার রাখতে হবে। পাবলিক টয়লেট ব্যবহার না করাই ভালো
  • অসুস্থ ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত
  • অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকতে হবে
  • যে সমস্ত রোগের টিকা (vaccine) প্রচলিত আছে সেগুলো যথাযথ ভাবে গ্রহণ করতে হবে
  • ইনজেকশনের সিরিঞ্জ মাত্র একবার ব্যবহার করতে হবে বা পুনঃব্যবহার করা যাবে না

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণের ধরন, লক্ষণ ও সংক্রমণের ফলে উদ্ভূত রোগের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তবে সকল পরিস্থিতিতেই যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে হবে অর্থাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবন করতে হবে। এছাড়াও সুস্থ মানুষদের জন্য জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য কার্যকরী উপায় সমূহ মেনে চলা জরুরি।

 

References

Ansorge, R. (2021, April 17). Bacterial and Viral Infections. Retrieved from Web MD: https://www.webmd.com/a-to-z-guides/bacterial-and-viral-infections

Barrell, A. (2020, June 26). Bacterial vs. viral infections: What’s the difference? Retrieved from Medical News Today: https://www.medicalnewstoday.com/articles/bacterial-vs-viral-infections

Huizen, J. (2020, August 29). What are the symptoms of a bacterial infection? Retrieved from Medical News Today: https://www.medicalnewstoday.com/articles/bacterial-infection-symptoms

Seladi-Schulman, J. (2020, April 24). What’s the Difference Between Bacterial and Viral Infections? Retrieved from Healthline: https://www.healthline.com/health/bacterial-vs-viral-infections

Last Updated on February 21, 2022

Was this article helpful?
YesNo