ক্যান্সার একটি দুরারোগ্য ব্যাধি যার প্রতিকার অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। পুরুষের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ক্যান্সার অধিক হারে হতে দেখা যায় তার মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সার অন্যতম। ৫০ বছরের উর্ধ্ব প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  তবে আশার কথা হলো এই যে অন্য আর সব ক্যান্সারের তুলনায় প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়।

তবে এর জন্য প্রয়োজন এই ক্যান্সার সম্বন্ধে যথাযথ জ্ঞান থাকা যেনো ক্যান্সারের প্রথম পর্যায়েই যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়। এই অনুচ্ছেদে প্রস্টেট ক্যান্সারের কারণ, প্রকারভেদ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা আপনাকে প্রস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে। উপরন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা অসুবিধা ও খরচ সম্বন্ধে এই অনুচ্ছেদের শেষের দিকে আলোকপাত করা হয়েছে।

Table of Contents

প্রস্টেট ক্যান্সার কি? What is prostate cancer in Bangla

প্রস্টেট পুরুষ মানুষের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বীর্য (Semen) উৎপন্ন করে থাকে। এছাড়াও প্রস্টেট গ্রন্থি যৌন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে যা একজন পুরুষের স্বাভাবিক যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রস্টেট গ্রন্থির অবস্থান তলপেটে মূত্রথলির (Urinary Bladder) ঠিক নিচে (মূত্রথলীর গলায়) যা মূত্রনালীকে (Urethra) ঘিরে থাকে। আর তাই প্রস্টেট ক্যান্সার অনেক সময়ই মূত্রথলির ক্যান্সার হিসেবেই পরিচিত হয়ে থাকে যদিও মূত্রথলী এবং প্রস্টেট শরীরের দুটি ভিন্ন অংশ।

ক্যান্সার হলো মূলত অস্বাভাবিক ভাবে কোষ কলার বৃদ্ধি পাওয়া (Malignant Growth) যার প্রভাব একসময় সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রস্টেট ক্যান্সার বলতে প্রস্টেট গ্রন্থির অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে। তবে প্রস্টেট গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দুই রকমের হতে পারে। যেমন:

  • ক্ষতিকারক নয় এমন বেড়ে যাওয়া যাকে মেডিকেলের ভাষায় Benign বলা হয়। এই ধরনের প্রস্টেট বৃদ্ধিকে Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বলা হয়ে থাকে যা মূলত ক্যান্সার নয়।
  • ক্ষতিকারক বৃদ্ধি যাকে মেডিকেলের ভাষায় Malignant Growth বলা হয় যা একসময়ে রক্ত ও লসিকা তন্ত্রের (Lymph nodes) মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এমনকি তা একসময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রস্টেট ক্যান্সার কত প্রকার? (What are the types of Prostate cancer in Bangla)

মানুষের শরীরে চার ধরনের টিস্যু বা কলা রয়েছে যার উপর ভিত্তি করে ক্যান্সারের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন: প্রস্টেট গ্রন্থি Glandular Epithelial টিস্যু দ্বারা নির্মিত আর তাই প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সারকে অ্যাডেনোকার্সিনোমা (Adenocarcinoma) বলা হয়ে থাকে। কত দ্রুত ক্যান্সার শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে তার উপর ভিত্তি করে প্রস্টেট ক্যান্সার কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা:

  • Aggressive: যা খুবই দ্রুত গতিতে বিস্তার করতে পারে
  • Nonaggressive: যা বিস্তার লাভ করে না অথবা ক্ষেত্রবিশেষে খুবই ধীর গতিতে বিস্তার করতে পারে

ভয়াবহ রকমের আতংকের বিষয় হলো এই যে Aggressive ধরনের ক্যান্সার বিস্তার করে একসময় তা শরীরের অন্যান্য টিস্যু বা অঙ্গ কেও আক্রান্ত করে ফেলতে পারে।  আর তাই এই ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

types of Prostate cancer

প্রস্টেট ক্যান্সারের কারণ কি? (What causes prostate cancer in Bangla?)

এখনো পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রস্টেট ক্যান্সারের সুস্পষ্ট কারণ জানতে সক্ষম হন নি। তবে কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা রিস্ক ফ্যাক্টর (Risks factors) হিসেবে চিহ্নিত। যেমন:

  • পুরুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশেষত ৫০ বছরের পর থেকে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। সাধারণত ৪৫ বছরের কম বয়সী পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা দেখা যায় না তবে ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যেতে পারে
  • কালো বর্ণের মানুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে
  • কারো বংশে অথবা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে তাদের ক্ষেত্রে অধিক সম্ভাবনা রয়েছে
  • যাদের যৌন রোগ (sexually transmitted diseases) রয়েছে যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি
  • যে সব পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে শল্যচিকিৎসা (Vasectomy) গ্রহণ করেন তাদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে
  • অতিরিক্ত পরিমাণে লাল মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
  • ধুমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস
  • অতিরিক্ত ওজন (Obesity) ইত্যাদি

 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

যাদের শরীরে প্রস্টেট গ্রন্থি নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেমন: মহিলাদের শরীরে কোন প্রস্টেট গ্রন্থি নেই। তবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ক্ষেত্রে অনেকেই পুংলিঙ্গ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে থাকে। অর্থাৎ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ অথচ যাদের শরীরে প্রস্টেট গ্রন্থি রয়েছে তাদের বেলায় প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার (আল্ট্রাসনোগ্রাফি, DRE) মাধ্যমে প্রস্টেট সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত।

প্রস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণগুলি কী কী? (What are the symptoms of prostate cancer in Bangla)

প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। কিন্তু ক্যান্সার চিকিৎসায় সফলতা পাওয়ার জন্য প্রথম অবস্থায় (Early stage) চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। আর তাই এই ব্যাপারে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির (American Cancer Society) নির্দেশনা হলো ৫০ বছরের পর থেকে প্রত্যেক পুরুষের জন্য নিয়মিত কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো উচিত। যেমন: PSE (Prostate specific antigen), DRE (Digital Rectal Examination) ইত্যাদি।

প্রস্টেট গ্রন্থি মূত্রনালীকে ঘিরে রয়েছে আর তাই প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম প্রস্রাব সম্পর্কিত লক্ষণাবলী দেখা যায়।‌ এছাড়াও প্রস্টেট গ্রন্থির সাথে যেহেতু পুরুষের যৌন সক্ষমতার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে তাই বিভিন্ন ধরনের যৌন সমস্যা হতে পারে। যে সমস্ত লক্ষণাবলী প্রস্টেট ক্যান্সার কে নির্দেশ করে তা নিচে তুলে ধরা হলো।

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া বিশেষত রাতের বেলায় বেশি
  • প্রস্রাবের শুরুতে অথবা প্রস্রাব চলাকালীন সময়ে ব্যথা বোধ হওয়া
  • প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত হওয়া
  • প্রস্রাব শেষ করার‌ পরেও ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব নির্গত হওয়া
  • লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা (Erectile Dysfunction)
  • বীর্যপাতের সময় ব্যথা হওয়া
  • বীর্যের সাথে রক্ত যাওয়া
  • এছাড়াও বসে থাকার সময় তলপেটে ব্যথা অনুভব হতে পারে

লিঙ্গ উত্থান (Erectile Dysfunction) সমস্যার বিস্তারিত এবং সমাধান পেতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

এছাড়াও প্রস্টেট ক্যান্সারের শেষ অবস্থায় সর্বাঙ্গীন যে সমস্ত লক্ষণাবলী দেখা যায় তা নিম্নরূপ:

  • কোমড়, উরু ও কাঁধে ব্যথা বোধ হয় কারণ চুড়ান্ত পর্যায়ের (Advance stage) প্রস্টেট ক্যান্সার শরীরের হাড়ে (Bone) আক্রমণ করে থাকে
  • খাবার হজমে সমস্যা হয়
  • শরীরের ওজন কমে যায়
  • তৃষ্ণা ও অস্থিরতা বেড়ে যায়
  • পায়ে পানি জমে (Edema) ইত্যাদি

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে শুধু লক্ষণ দেখেই প্রস্টেট ক্যান্সার হয়েছে এমনটি ভেবে আতংকিত হওয়া যাবে না। প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রথম স্তরের অনেক লক্ষণাবলী রয়েছে যা প্রস্টেট বেড়ে যাওয়া (BPH) রোগের সদৃশ। বিপিএইচ (BPH for Benign Prostatic Hyperplasia) প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো জটিলতর ব্যাধি নয় তবে বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি অধিক হারে হতে দেখা যায়। প্রস্টেট ক্যান্সার ও BPH এর মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করতে হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Diagnosis) করে তবেই ক্যান্সার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

প্রস্টেট ক্যান্সার কিভাবে নির্ণয় করা যায়? (How is prostate cancer diagnosed in Bangla)

prostate cancer diagnosed

চিকিৎসা গ্রহণের জন্য প্রথম এবং পূর্ব শর্ত হলো যথাযথ ভাবে রোগ নির্ণয় (Diagnosis) করা। বিশেষত ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসকের সকল নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। যে সমস্ত পরীক্ষা সমূহ প্রস্টেট ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে থাকে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

শারীরিক পর্যবেক্ষণ: প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসক রোগীর কাছ থেকে সমস্ত রোগ লক্ষণাবলী ও বংশ ইতিহাস সংগ্রহ করেন। অতঃপর শারীরিক পর্যবেক্ষণ (Physical examination) করে থাকেন। ডাক্তার প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পায়ুপথে গ্লভস পড়া আঙ্গুল প্রবেশের মাধ্যমে প্রস্টেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। এই পদ্ধতিকে DRE (Digital Rectal Exam) বলা হয়ে থাকে।

PSA test: প্রস্টেট গ্রন্থির সুস্থতা ও অসুস্থতা নির্ণয়ের সহজ ও কার্যকরী একটি নির্ণায়ক পদ্ধতি হলো PSA test করা। শরীর থেকে রক্ত নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে তাতে কি পরিমাণে PSA (prostate specific antigen) নামক প্রোটিন রয়েছে তা নির্ণয় করা হয়। PSA এর পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে বেশী থাকলে তা প্রস্টেট ক্যান্সারকে নির্দেশ করে।

বায়োপসি: ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও কার্যকরী পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে বায়োপসি অন্যতম। প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে কোষকলা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়‌। আর এই পদ্ধতিকেই মেডিকেলের ভাষায় বায়োপসি (Biopsy) বলা হয়ে থাকে।

অন্যান্য: এছাড়াও আরো কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন: রক্ত পরীক্ষা (CBC), প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine R/E), আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG), এম আর আই (MRI), সিটি স্ক্যান (CT scan) ইত্যাদি।

প্রস্টেট ক্যান্সারের গ্রেডগুলি কী কী? (What are the grades of prostate cancer in Bangla)

প্রস্টেট ক্যান্সারের গ্রেডগুলি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে ক্যান্সারের জটিলতা সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে Gleason score নির্ণয় করা হয়ে থাকে যা ক্যান্সারের গ্রেডিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়। Gleason score এবং PSA মান অনুযায়ী ক্যান্সারের জটিলতর স্তর (grades) গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • Gleason score এর মান ৬ বা তার কম হলে সেক্ষেত্রে তা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে
  • ৭ বা তার বেশি হলে সেক্ষেত্রে ক্যান্সার ধীর গতিতে বিস্তার লাভ করছে বলে নির্দেশিত হয়
  • Gleason score এর মান ৮ বা তার বেশি এবং সেই সাথে PSA লেভেল ২০ ন্যানো গ্রাম/মিলিলিটার (>20 ng/ml) এর বেশি হলে তা দ্রুত গতিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে এমনটি নির্দেশ করে

প্রস্টেট ক্যান্সারের পর্যায়গুলি কী কী?

প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসার পূর্বে ক্যান্সারের পর্যায় (Stages of cancer) সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। কারণ ক্যান্সারের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা ভিন্নতর হয়ে থাকে। যদিও এই বিষয়টি চিকিৎসক গণ নির্ধারণ করে থাকেন তবে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে জানা থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে কি ধরনের ফলাফল আসবে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। PSA টেস্ট ও Gleason score অনুযায়ী ক্যান্সারের পর্যায় নির্ণয় করা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত হলো TNM (Tumor, Nodes, Metastases) পদ্ধতি। যে বিষয় গুলোর উপর নির্ভর করে TNM পদ্ধতির পর্যায় গুলো নির্ণয় করা হয়ে থাকে তা হলো:

  • অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আকার (Size)
  • ক্যন্সারের সাথে কতগুলো লিম্ফ নোড (Lymph nodes) এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে
  • ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা ইত্যাদি

 

প্রস্টেট ক্যান্সারের পর্যায় (Stages) গুলো নিচে তুলে ধরা হলো। 

শূন্য পর্যায় (Stage 0): এই পর্যায়ে প্রস্টেট গ্রন্থির সামান্যতম অংশে ক্যান্সারের সংক্রমণ হয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না।

এক(Stage 1): এই পর্যায়ে প্রস্টেট গ্রন্থির পুরো অংশ জুড়ে ক্যান্সারের সংক্রমণ হয়ে থাকে তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এই পর্যায়ে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

পর্যায় দুই ও তিন (Stage 2 & 3): এই পর্যায়ে ক্যান্সার প্রস্টেট গ্রন্থির আশে পাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

পর্যায় চার (Stage 4): এটিকে ক্যান্সারের Advance Stages বলা হয়ে থাকে যেখানে ক্যান্সার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে শুধুমাত্র রোগ যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব করা সম্ভব পর হয়।

প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা কি? (What are the treatments for prostate cancer in Bangla)

অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় প্রস্টেট ক্যান্সার এর চিকিৎসায় সফলতার হার বেশি রয়েছে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির (ACS) তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রস্টেট গ্রন্থির মধ্যে সীমাবদ্ধ (Localized) ক্যান্সার যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে নি এমন ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ১০০ শতাংশ। তবে যে ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে সে ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। তবে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই সম্ভাবনা ৯৮ শতাংশ বেড়ে যায়।

প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যান্সারের গ্রেড ও পর্যায় অনুযায়ী। প্রাথমিক অবস্থা এবং পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ভিন্নতর হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থার (Early stage) কার্যকরী চিকিৎসা সমূহ নিম্নরূপ:

Monitoring

একদম প্রারম্ভিক পর্যায়ে চিকিৎসক PSA পরিক্ষা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যদি বুঝতে পারেন যে ক্যান্সারের ধরন খুব বেশি বিপদজনক নয় অর্থাৎ Nonaggressive ধরনের ক্যান্সার হয়েছে তবে সেক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কোন চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন না। বরং রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং নিয়মিত PSA টেস্ট সহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্যান্সারের ধরন পরিবর্তন হলো কিনা তা জানার চেষ্টা করেন। যদি পরিবর্তন না হয় অর্থাৎ ক্যান্সারের ধরন Aggressive না‌ হয়ে যায় তবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যতীতই রোগী সুস্থতার সহিত বেঁচে থাকেন। তবে প্রস্টেট ক্যান্সার যে কোনো সময়েই তার ধরন পরিবর্তন করতে পারে আর তাই অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সার্জারি

প্রস্টেট ক্যান্সারের সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা যার মাধ্যমে প্রস্টেট গ্রন্থির অপসারণ করা হয়। একজন সার্জন এই পদ্ধতির চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সাধারণত দুই ধরনের শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে প্রস্টেট গ্রন্থির অপসারণ করা হয়ে থাকে। যেমন:

  • Open surgery: এই পদ্ধতিতে রোগীর তলপেট কেটে ভেতর থেকে প্রস্টেট গ্রন্থি অপসারণ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগীকে পূর্ণাঙ্গ অবশ (anesthesia) করে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে শুধু শরীরের নিম্নাঙ্গ অবশ (Lumber anesthesia) করার মাধ্যমেও এই সার্জারি করা যায়।
  • ল্যাপরোস্কপিক সার্জারি: আধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা ব্যবস্থা হলো ল্যাপরোস্কপিক সার্জারি যে পদ্ধতিতে শরীরের উপরিভাগে সামান্য ছিদ্র করে বিশেষ একধরনের নল শরীরের মধ্যে প্রবেশের মাধ্যমে সার্জারি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। ওপেন সার্জারির মত এক্ষেত্রে তলপেটে কাটার প্রয়োজন হয় না এবং এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে। তবে শুধুমাত্র বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও দক্ষ সার্জন দ্বারা এই চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব। যদিও ল্যাপরোস্কপিক সার্জারি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি তবে এর বিশেষ আকর্ষণীয় সুবিধা গুলোর জন্য বর্তমান সময়ে এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

রেডিও থেরাপি

ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিও থেরাপি (Radiation therapy) এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। রেডিও থেরাপি গ্রহণের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ কলার বৃদ্ধি প্রতিহত করা সম্ভবপর হয়। এছাড়াও সার্জারি পরবর্তীতে রেডিও থেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে। প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় দুই ভাবে রেডিও থেরাপি দেওয়া যায়। যথা: বাহ্যিক ভাবে ও অভ্যন্তরীণ ভাবে। রোগী ও রোগের তীব্রতা ভেদে কোন পদ্ধতিতে রেডিও থেরাপি প্রয়োগ করা বেশি কার্যকরী ও নিরাপদ হবে তা একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্ধারণ করে থাকেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্ত করা সম্ভবপর না হলে অথবা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার পরবর্তীতে পুনরায় জটিলতর ভাবে ক্যান্সারের পুনরাক্রমণ হলে সেক্ষেত্রে যে ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা হলো:

হরমোন থেরাপি 

পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন (Testosterone) ও ডাইহাইড্রো-টেস্টোস্টেরন (Dihydrotestosterone). এই হরমোন দ্বয়ের উৎপাদন কমানোর মাধ্যমে প্রস্টেট গ্রন্থির অস্বাভাবিক বেড়ে উঠা তথা ক্যান্সার কোষকলার বৃদ্ধি প্রতিহত করা যায়। লুপ্রন (Lupron) নামক বিশেষ একপ্রকার হরমোন থেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষের যৌন হরমোন উৎপাদন কমানো যায়। অন্যথায় শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অন্ডকোষ (Testicles) অপসারণের মাধ্যমেও হরমোন উৎপাদন বন্ধ করা যায়। কারণ অন্ডকোষ হলো পুরুষের যৌন হরমোন উৎপাদনের প্রধান উৎস।

কেমোথেরাপি

সাধারণত ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ের (Advance Stages) চিকিৎসায় শল্যচিকিৎসা নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। কারণ তাতে ক্যান্সার আরো প্রাণঘাতী হয়ে উঠে। এই পর্যায়ে উপশম দায়ক চিকিৎসা হিসেবে কেমোথেরাপি (Chemotherapy) দেওয়া হয়ে থাকে। কেমোথেরাপির ফলে ক্যান্সারের উপসর্গ ও জটিলতা যেমন ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও অস্থিরতা দমিত হয়। তবে কেমোথেরাপির অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

অন্যান্য

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু নতুন নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় উপরে উল্লেখিত পদ্ধতি গুলো ছাড়া আরো যে সমস্ত নতুন ও কার্যকরী উপায় রয়েছে তা হলো:

  • Cryotherapy
  • High intensity focused ultrasound
  • Immunotherapy etc.

প্রস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসার জটিলতাগুলি কী কী? (What are the complications of prostate cancer treatment in Bangla)

ক্যান্সার (Cancer) একটি জটিলতর ব্যাধি আর তাই এর চিকিৎসা ব্যবস্থায় রয়েছে নানাবিধ জটিলতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। প্রথমত ক্যান্সার চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় আরো যে সমস্ত জটিলতা হতে দেখা যায় তা নিচে উল্লেখ করা হলো:

প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া: প্রস্টেট গ্রন্থির সঙ্গে পুরুষের যৌন সক্ষমতা এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি উৎপ্রোতভাবে জড়িত। প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে বীর্য (Semen) উৎপাদন হয়ে থাকে যা শুক্রাণুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় সার্জারির মাধ্যমে প্রস্টেট অপসারণ করা হলে বীর্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। এছাড়াও অন্ডকোষ অপসারণ করা হলে সেক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

যৌন অক্ষমতা তৈরি হয়: প্রস্টেট গ্রন্থি ও অন্ডকোষ পুরুষের যৌন হরমোন উৎপাদন করে থাকে। এই অঙ্গ গুলো অপসারণের মাধ্যমে প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হলে যৌন হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আর যার‌ দরুন পুরুষের যৌন অক্ষমতা (Impotence) তৈরি হয়। এছাড়াও হরমোন থেরাপির ক্ষেত্রে হরমোন উৎপাদন কমে যায় যা যৌন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

 

prevent prostate cancer

রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপি ও কেমোথেরাপি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এদের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন:

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
  • শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি (Fatigue) দেখা দেয়
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি হয়
  • খাওয়ার অরুচি এবং হজমে সমস্যা দেখা দেয়
  • মাথার চুল পড়ে যায়
  • ত্বক খসখসে হয়ে যায় ইত্যাদি

প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় (How to prevent prostate cancer in Bangla)

প্রস্টেট ক্যান্সার একটি জটিল ও ভয়াবহ ব্যাধি। এর চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও রয়েছে নানাবিধ জটিলতা আর তাই সবচেয়ে সহজ ও সঠিক সিদ্ধান্ত হলো প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেষ্ট হওয়া। কিভাবে প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়? কিছু সহজ ও কার্যকরী উপায় রয়েছে যা প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন:

  • গবেষণায় দেখা গেছে যে ধুমপান প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আর তাই ধুমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে
  • কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন খাবার গুলো কম পরিমাণে খাওয়া উচিত।
    যেমন: লাল মাংস, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ইত্যাদি
  • তেমনি কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
    যেমন: মাছ, টমেটো, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি বেশি বেশি পরিমাণে খেতে হবে
  • ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে যা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আর তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করা উচিত

প্রস্টেট ক্যান্সার, হস্তমৈথুন ও বীর্যপাত

যেহেতু প্রস্টেট গ্রন্থি পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি অঙ্গ আর তাই স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে বীর্যপাতের সাথে প্রস্টেট ক্যান্সারের কোন যোগসূত্র রয়েছে কি না?

২০১৬ সালে ৩২ হাজার মানুষের উপর সংঘটিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সমস্ত পুরুষ মাসে সর্বনিম্ন ২১ দিন বা তার বেশি বার বীর্যপাত ঘটিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে। কেন ও কিভাবে বীর্যপাত প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে থাকে সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ভাবে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতামত হলো নিয়মিত যৌন ক্রিয়া তথা বীর্যপাতের ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীর থেকে শুক্রাণু ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান বেড়িয়ে যায় যা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। উল্লেখ্য যে সমস্ত পুরুষ মানুষ মাসে ৪ থেকে ৭ বার বীর্যপাত করেন তাদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সারের অধিক ঝুঁকি রয়েছে।

বীর্যপাত হওয়া উচিত স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে। একাধিক যৌন সঙ্গিনীর সাথে যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ একাধিক এবং অনিয়ন্ত্রিত যৌন সম্পর্কের ফলে বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগ (STDs for sexually transmitted diseases) হতে পারে যা একসময়ে প্রস্টেট ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।‌ এছাড়াও হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাতের বিষয়টিকেও নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। কারণ কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত পরিমাণে হস্তমৈথুন করার ফলে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর তাই পরিণত বয়সে বিয়ে করে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশে প্রস্টেট/মূত্রথলির ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ কত? (What is the cost of prostate/ bladder cancer treatment in Bangladesh)

ক্যান্সার চিকিৎসায় বাংলাদেশ বর্তমানে আর পিছিয়ে নেই বরং সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নতি সাধন করে চলেছে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১৯ টি  হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। (Hussain, 2013)তবে সরকারি উদ্যোগে ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নয়ন এবং বেসরকারি ভাবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় হাসপাতাল ও সেবার মান দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশের ক্যান্সার হাসপাতাল অথবা হাসপাতালের ক্যান্সার সেন্টার গুলোতে মূত্রথলির ক্যান্সারের, প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রায় সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা যেমন সার্জারি, রেডিও থেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও সেবা প্রদানের জন্য ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (Oncologist) রয়েছে। সরকারি যে সমস্ত হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)
  • জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH)
  • ঢাকা মেডিকেল সহ আরো অন্যান্য

বেসরকারি ভাবে যে সমস্ত হাসপাতাল গুলোতে প্রস্টেট ক্যান্সারের উন্নত সেবা প্রদান করে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:

  • আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল
  • স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড
  • ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা
  • খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ইত্যাদি

bladder cancer treatment in Bangladesh

উল্লেখ্য ‌ক্যান্সার চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে।সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। তবে অনেকে খরচ কিছুটা বেশি হলেও উন্নত সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ভালো মানের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকেন।

প্রস্টেট ক্যান্সার একটি জটিলতর রোগ হলেও এর যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে এমনকি রয়েছে প্রতিরোধের উপায়। আর তাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে হতাশায় ভেঙে না পড়ে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। প্রস্টেট ক্যান্সারের সঠিক প্রতিকার ও প্রতিরোধের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপনের লক্ষ্যে প্রস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে নিজে জানতে হবে এবং অপরকে জানাতে হবে।

 

Last Updated on May 15, 2022

Was this article helpful?
YesNo