ইউরিন (Urine) একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ হলো মূত্র বা প্রস্রাব আর ইউরিন ইনফেকশন অথবা UTIs (Urinary Tract Infection) বলতে বোঝায় মূত্রতন্ত্রে জীবাণুর সংক্রমণ। ইউরিন ইনফেকশন বলতে অনেকেই মনে করেন যে এটি শুধুমাত্র মহিলাদের রোগ। বস্তুত এটি মহিলা এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে।

আজকের এই অনুচ্ছেদে আমরা কথা বলবো একজন পুরুষ হিসেবে আপনার ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিনা এবং কি কি লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত সেই বিষয়ে। এছাড়াও ইউরিন ইনফেকশন নির্ণয়ের জন্য কোন কোন পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়, UTIs এর চিকিৎসা পদ্ধতি কেমন এবং প্রতিরোধের জন্য করণীয় বিষয়াবলী কি তা জানতে অনুচ্ছেদটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

 

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) কেন হয়?

ইউরিন ইনফেকশন কেন হয় তা জানার পূর্বে পুরুষের মূত্রতন্ত্রের গঠন সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া জরুরি। মানুষের শরীরে দুইটি কিডনি, দুইটি ইউরেটার (Ureter), একটি মূত্রথলি (Urinary bladder) ও একটি মূত্রনালী (Urethra) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত হয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই মূত্রতন্ত্রের গঠন একই রকম তবে নারীর তুলনায় পুরুষের মুত্রনালীর দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। একজন পুরুষের মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ সেন্টিমিটার আর মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে ইউরিন ইনফেকশন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন ব্যাকটেরিয়ার নাম হলো Escherichia coli বা সংক্ষেপে E. coli যা মানুষের অন্ত্রে বসবাস করে। এটি অন্ত্রের মধ্যে হজম প্রক্রিয়ায় উপকারী ভূমিকা পালন করে কিন্তু পায়ুপথের মাধ্যমে বের হয়ে মুত্রনালীতে প্রবেশ করলে তা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রভাব এবং প্রস্রাব করার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালী থেকে বেড়িয়ে যায় কিন্তু কখনো যদি এটি মূত্রনালী অথবা মূত্রথলিতে বিস্তার লাভ (multiply) করার সুযোগ পায় তখন ইনফেকশনের সৃষ্টি করে। (Willacy, 2020) তবে শুধুমাত্র সরাসরি পায়ুপথ থেকে ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাব নালীতে প্রবেশ করতে পারে এমনটি নয়। বরং টয়লেটে অথবা অন্য কোনো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া কয়েকঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে এবং সুযোগ পেলে তা মূত্রনালীতে প্রবেশ করে।

 

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর কারণ

ইউরিন ইনফেকশন এর কারণ

ইউরিন ইনফেকশন এর কারণ

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর জন্য E. coli ছাড়াও আরো কিছু ব্যাকটেরিয়া দায়ী হতে পারে তবে তা খুবই কদাচিৎ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যেমনঃ   Klebsiella pneumoniae, Proteus mirabilis, Enterococcus faecalis, Staphylococcus saprophyticus ইত্যাদি। শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ এবং বংশবিস্তারের সাথে কিছু বিষয় সম্পর্কিত যাদেরকে ইউরিন ইনফেকশন এর কারণ হিসেবে দায়ী মনে করা হয়। চলুন সেই বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝতে চেষ্টা করি।

কম পানি পান করা

প্রস্রাবের বেশিরভাগ অংশ হলো পানি যার মধ্যে কিডনির মাধ্যমে নিঃসৃত বর্জ্য পদার্থ থাকে। পানি কম খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় কিন্তু প্রস্রাবের মধ্যে বর্জ্যের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর অধিক বর্জ্য বিশিষ্ট প্রস্রাব মূত্রতন্ত্রে জীবাণু সংক্রমণের জন্য সহায়তা করে থাকে।

প্রস্রাব বেগ চেপে রাখা

মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমা হওয়ার দীর্ঘসময় পর পর্যন্ত প্রস্রাব চেপে রাখলে তা মূত্রথলিতে জীবাণু সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনীহা

পরিষ্কার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রস্রাব পায়খানা করার মাধ্যমে জীবাণু সহজেই মুত্রনালীতে প্রবেশের সুযোগ পায়।

পায়ুপথে যৌন মিলন (Anal sex)

পায়ুপথে E. coli থাকে যা Anal sex এর মাধ্যমে মূত্রনালীতে প্রবেশ করে। তবে ইউরিন ইনফেকশন যৌন বাহিত রোগ নয়।

ক্যাথেটার (catheters) ব্যবহার

মূত্রনালীতে ক্যাথেটার প্রবেশের মাধ্যমে আঘাত লাগা অথবা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথেটার ব্যবহারের ফলে জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সুন্নাতে খৎনা না করা

পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া (Foreskin) কেটে বাদ দেওয়া তথা সুন্নাতে খৎনা করেন নাই এমন পুরুষের ক্ষেত্রে জীবাণু লেগে থাকার সুযোগ বেশি থাকে।

কিডনিতে পাথর 

কিডনিতে পাথর অথবা মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে পাথর হলে সেক্ষেত্রে প্রস্রাব নিঃসরণে সমস্যা হয় যা জীবাণু সংক্রমণের একটি কারণ।

উল্লেখিত বিষয়গুলোর মতো আরো কিছু কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা, সরু মূত্রনালীর ফলে প্রস্রাব নিঃসরণে বাঁধা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব, মূত্রতন্ত্রের সার্জারি ইত্যাদি।

 

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর ঝুঁকি

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) হওয়ার সম্ভাবনা পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রায় চার গুণ বেশি থাকে। (Silva, 2018) পক্ষান্তরে একজন পুরুষের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের কম বয়সে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কম রয়েছে।‌ তবে ডায়াবেটিস অথবা প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যা থাকলে সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে। আর তাছাড়া একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব করতে টয়লেটে যেতে হয় যা মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

অপরদিকে প্রস্টেটের সমস্যা বলতে এক্ষেত্রে মূলত প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে যাকে মেডিকেলের ভাষায় BPH বা Benign prostatic hyperplasia বলে। BPH এর ফলে প্রস্রাব নিঃসরণে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে প্রস্রাব করার পর কিছু পরিমাণ প্রস্রাব মূত্রথলিতে রয়ে যায় যাকে post-void residual বা PVR বলা হয়।

মূত্রথলিতে রয়ে যাওয়া প্রস্রাব ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায়। উল্লেখ্য BPH ছাড়াও বয়স বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মূত্রথলির কার্যক্ষমতা কমে যায় যার ফলে মূত্রথলি বেশি‌ পরিমাণে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। আবার প্রস্রাব বের করে দেওয়ার জন্য মূত্রথলি যথেষ্ট সংকোচিত হয় না যা PVR সৃষ্টি করে। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার অধিক ঝুঁকি রয়েছে।

 

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর লক্ষণ

ইউরিন ইনফেকশন এর লক্ষণ

ইউরিন ইনফেকশন এর লক্ষণ

পুরুষের ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যেতে নাও পারে। তবে নিম্নলিখিত লক্ষণ সমূহ দেখা গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। (Silva, 2018)

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাব করার সময় মূত্রনালীতে ব্যথা বোধ
  • প্রস্রাবে দুর্গন্ধ
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
  • তলপেটে ব্যথা বোধ
  • কোমড় ব্যথা যা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি
  • জ্বর ইত্যাদি

শুধুমাত্র প্রস্রাবে সামান্য জ্বালাপোড়া হলেই ইউরিন ইনফেকশন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ অতিরিক্ত গরমের দিনে অথবা রোদে বেশিক্ষণ থাকলে এবং কম পরিমাণে পানি পান করলে তখন প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়। এক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে পানি পান করার মাধ্যমে জ্বালাপোড়া আপনাআপনি ঠিক হয়ে যায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার ফলেও এই সমস্যা ঠিক না হলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) কিভাবে নির্ণয় করা যায়?

খুব সহজলভ্য এবং কম ব্যয়বহুল একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ইউরিন ইনফেকশন নির্ণয় করা যায়। এই পরীক্ষার নাম হলো Urine R/E যেখানে নমুনা হিসেবে প্রস্রাব সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অতঃপর রিপোর্ট দেখে একজন চিকিৎসক বলে দিতে পারেন যে আপনার ক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশন হয়েছে কিনা।

এক্ষেত্রে ঠিক কোন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে তা জানার জন্য আরেকটি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয় যাকে Urine culture বলে। এই পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সঠিক এন্টি বায়োটিক নির্বাচন করা সুবিধাজনক হয়। এছাড়াও মূত্রথলি, ইউরেটার ও কিডনির অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তলপেটে আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography) অথবা এক্সরে (Xray of KUB) করানো লাগতে পারে। সেই সাথে চিকিৎসক নির্দেশনা দিলে সহায়ক পরীক্ষা হিসেবে রক্ত পরীক্ষা (CBC), রক্তে সুগারের মাত্রা, ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) ইত্যাদি করতে হবে। (Pendick, 2019)

 

পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) এর চিকিৎসা কি?

পরীক্ষার নিরীক্ষার মাধ্যমে ইউরিন ইনফেকশন ধরা পড়লে সেক্ষেত্রে একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অথবা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রস্রাবের ইনফেকশন এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য চিকিৎসকেরা নিয়মিত এন্টি বায়োটিক ওষুধ সেবনের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এন্টি বায়োটিক ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজ মেনে খেতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা ব্যতীত ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না।

ইউরিন ইনফেকশনের ফলে শরীরের অন্যান্য উপসর্গ যেমন জ্বর ও ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল অথবা মৃদু প্রকৃতির ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যা শরীর থেকে বর্জ্য ও ব্যাকটেরিয়া বের করে দেওয়ার জন্য সহায়তা করবে।

এছাড়াও কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা পথ্য হিসেবে ভালো কাজ করে। যেমনঃ লেবু, কমলা, পেঁপে, আপেল, আনারস, তরমুজ, স্ট্রবেরি, শাক-সবজি ইত্যাদি।

 

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা কি বাড়িতে করা সম্ভব?

প্রস্রাবে সামান্য জ্বালাপোড়া হলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে ইউরিন ইনফেকশনের অনেকগুলো লক্ষণ দেখা দিলে অথবা প্রস্রাব পরীক্ষা করে ইনফেকশন ধরা পড়লে সেক্ষেত্রে অজ্ঞতা বশত অথবা একঘেয়েমি সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধুমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতির উপর ভরসা করা উচিত হবে না। কারণ প্রাকৃতিক উপাদান সমূহ ভেষজ গুণ সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওষুধের ন্যায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না কিন্তু এই পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ইউরিন ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে হলে এন্টি বায়োটিক ওষুধ সেবন করা জরুরি।

 

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে কি কি জটিলতা হতে পারে?

ইউরিন ইনফেকশনের জন্য যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সেক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমনঃ

  • মূত্রনালীতে দীর্ঘদিন যাবত ইনফেকশনের ফলে নালী সরু হয়ে যায়। যার ফলে মূত্র নিঃসরণে সমস্যা সহ ক্যান্সার (urethral carcinoma) সৃষ্টি হতে পারে
  • ইনফেকশনের প্রভাব কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় যা একপর্যায়ে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর কিডনি বিকল হয়ে গেলে মৃত্যুও অনিবার্য হতে পারে
  • এছাড়াও ইনফেকশন রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে যাকে মেডিকেলের ভাষায় Sepsis বলা হয়। এই সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়

ইউরিন ইনফেকশন  এর চিকিৎসা

ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) কি একেবারে ভালো হয়?

অনেকের মনেই এই বিষয়টি নিয়ে সংশয় রয়েছে যে ইউরিন ইনফেকশন বা UTIs একেবারে ভালো হয় না। এইরকম ধারণা পোষণ করার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তো চলুন আগে কারণ বিশ্লেষণ করা যাক তারপর সংশয় দূর করার চেষ্টা করবো।

আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ অসুস্থ হলে নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে থাকেন এবং তাতে করে অনেকসময় রোগ মুক্তি হয়। এই বিষয়টি গুরুতর রোগ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে করা যেতে পারে কিন্তু ইউরিন ইনফেকশন এর মতো একটি জটিল প্রকৃতির রোগের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী এন্টি বায়োটিক ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন হয়।

কারণ এন্টি বায়োটিক সেবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডোজ কমপ্লিট করা। অথচ ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে অনেকেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কয়েকটি এন্টি বায়োটিক কিনে খেয়ে নেন। সেই সাথে রোগের লক্ষণ কিছুটা কমে গেলে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রে এন্টি বায়োটিকের ডোজ কমপ্লিট না করার ফলে শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া অবশিষ্ট থেকে যায় যা পুনরায় আবার ইউরিন ইনফেকশনের সৃষ্টি করে থাকে।

চিকিৎসকের নির্দেশনা মোতাবেক এন্টি বায়োটিক ওষুধের ডোজ কমপ্লিট করা হলে ইউরিন ইনফেকশন একেবারে ভালো হয়ে যায়। তবে ভালো হয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে যেন জীবাণু শরীরে প্রবেশের সুযোগ না পায়। কারণ যাদের একবার ইউরিন ইনফেকশন হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি হওয়ার প্রবণতা থাকে।

 

পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন (UTIs) কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ইউরিন ইনফেকশন বা UTIs একটি যন্ত্রণাদায়ক রোগ যা কখনোই কারো কাম্য হতে পারে না। তাই একজন সচেতন পুরুষ হিসেবে ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধের উপায় সমূহ মেনে চলা আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় সমূহ সহজ ব্যাখ্যা সহ উপস্থাপন করা হলোঃ

✓ প্রতিদিন পর্যাপ্ত (২ থেকে ৩ লিটার) পরিমাণে পানি পান করতে হবে। বিশেষত গ্রীষ্মকালীন সময়ে ঘাম হয় এবং শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা সহ প্রচুর পানি রয়েছে এমন খাবার যেমন ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে। পানি পান করার ফলে প্রস্রাবে বর্জ্যের ঘনত্ব বেড়ে যায় না এবং প্রস্রাব করার মাধ্যমে মূত্রনালী থেকে জীবাণু বেরিয়ে যায়।

✓ কখনোই প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখা যাবে না। যাদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের পর মূত্রথলিতে প্রস্রাব রয়ে যায় (PVR) তাদের জন্য একটি বিশেষ টিপস হলো একবার প্রস্রাব করার একটু সময় পরে আবার প্রস্রাব করতে হবে। এর ফলে মূত্রথলিতে রয়ে যাওয়া প্রস্রাব বেরিয়ে যাবে।

✓ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গোপনাঙ্গ (Genital organs) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পায়খানা করার পর টিস্যু পেপার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম হলো সামনের দিক থেকে টেনে পেছনের দিকে নেওয়া। এতে করে পায়ুপথের জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশের সুযোগ পায় না।

✓ পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক (Anal sex) স্থাপন করা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। এটি একই সাথে প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ এবং তা আপনার সঙ্গিনীর জন্য কষ্টকর হতে পারে। আর তাই পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকুন।

✓ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যৌন মিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব করে নেওয়া উচিত এবং পানি ব্যবহার করতে হবে।

✓ বয়স্কদের জন্য মূত্রথলির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ব্যায়াম করতে হবে। সেই সাথে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

✓ নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

 

References

Pendick, D. (2019, March 26). Everything You Should Know About Urinary Tract Infections (UTIs) in Men. From Healthline: https://www.healthline.com/health/mens-health/uti-in-men

Silva, J. C. (2018, February 10). All you need to know about UTIs in men. From Medical News Today: https://www.medicalnewstoday.com/articles/320872

Willacy, H. (2020, November 27). Urine Infection In Men. From Patient: https://patient.info/mens-health/urine-infection-in-men

 

 

Last Updated on March 11, 2022

Was this article helpful?
YesNo