আলু (Potatoes) আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় বিদ্যমান একটি খাবার অথচ এর সম্পর্কে অনেক তথ্যই অজানা। যেমনঃ আলু কিভাবে শরীরের জন্য উপকারিতা বয়ে আনে? মাসিকের যন্ত্রণা লাঘব করতে আলুর ভূমিকা কি? রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আলু কিভাবে কাজে লাগানো যায়? এবং আলু খাওয়া কখন শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে?

আলু সম্পর্কিত উল্লেখিত সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এই অনুচ্ছেদটি সাজানো হয়েছে। সেই সাথে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আলু খাওয়ার ব্যাপারে বিজ্ঞানসম্মত বিশেষ নির্দেশনা সমূহ জানতে অনুচ্ছেদটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

আলু কত প্রকারের হয়? (Types of Potato in Bengali)

আলু সোলানেসিয়া (Solanaceae) গোত্রের অন্তর্গত কন্দজাতীয় (tuber) এক প্রকারের সবজি যা মাটির নিচে জন্মে। আলু পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য যার অসংখ্য প্রকরণ রয়েছে। তবে সবধরনের আলুকে ৭ টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে যে বিষয় সম্পর্কে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: (Sharma, 2019)

১. রাসেট আলু (russet potatoes) সাধারণত ডিম্বাকৃতি (Oval) এবং আকারে বড় হয়ে থাকে। এর ভেতরের অংশ সাদা কিন্তু বাইরের ত্বক বাদামী বর্ণের এবং খসখসে প্রকৃতির হয়ে থাকে।

২. লাল আলু যা দেখতে গোলাকার এবং ছোট থেকে মিডিয়াম আকারের হয়ে থাকে। এর বাইরের আবরণ লাল কিন্তু ভেতরের অংশ সাদা এবং এটি খেতে বেশ সুস্বাদু।

৩. সাদা আলু যার আবরণ ও ভেতরের অংশ সাদা হয়ে থাকে। এটি সাধারণত লম্বা আকৃতির হয়ে থাকে এবং এর মধ্যে শর্করার পরিমাণ কম কিন্তু পানির পরিমাণ বেশি থাকে।

৪. হলুদ আলু যা গোলাকার এবং ছোট থেকে মিডিয়াম সাইজের হয়ে থাকে। এর আবরণ ও ভেতরের অংশ হালকা হলুদ বা সোনালী কালারের হয়ে থাকে।

৫. বেগুনি আলু (Purple Potatoes) যার আবরণ এবং ভেতরের অংশ বেগুনি বর্ণের হয়ে থাকে। এটি গোলাকার ও মিডিয়াম সাইজের হয় এবং এর মধ্যে তুলনামূলক কম পরিমাণে শর্করা থাকে।

৬. ফিঙ্গারলিং আলু (Fingerling Potatoes) যা দেখতে কিছুটা লম্বা আকৃতির (২ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা) এবং বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে।

৭. ছোট আলু (Petite Potatoes) যা বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে তবে আকারে বেশ ছোট ছোট। ছোট হলেও স্বাদে ও গন্ধে এটি অতুলনীয় যা ভর্তা করে খেতে বেশ সুস্বাদু।

বর্তমান সময়ে হাইব্রিড পদ্ধতিতে (Hybridization) আলুর আরো নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে যেগুলো শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং উচ্চ ফলনশীল হয়ে থাকে। উল্লেখ্য মিষ্টি আলু (sweet potatoes) সাধারণ আলুর কোনো প্রকরণ নয়। বরং এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত একটি খাবার যা Convolvulaceae পরিবারের Ipomoea গণের অন্তর্ভুক্ত।

 

আলুর পুষ্টিগত মান (Potato Nutritional Value in Bengali)

আলুকে প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্যের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় তবে এর মধ্যে কিছু পরিমাণে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আলুর প্রকরণ ভেদে পুষ্টি উপাদান সমূহের ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য হয়ে থাকে তবে তা উল্লেখযোগ্য হারে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশান এর তথ্য অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম সিদ্ধ করা সাদা আলু খোসা সহ খাওয়ার ফলে যে পরিমাণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে তা নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো: (Ware, 2017)

 

পুষ্টিগুণ পরিমাণ
শক্তি ৯৪ ক্যালরি
প্রোটিন ২.১০ গ্রাম
শর্করা ২১.০৮ গ্রাম
ফাইবার (fiber) ২.১ গ্রাম
চিনি (Sugars) ১.৫৩ গ্রাম
মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট  ০.০০৩ গ্রাম
পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ০.০৬৬ গ্রাম
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ০.০৪ গ্রাম

 

 

খনিজ (Minerals) পরিমাণ
পটাশিয়াম ৫৪৪ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ৭৫ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ৭ মিলিগ্রাম
আয়রন ০.৬৪ মিলিগ্রাম
জিংক ০.৩৫ মিলিগ্রাম

 

 

ভিটামিন পরিমাণ
ভিটামিন বি১ (Thiamine) ০.০৪৮ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি২ (Riboflavin) ০.০৪৩ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৩ (Niacin) ১.৫৩ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৬ (Pyridoxine) ০.২১১ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি৯ (Folate) ৩৮ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন সি (Ascorbic acid) ১২.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন ই (Alpha-tocopherol) ০.০৪ মিলিগ্রাম

 

এছাড়াও আলুর মধ্যে সামান্য পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, সেলেনিয়াম, Choline এবং প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফাইটোকেমিক্যালস (Phytochemicals) রয়েছে। উল্লেখ্য ফাইটোকেমিক্যালস হলো উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত বিশেষ পুষ্টিগুণ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বৃদ্ধি করা সহ শরীরের জন্য নানাবিধ উপকারিতা বয়ে আনে।

আলুর উপকারিতা (Benefits of Potato in Bengali)

আলুর নানাবিধ ব্যবহার ও উপকারিতা রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় আলু খাওয়ার মাধ্যমে। এছাড়াও আলু রূপচর্চার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে উপকারী ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্য,‌ ত্বক ও চুলের জন্য আলুর উপকারিতা বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা ধারাবাহিক ভাবে উপস্থাপন করা হলো।

স্বাস্থ্যের জন্য আলুর উপকারিতা (Health Benefits of Potato in Bengali)

আলু খাওয়ার মাধ্যমে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কি কি উপকার হতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নানাবিধ গবেষণা চালিয়েছেন। এই পর্যায়ে আমরা আলুর গবেষণালব্ধ ফলাফল সহ সর্বমোট আলুর ১৫ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা বিষয়ে কথা বলবো।

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা রক্তনালী সম্প্রসারণ (vasodilation) করার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সাথে এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপের একটি প্রধান কারণ হলো বেশি পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণ করা। কিন্তু মজার বিষয় হলো আলুর মধ্যে অতি নগণ্য পরিমাণে সোডিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না।‌ তবে এখানে একটি কথা মনে রাখা জরুরি যে আলুর তৈরি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (French fries) এবং পটেটো চিপস (potato chips) খাওয়ার মাধ্যমে এই উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে না। বরং ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপস এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে লবণ তথা সোডিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

২. কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ

হার্টের রোগ (Cardiovascular diseases) সৃষ্টির অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় খারাপ কোলেস্টেরল (LDL- low density lipoprotein) এর উপস্থিতি। আর বেশি পরিমাণে ফ্যাট (স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্র্যান্স ফ্যাট) খাওয়ার ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আলুর মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ানোর জন্য মোটেও দায়ী হয় না। সেই সাথে ট্রান্স ফ্যাট একদমই নেই বরং ভালো মানের ফ্যাট হিসেবে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে যা হার্টের জন্য উপকারী। এছাড়াও আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে থাকে।

৩. হার্টের জন্য আলু উপকারি

আলু উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর এই দুইটি সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আলু হার্টের জন্য একটি উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।‌ সেই সাথে আলুতে বিদ্যমান পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি সহ chlorogenic acid এবং kukoamines নামক প্রাকৃতিক উপাদান সমূহ হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে।

৪. হজমশক্তি বাড়াতে আলু

আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা হজম প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের ফলে হজমের সমস্যা দূর হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় ভুগতে হয় না।

ফাইবার ছাড়াও আলুর মধ্যে আরেকটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যার নাম হলো রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ (resistant starch) যা হজম হয় না। আলু খাওয়ার পর এর মধ্যে থাকা রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine) অতিক্রম করে বৃহদান্ত্রে পৌঁছে যেখানে মানুষের শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে।

ব্যাকটেরিয়া গুলোর মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ থেকে butyrate উৎপন্ন হয় যা পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্রম ভালো রাখতে সহায়তা করে।(Raman, 2018)  Butyrate হলো একধরনের ফ্যাটি এসিড যা হজম প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫. পেটের সমস্যা

যে সমস্ত মানুষ celiac disease নামক পেটের রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে গ্লুটেন (gluten) সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। যেমনঃ পেটে ব্যথা, এসিডিটি, ডায়রিয়া ইত্যাদি। আলু প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেন মুক্ত একটি খাবার যা খাওয়ার মাধ্যমে celiac disease নামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেটে কোনো সমস্যা দেখা দেয় না।

এছাড়াও আলুতে রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ রয়েছে বলে inflammatory bowel disorders বা IBD, Crohn’s disease, ulcerative colitis এবং diverticulitis এর মতো জটিল প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলু ভালো খাবার হিসেবে নির্দেশিত হয়। ডায়রিয়া দেখা দিলে ততক্ষণাৎ সমাধান হিসেবে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি আলু সিদ্ধ করে খাওয়ার মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়। আলুতে থাকা রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ রয়েছে ডায়রিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।

৬. ক্যান্সার থেকে মুক্তি

গবেষণায় দেখা গেছে যে আলুতে বিদ্যমান রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ অন্ত্রে (Intestine) থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে Butyrate নামক যে উপাদানটি তৈরি করে তা কোলন ক্যান্সার (colorectal cancer) এর ঝুঁকি কমায়। (Raman, 2018) এছাড়াও আলুতে quercetin নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্যান্সারের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।

৭. দাঁতের সমস্যা

শরীরে ফসফরাসের অভাব হলে দাঁত ও মাড়িতে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে দাঁত ভঙ্গুর (সহজেই ভেঙে যায় এমন) প্রকৃতির হয়ে গেলে বুঝতে হবে যে শরীরে ফসফরাসের ঘাটতি হয়েছে। আলুর মধ্যে যে পরিমাণে ফসফরাস রয়েছে তা দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।

দাঁতের যত্নে আলু যেমন উপকারী ভূমিকা রাখে তেমনি ভাবে তা আবার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা রয়েছে যা খাওয়ার পর দাঁতে লেগে থাকলে সেখানে সহজেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে যা দাঁত ও মাড়ির জন্য ক্ষতিকর। আর তাই আলু সহ যেকোনো শর্করা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ (Tooth brushing) করতে হবে।

৮. হাড়ের স্বাস্থ্য

আলুতে বিদ্যমান আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক ইত্যাদি খনিজ উপাদান সমূহ হাড়ের গঠন এবং হাড়কে মজবুত করতে সহায়তা করে থাকে। বিশেষত ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে আর আয়রন ও জিংক হাড়কে মজবুত করে। সেই সাথে ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে থাকে এবং হাড় ক্ষয় (Osteoporosis) রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

উল্লেখ্য হাড়ের সুরক্ষায় শরীরে ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকা জরুরি। কিন্তু আলুর মধ্যে ক্যালসিয়ামের তুলনায় ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি রয়েছে। আর তাই শরীরে ক্যালসিয়াম সরবরাহের জন্য শুধু আলুর উপর ভরসা না করে বরং বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সহজ কিছু খাবারের তালিকা সম্পর্কে জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

৯. প্রদাহে আলুর উপকারিতা

আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে। যেমন: flavonoids, carotenoids,‌ phenolic acid ইত্যাদি। উল্লেখিত উপাদান গুলো শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল এর সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। উল্লেখ্য ফ্রি রেডিক্যাল কোষের বিপাক প্রক্রিয়ার সময় উৎপন্ন হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে জমা হলে তা প্রদাহ (Inflammation) এর সৃষ্টি করে থাকে।

১০. বাতের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য আলু

বাত ব্যথা (Gout) হলো এমন একধরনের রোগ যেখানে রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। যে সমস্ত খাবারের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন (purines) রয়েছে সেগুলো খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। যেমনঃ গরুর মাংস, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, মসুর ডাল ইত্যাদি।

আলু (Potatoes) এমন একটি খাবার যার মধ্যে অতি নগণ্য পরিমাণে পিউরিন রয়েছে যার ফলে এটি বাত ব্যথার রোগীদের জন্য নিরাপদ খাবার হিসেবে নির্দেশিত হয়ে থাকে। সেই সাথে এর প্রদাহ নাশক গুণাবলী বাতের ব্যথা নিরাময়ে সহায়তা করে।

১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

আলু উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত একটি খাবার যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। সেই সাথে আলু থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা সহজেই ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায় এবং স্কার্ভি (Scurvy) রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

১২. মস্তিষ্কের উপকারে আলু

আলুর মধ্যে জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও Choline রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতি শক্তি ভালো রাখে। সেই সাথে আরো রয়েছে ভিটামিন বি বিশেষত বি৬ এবং বি৯ (ফোলেট) যা সহজেই ভুলে যাওয়া (Dementia) রোগ প্রতিরোধ করে।

১৩. অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে তা শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকার পরেও এটি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কিভাবে?

গবেষণায় দেখা গেছে যে আলুর মধ্যে proteinase inhibitor 2 নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যা cholecystokinin হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপনা জোগায়। আর এই হরমোনটি ক্ষুধা বোধ কমায় এবং পেট ভরা রয়েছে এমন অনুভূতির সৃষ্টি করে। তবে তাই বলে অধিক পরিমাণে আলু খাওয়া যাবে না বরং ক্ষুধা মেটাতে হরমোন নিঃসরণের জন্য অল্প পরিমাণে আলু খেতে হবে। (Raman, 2018)

১৪. ঘুমের সমস্যার সমাধান

রাতের বেলায় High-protein যুক্ত খাবার (বিশেষত মাংস, ডাল ইত্যাদি) খাওয়ার পরিবর্তে আলু ও অন্যান্য শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। কারণ তাতে করে serotonin হরমোন নিঃসরণ হবে যা ভালো ঘুমের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য রাতের বেলায় শর্করা জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থির রাখে এবং শান্তিপূর্ণ ঘুম এনে দেয়।

 

ঘুমের সমস্যা (Sleeping disorders) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

 

১৫. মেয়েদের মাসিকের পূর্বে আলু খাওয়ার উপকারিতা

মেয়েদের মাসিকের পূর্বে হরমোনের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায় যাকে মেডিকেলের ভাষায় PMS (premenstrual syndrome) বলা হয়। আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা মাসিকের পূর্বের এই সমস্যা নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

আলুর ব্যবহার (How to Use Potato in Bengali?)

আলুকে Extremely Versatile বলা হয় অর্থাৎ এটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যায়। যেমনঃ ভর্তা, ভাজা, তরকারি, সালাদ ইত্যাদি হিসেবে খাওয়া যায়। সেই সাথে যে কোনো ধরনের (মাছ, মাংস, ডিম, নিরামিষ সবজি) তরকারির সাথে এটি মানানসই ভাবে ব্যবহার করা যায় এবং তা খেতে প্রায় সব মানুষই পছন্দ করে থাকেন। খাওয়া ছাড়াও আলুর আরো কিছু ব্যবহারবিধি রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রূপচর্চায় বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা।

রূপচর্চায় আলুর উপকারিতা (Skin Benefits of Potato in Bengali)

আলু খাওয়ার মাধ্যমে যেমন শরীরের জন্য নানাবিধ উপকারিতা পাওয়া যায় তেমনি ভাবে তা প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে ত্বকের কোন কোন সমস্যায় এবং কিভাবে ব্যবহার করবেন সেই বিষয়ে নিচে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হলো।‌ (Sharma, 2019)

১. চোখের তলায় কালি বা ফোলা ভাব কমানো

চোখের তলায় কালো দাগ বা ফোলাভাব কমানোর জন্য সহজ রেসিপি হিসেবে দুই টুকরো আলু কেটে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আলুর চেয়েও বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে শশার ব্যবহার।

২. ট্যান বা সানবার্ন

দীর্ঘসময় ধরে বাইরে থাকার ফলে রোদের তাপ এবং অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেক্ষেত্রে সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নিতে পারেন আলু। এক্ষেত্রে ব্লেন্ডারের সাহায্যে আলুর রস বানিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানোর ফলে প্রদাহ দূর হবে এবং ত্বকের মসৃণতা ফিরে আসে।

৩. ত্বকের কালো ছোপ

ত্বকের কালো ছোপ দূর করতে আলুর রস লাগিয়ে রাখুন। ভালো ফলাফল পেতে এর সাথে সহযোগী উপাদান হিসেবে লেবুর রস যোগ করতে পারেন। তবে লেবুর রস সহযোগে ব্যবহারের পর রোদে যাওয়া যাবে না তাতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪. ত্বকের শুষ্কতা দূর করে

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে আলুর রস অথবা আলু পিষে পেস্ট এর মতো বানিয়ে ত্বকের উপরিভাগে লাগিয়ে রাখুন। আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে যা আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে সহায়তা করবে।

৫. ত্বক ফর্সা করে

আলুকে natural exfoliant বলা হয় কারণ এটি ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ (Dead cells) সমূহ দূর করতে সহায়তা করে। আর তাই ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে চাইলে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আলু ব্যবহার করতে পারেন।

৬. ত্বকের সজীবতা বজায় রাখে

আলুতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ভিটামিন ই রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের সজীবতা বজায় রাখে।

৭. ত্বকে কোলাজেন বাড়ায়

আলুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি, জিংক, কপার ইত্যাদি কোলাজেন (Collagen) উৎপাদন বৃদ্ধি করে থাকে। আর কোলাজেন ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান যা ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অর্থাৎ ত্বকের টানটান ভাব (Elasticity) ধরে রাখে।

৮. মুখে বয়সের ছাপ কমানো

ত্বকে দাগ এবং কোলাজেনের অভাবে ত্বক কুঁচকে গেলে চেহারার মধ্যে বয়সের ছাপ পড়ে যায়। অর্থাৎ অল্প বয়সী মানুষকে দেখলেও মনে হয় অনেক বয়স হয়ে গেছে। আলু ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ও টানটান ভাব ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে মুখে বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে থাকে।

 

চুলের জন্য আলুর উপকারিতা (Hair Benefits of Potato in Bengali)

ত্বকের মতো চুলের যত্নেও আলু বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে আলু দুই ভাবে কাজে লাগে। যেমনঃ আলু খাওয়ার ফলে যে পুষ্টি পাওয়া যায় তা চুলের জন্য শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে আর দ্বিতীয়ত বাহ্যিকভাবে আলুর রস মাথার ত্বকে ও চুলে লাগানো যায়। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক চুলের কি কি সমস্যায় আলু কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি।

১. চুল পড়ার সমস্যার সমাধান

চুল পড়া (Hair falling) একটি কমন সমস্যা যার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আলুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। আলুর রস মাথার ত্বকে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করে এবং সেই সাথে নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে থাকে। (Sharma, 2019)

এক্ষেত্রে আলুর রস তৈরির জন্য প্রথমে আলু ভালোভাবে ধুয়ে ব্লেন্ডারে পিষে নিতে হবে। অতঃপর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে তরল রস নিয়ে তা মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ (Massage) করতে হবে। চুল পড়া রোধে এটি একটি সহায়ক পন্থা মাত্র যা অনেকের ক্ষেত্রেই কার্যকরী নাও হতে পারে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই চুল পড়ার জন্য বিশেষ কিছু কারণ (Causes) থাকে। যেখানে কারণ অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় আবার এমন অনেক কারণ (বংশগত প্রভাব) রয়েছে যা প্রতিরোধ অথবা প্রতিকার করা সম্ভব হয় না।

২. চুল পাকা রোধ করে

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চুল পেকে যায় যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এবং এটিকে রোধ করার কোনো কার্যকরী উপায় বা পন্থা নেই তবে মাথায় কালার (Color) ব্যবহার করার মাধ্যমে পাকা তথা সাদা চুল কালো দেখানো যায়। বয়স বৃদ্ধির আগেই যাদের চুল পেকে যায় তাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ যে কারণগুলো থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধুমপান, বংশগত প্রভাব, পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন এর অভাব, মানসিক চাপ, শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্রি রেডিক্যালের উপস্থিতি ইত্যাদি। উল্লেখিত কারণ সমূহের মধ্যে কয়েকটি বিষয় আলুর সাথে সম্পর্কিত। যেমনঃ

  • আলু খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে যে পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় তা অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে
  • আলুতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল এর সংখ্যা বৃদ্ধি হতে দেয় না
  • এছাড়াও আলুর খোসা দিয়ে ঘরে তৈরি natural dyes চুলে লাগালে চুল কিছুটা কালো দেখায়

আলুর খোসা দিয়ে Natural dyes তৈরির প্রক্রিয়া

প্রথমে কয়েকটি আলু পরিস্কার পানিতে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার ১ থেকে ২ কাপ পরিমাণ পানি সহযোগে খোসাগুলো ২৫ মিনিট গরম করুন। দ্রবণটি ঠান্ডা হয়ে গেলে ছাঁকনির সাহায্যে খোসা অপসারণ করুন। অতঃপর নিংড়ানো তরলের সাথে আপনার পছন্দমতো তেল যোগ করে চুলে লাগান।

 

আলুর অপকারিতা (Side Effects of Potato in Bengali)

আলু শুধু যে উপকারী তা নয় বরং এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। যেমনঃ

✓ আলু খাওয়ার ফলে এলার্জি (Potato Allergy) হওয়ার ঘটনা যদিও খুবই বিরল তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। আর এলার্জি দেখা দিলে সেক্ষেত্রে আলু বর্জন করতে হবে।

 

✓ আলুর মধ্যে glycoalkaloids নামক একধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই উপাদানটি খুবই সামান্য পরিমাণে রয়েছে বলে তা বিশেষ কোনো ক্ষতি করে না। তবে একদিনে একজন মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ২ কেজি আলু খোসা সহ খাওয়ার ফলে যে পরিমাণ glycoalkaloids শরীরে প্রবেশ করবে তা বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। (Arnarson, 2019)

 

✓ উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরি করা আলুর রেসিপি যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও পটেটো চিপস খেলে শরীরের মধ্যে Acrylamides নামক একটি উপাদান প্রবেশ করে। অল্প পরিমাণে এটি কোনো ক্ষতি করতে পারে না তবে দীর্ঘদিন যাবত ধরে খেতে থাকলে তা ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

✓ কিডনি রোগীদের জন্য আলু খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে কারণ আলুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আলু খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা

আলু High glycemic index সমৃদ্ধ একটি খাবার যা খাওয়ার পর খুব শিঘ্রই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। আর তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য যতটা সম্ভব কম পরিমাণে আলু খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।

 

তবে মজার একটি বিষয় হলো এই যে আলু গরম অবস্থায় না খেয়ে ঠান্ডা করে খেলে তাতে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে। এর পেছনের কারণ হলো আলু সিদ্ধ করার পর ঠান্ডা করা হলে retrogradation প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা ভেঙ্গে রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ উৎপন্ন হতে শুরু করে। (Tinsley, 2017) আর রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ এর বিশেষত্ব হলো তা হজম হয় না ফলে রক্ত সুগারের মাত্রা বাড়ে না।

 

উল্লেখ্য আলুর মধ্যে এমনিতেই সামান্য পরিমাণে রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ থাকে আর সিদ্ধ করার পর আরো কিছু উৎপন্ন হয়। তবে একদম শর্করা মুক্ত হয়ে যায় এমন ভুল ধারণা করে ঠান্ডা হওয়া আলু অনেক বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক হবে না। বরং ঠান্ডা করে খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কম বাড়ে আর তাই গরম খাওয়ার চেয়ে ঠান্ডা করে খাওয়া কিছুটা কম ক্ষতিকর।

 

ভাল মানের আলু কেনার উপায়

ভালো মানের আলু কেনার জন্য আলুর গুণগত মান বোঝা জরুরি। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে আলু কেনা খুবই সহজসাধ্য একটি কাজ।

  • আলুর গায়ে ক্ষত (পোকা খাওয়া) থাকলে তা খুব বেশি ভালো প্রকৃতির নয় বলে বিবেচিত হবে
  • ময়লা/মাটি লেগে থাকতে পারে তাতে কোনো সমস্যা নেই বরং পানিতে ধুয়ে রাখা আলু বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না
  • আলুর উপরিভাগে কুঁচকানো থাকবে না। থাকলে সেটি অনেক দিন আগেকার আলু বুঝতে হবে
  • ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমিত আলু দেখতে সবুজ রঙের ছোপ ছোপ দাগ যুক্ত থাকবে

আলু ঘরে সংরক্ষণ করার সঠিক পদ্ধতি

  • আলু ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে না
  • সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে
  • আলু ও পেঁয়াজ একসাথে রাখা যাবে না। এতে করে একধরনের গ্যাস সৃষ্টি হয় যা পঁচা গন্ধ সৃষ্টি করে
  • মাঝে মধ্যে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে যে কোনো আলু পঁচে গেছে কিনা। পঁচা আলু আলাদা করে ফেলে দিতে হবে অন্যথায় তা অন্য আলু গুলো পঁচে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে

আলু একটি সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। তবে শুধুমাত্র এই একটি খাবারের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না বরং সবধরনের সবজি ও খাবারের সুষম ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অথবা বিশেষ কোনো ওষুধ চলাকালীন সময়ে আলু খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকলে অবশ্যই তা মেনে চলা উচিত।

 

 

References

Arnarson, A. (2019, March 7). Potatoes 101: Nutrition Facts and Health Effects. From Healthline: https://www.healthline.com/nutrition/foods/potatoes#bottom-line

Raman, R. (2018, March 14). 7 Health and Nutrition Benefits of Potatoes. From Healthline: https://www.healthline.com/nutrition/benefits-of-potatoes#TOC_TITLE_HDR_8

Sharma, S. (2019, December 6). 19 Amazing Potato Benefits For Skin, Hair and Health. From Style at Life: https://www.google.com/amp/s/stylesatlife.com/articles/potato-benefits/

Tinsley, G. (2017, September 1). Cooling Some Foods After Cooking Increases Their Resistant Starch. From Healthline: https://www.healthline.com/nutrition/cooling-resistant-starch

Ware, M. (2017, October 13). How can potatoes benefit my health? From Medical News Today: https://www.medicalnewstoday.com/articles/280579

 

 

Last Updated on February 27, 2022

Was this article helpful?
YesNo