একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়‌ হলো গর্ভকালীন (Pregnancy) সময়। গর্ভকালীন সময়ে মাতৃগর্ভে ভ্রূণের সঠিক বৃদ্ধির জন্য দরকার মায়ের সুস্থ্যতা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ। গর্ভাবস্থায় অসুস্থতা কাটিয়ে সুস্থ্য থাকার জন্য নানাধরনের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এই সময়ে সব ধরনের ওষুধ সেবন করা নিরাপদ নয়। বরং কিছু কিছু ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে প্রেগন্যান্সিতে কি কি ওষুধ নিরাপদ?


গর্ভকালীন সময়ে প্রায়ই নানাবিধ অসুস্থতা দেখা যেতে পারে। আর যার দরুন প্রয়োজন হতে পারে ওটিসি (OTC) কিংবা প্রেসক্রিপশন ওষুধের। গর্ভকালীন সময়ে ওষুধ সেবনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে আমরা সহজভাবে সেই নির্দেশনাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব যা আপনাকে বুঝতে সহায়তা করবে গর্ভকালীন সময়ে কোন ধরনের ওষুধ সেবন করা নিরাপদ এবং কোন ধরনের ওষুধ সেবনের‌ ফলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।  তো চলুন শুরু করা যাক।

প্রেগন্যান্সিতে কি কি ওষুধ নিরাপদ

 

FDA এর তথ্য অনুযায়ী সমস্ত ওষুধ কে টি (A, B, C, D, X) শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে যা গর্ভকালীন সময়ে ওষুধ সেবন নিরাপদ কিনা তা নির্দেশ করে। তন্মধ্যে A, B, C শ্রেণিভুক্ত ওষুধগুলো গর্ভকালীন সময়ে সেবন করা নিরাপদ কিন্তু D X শ্রেণিভুক্ত ওষুধগুলো সেবন করা নিরাপদ নয়। নিচে ধারাবাহিক ভাবে জ্বর, ঠান্ডা, মাথাব্যথা,‌ কোষ্টকাঠিন্য ও ইনফেকশন সহ গর্ভকালীন সময়ের সম্ভাব্য সকল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ গুলো (এন্টি-বায়োটিক সহ) সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের জন্য কোভিড১৯ টিকা নেওয়া কতটা কার্যকরী ও নিরাপদ সে বিষয়ে এই অনুচ্ছেদের শেষের দিকে আলোকপাত করা হয়েছে।

মর্নিং সিকনেস (Morning Sickness) এর চিকিৎসা

গর্ভাবস্থার সাথে মর্নিং সিকনেস এর বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন সময়ের প্রথম দিকে (First Trimester) এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। (Brazier, 2021) সকালে ঘুম থেকে উঠার পড়ে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া মর্নিং সিকনেসের লক্ষণ। সাধারণত এর জন্য যে সমস্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা A, B অথবা C ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত যা সেবন করা নিরাপদ। যেমন:

 

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে কি?

প্যারাসিটামল (Paracetamol) একটি ‌বহুল ব্যবহৃত ওষুধ যা‌ মাথাব্যথা, ঠান্ডা ও জ্বর কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্যারাসিটামল ওষুধ টি B ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। আর তাই গর্ভকালীন সময়ে প্যারাসিটামল সেবন করা নিরাপদ। তবে প্রদাহ নাশক হিসেবে এসপিরিন সহ‌ NSAID গ্রুপের অন্যান্য ওষুধ গুলো (Naproxen, ketoprofen, ibuprofen) সেবন করা ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

 

সেবন বিধি:

গর্ভকালীন সময়ে প্যারাসিটামল ওষুধ টি প্রতিবার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত মাত্রায় দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার সেবনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওষুধ সেবনের মধ্যবর্তী দূরত্ব নূন্যতম ৪ থেকে ৬ ঘন্টা হওয়া উচিত। তবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এর তথ্য অনুযায়ী গর্ভকালীন সময়ে নূন্যতম মাত্রায় প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে যে সর্বোচ্চ মাত্রায় অথবা দীর্ঘসময় ধরে প্যারাসিটামল সেবনের ফলে গর্ভস্থ পুরুষ সন্তানের প্রজনন তন্ত্রের (Reproductive System) ত্রুটি হতে পারে। (Bradford, 2015)

 

গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা কাশির ওষুধ

ঠান্ডা ও কাশি গর্ভাবস্থায় অতি পরিচিত সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে গর্ভকালীন সময়ে ঠান্ডা ও কাশির ওষুধ সেবনের ব্যাপারে রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বিশেষত গর্ভের ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত ঠান্ডা ও কাশির ওষুধ সেবন করা নিরাপদ নয়। তবে কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যা B এবং C ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত এমন ওষুধ গুলো সেবন করা যেতে পারে। যেমন:

  • কাশির সিরাপ (Vicks)
  • Dextromethorphan
  • Sudafed ইত্যাদি

 

তবে প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধ ব্যতীত কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন:

  • কুসুম গরম পানি পান করা
  • গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া (Gurgling) করা
  • সামান্য পরিমাণে আদা (Ginger) মুখে নিয়ে চিবিয়ে খাওয়া কাশির জন্য উপশম দায়ক হতে পারে। উপরন্তু আদা বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়তা করে। 
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে

 

গর্ভাবস্থায় এন্টাসিড

পাকস্থলীতে অতিরিক্ত পরিমাণে এসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সমস্ত এন্টাসিড ওষুধ সেবন করা হয় তা ওটিসি (OTC – over the counter) মেডিসিনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সেবন করা যায়। গর্ভকালীন সময়েও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টাসিড সেবন করা নিরাপদ হতে পারে কারণ অধিকাংশ এন্টাসিড ওষুধ B এবং C ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যেমন:

  • aluminum hydroxide
  • magnesium hydroxide
  • calcium carbonate
  • simethicone
  • famotidine
  • ranitidine
  • cimetidine

গর্ভাবস্থায় এন্টাসিড

 

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের সমস্যার সমাধান

গর্ভকালীন সময়ে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ এবং জরায়ুর আকার বৃদ্ধির ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে হতে পারে পাইলসের (Hemorrhoids) সমস্যা। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ব্যবহৃত প্রায় সব Laxative ওষুধগুলোই গর্ভকালীন সময়ে সেবন‌ বা ব্যবহার করা নিরাপদ। যেমন:

  • Colace or Surfak
  • Senokot, Dulcolax, or Milk of Magnesia
  • Anusol cream 
  • Glycerin suppository

 

তবে ওষুধ ছাড়াও কিছু বিশেষ নিয়ম নির্দেশনা নিরাপদ ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন:

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
  • প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, শস্যদানা, বাদাম ও ফলমূল খাওয়া
  • কম পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা তবে সেক্ষেত্রে দিনে কমপক্ষে ৪-৫ বার খেতে হবে
  • মৃদু প্রকৃতির শরীর চর্চা (exercise) করা ইত্যাদি

 

যৌনাঙ্গে ছত্রাকের সংক্রমণ

গর্ভকালীন সময়ে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যৌনাঙ্গের pH মানের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর যার‌ ফলে সহজেই ছত্রাকের সংক্রমণ (Yeast infections) ঘটে থাকে। লক্ষণ হিসেবে যৌনাঙ্গে চুলকানি ও সাদা স্রাব (Discharge) দেখা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে যে সমস্ত ওষুধ ব্যবহার করা প্রয়োজন তার মধ্যে কতিপয় ওষুধ C ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত যা ব্যবহার করা নিরাপদ। যেমন:

  • Clotrimazole (Mycelex)
  • Miconazole (Monistat 3)
  • Terconazole

 

তবে কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যা ছত্রাকের সংক্রমণ রোধ করতে কার্যকরী কিন্তু তা গর্ভকালীন সময়ে সেবন করা নিরাপদ নয়। যেমন:

  • fluconazole (Diflucan)
  • ঘরোয়া পদ্ধতির চিকিৎসা
  • হারবাল বা ভেষজ ওষুধের ব্যবহার
  • ৭ দিনের বেশি সময় ধরে মুখে ওষুধ সেবন করা

 

ইনফেকশন ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম (ointments) রয়েছে। যদিও এসব ক্রিম ওটিসি মেডিসিনের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ কিছু কিছু ক্রিম রয়েছে যা গর্ভকালীন সময়ে ব্যবহার করা হলে তা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।  যেমন:

  • Retinoids
  • Salicylic acid
  • Hydroquinone
  • Phthalates
  • Formaldehyde
  • Chemical sunscreens

 

অনিদ্রা (Insomnia) প্রতিকারে ওষুধ

গর্ভকালীন সময়ে নানাবিধ কারণে ঘুমের সমস্যা তথা অনিদ্রা (Insomnia) দেখা যায়। যেমন:

  • হরমোনের পরিবর্তন
  • ঘন ঘন‌ প্রস্রাব হওয়া
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • স্তন ও কোমড়ে ব্যথা
  • অস্বস্তি বোধ ও শ্বাসকষ্ট
  • দুঃস্বপ্ন দেখা ইত্যাদি

 

সুস্থ্যতার জন্য ঘুম অপরিহার্য আর তাই ঘুমের সমস্যা প্রতিকারে নিরাপদ প্রকৃতির ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই B ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত নিম্নলিখিত ওষুধ গুলো সেবন করা যায়। যেমন:

  • Sominex
  • Nytol
  • Doxylamine succinate

 

তবে কিছু কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে। কারণ এই ওষুধ গুলো C এবং D ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যেমন:

  • Amitriptyline
  • Nortriptyline
  • Ativan
  • Klonopin

 

ওষুধ সেবনের চেয়ে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে অনিদ্রা দূর করা সবচেয়ে নিরাপদ এবং উত্তম সিদ্ধান্ত। অনিদ্রা দূর করতে কার্যকরী অথচ সহজ উপায় সমূহ নিম্নরূপ:

  • রাতের বেলা কম পরিমাণে পানি পান করতে হবে
  • সন্ধ্যার পরে চা ও কফি পান করা যাবে না
  • কায়িক পরিশ্রম ও মৃদু প্রকৃতির ব্যায়াম বিশেষত Yoga করতে হবে
  • দিনের বেলায় ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমানো যাবে না
  • প্রত্যেহ নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে

 

এন্টি-বায়োটিক ওষুধ 

গর্ভকালীন সময়ে এন্টি-বায়োটিক ওষুধ সেবন করা কতটা নিরাপদ তা ওষুধের ধরন, গর্ভকালীন পর্যায় (trimesters) এবং ‌কত সময় ধরে সেবন করা হবে তার উপর নির্ভর করে। ‌নিম্নলিখিত এন্টি-বায়োটিক ওষুধ গুলো নিরাপদ বলে নির্দেশিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

  • Amoxicillin
  • Ampicillin
  • Cephalexin
  • Clindamycin

 

তবে কিছু কিছু এন্টি-বায়োটিক রয়েছে যা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন:

  • Tetracyclines যা গর্ভের ৫ সপ্তাহ পর থেকে ব্যবহার করা নিষেধ
  • Sulfonamides যা গর্ভকালীন সময়ের শুরু ও শেষের দিকে ব্যবহার করা উচিত নয়

 

এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা থাইরয়েডের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের ধরন বা মাত্রায় পরিবর্তনের নির্দেশনা দিতে পারেন।

 

গর্ভাবস্থায় সাপ্লিমেন্ট

গর্ভকালীন সময়ে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য নারীর শরীরে অধিক পরিমাণে পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। আর যার‌ দরুন খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। তবে সব সাপ্লিমেন্ট গর্ভকালীন সময়ে সেবন করা নিরাপদ নয়। নিচে এমন কিছু সাপ্লিমেন্ট এর নাম উল্লেখ করা হলো যা গর্ভাবস্থায় নিরাপদে সেবন করা যায়।

  • Prenatal vitamins যা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা ওটিসি (OTC) হিসেবে গ্রহণ করা যায়
  • Folate যা দৈনিক সর্বনিম্ন 600 micrograms পরিমাণে প্রয়োজন হয়
  • আয়রন বড়ি যা গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন হয়। দৈনিক গ্রহণের মাত্রা হলো ২৭ মিলিগ্রাম (27 mg)
  • ভিটামিন ডি যা ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এবং ইহা প্রধানত সূর্যের তাপ থেকে পাওয়া যায়। অন্যথায় সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দৈনিক 15 micrograms (600 IU) মাত্রায় গ্রহণ করতে হবে
  • এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম, Probiotics, Choline, Fish oil ইত্যাদি সাপ্লিমেন্ট গুলো নিরাপদ ও উপকারী ভূমিকা পালন করে

 

তবে কিছু কিছু সাপ্লিমেন্ট রয়েছে যা গর্ভকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ তা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন: বিভিন্ন ধরনের হারবাল ও ভেষজ উপাদান সমূহ। বেশিরভাগ হারবাল উপাদানই বৈজ্ঞানিক ভাবে নিরাপদ ও কার্যকরী প্রমাণিত হয় নি।

 

গর্ভকালীন সময়ে কোভিড১৯ টিকা নেওয়া নিরাপদ কিনা?

 

গর্ভকালীন সময়ে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া নিরাপদ কিনা

গর্ভকালীন সময়ে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হলে তুলনামূলক জটিল উপসর্গ দেখা দেয় এবং তা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি সাধন করে থাকে। কোভিড১৯ এর টিকা নেওয়ার মাধ্যমে এই জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। উপরন্তু টিকা নেওয়ার ফলে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার ব্যাপারে অনেকের মধ্যেই ভয় ও সংশয় দেখা যায়‌।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (CDC) তথ্য অনুযায়ী গর্ভকালীন সময়ে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের ফলে নারী ও পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য, প্রজনন সক্ষমতা এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমনটি গবেষণায় পরিলক্ষিত হয় নি। বরং তা নিরাপদ এবং কার্যকরী বলেই গবেষণার মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে।

গর্ভকালীন সময়ে নারীর সুস্থতার সাথে গর্ভস্থ শিশুর সঠিক গঠন ও বেড়ে ওঠার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই এই সময়ে ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ নিয়ম নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সামান্য অসতর্কতা হয়ে দাঁড়াতে পারে গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

Last Updated on February 9, 2022

Was this article helpful?
YesNo