আরেকটা বেবি নেয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক মাকে তার শারীরিক বিষয়টির ব্যাপারে খেয়াল রাখা খুব জরুরী। বাচ্চা নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের গ্যাপ বিষয়টি আসলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর সাথে মায়ের স্বাস্থ্য, নানাবিধ রোগ, সন্তানের বেড়ে উঠা ও সুন্দর ভবিষ্যত ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িত।

আর তাই এই অনুচ্ছেদে আমরা আলোচনা করবো স্বাস্থ্য বিশারদদের (Health experts) মতামত এবং একটি পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২ টি বাচ্চা নেওয়ার মধ্যবর্তী গ্যাপ কতটুকু হওয়া উচিত সেই সম্পর্কে। সেই সাথে এই অনুচ্ছেদে তুলে ধরা হয়েছে খুব কাছাকাছি অথবা খুব বেশি গ্যাপ নিয়ে বাচ্চা নেওয়ার সুবিধা ও অসুবিধা গুলো।

আরেকটা বেবি নেওয়ার মধ্যবর্তী আদর্শ ব্যবধান কতটুকু?

What is the ideal distance between two babies

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World health organization) এর নির্দেশনা অনুযায়ী ২ টি বাচ্চা নেওয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব ২৪ মাস হওয়া উত্তম এবং তা সর্বনিম্ন ১৮ মাসের নিচে হওয়া উচিত নয়। তবে অনেক স্বাস্থ্য বিশারদগণ আবার মনে করেন যে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে তাদের ক্ষেত্রে ২৪ মাস বা ১৮ মাস অপেক্ষা না করে মাত্র ১২ মাস অপেক্ষা করাই যথেষ্ট। তাতে করে মা ও শিশুর উপর কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না বলেও বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তারা। তবে যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি তাদের জন্য অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। কারণ অধিক বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। তবে যে কোনো বয়সের জন্য সর্বনিম্ন ১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। অন্যথায় তা গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ সন্তানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। (BBC, 2018)

খুব কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা নিলে কি কি অসুবিধা হতে পারে?

দুইটি সন্তানের মধ্যবর্তী দূরত্ব কম হলে অর্থাৎ খুব কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা নিলে যে সমস্ত অসুবিধা গুলো হতে পারে তা হলো-

✓মায়ের শরীর পূর্ববর্তী গর্ভধারণের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে না। শরীরে বিভিন্ন‌ ধরনের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে যার ফলে মায়ের শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয় এবং গর্ভস্থ শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে থাকে। সেই সাথে প্রথম সন্তানের জন্য যত্নের ঘাটতি হতে পারে।

✓গবেষনায় দেখা গেছে যে একটি জীবিত সন্তান জন্ম দেওয়ার পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে পুনরায় গর্ভধারণ করলে সেক্ষেত্রে নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। যেমন:

  • গর্ভকালীন পূর্ণ সময় শেষ হওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব করা
  • শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করা
  • শিশুর শরীরে নানাবিধ জন্মগত রোগ (Congenital disorders)
  • মায়ের শরীরে মারাত্বক রক্তস্বল্পতা (Anemia) ইত্যাদি

✓অন্য আরেকটি গবেষনায় দেখা গেছে যে সর্বনিম্ন ১২ মাসের কম গ্যাপে বাচ্চা নেওয়া হলে দ্বিতীয় শিশুটি প্রতিবন্ধী (Autism) হওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। (Mayoclinic, 2020)

✓এছাড়াও খুব কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা নিলে একই সাথে দুইটি বাচ্চার সঠিক যত্ন নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সাথে প্রচুর খরচ বেড়ে যায় যা বহন করতে একটি সাধারণ পরিবারের হিমশিম খেতে হয়।

বাচ্চা প্রসবের পরবর্তী ঠিক ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে পুনরায় গর্ভধারণ করা বিষয়টি অনেকের ক্ষেত্রেই অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে থাকে। এমনটি হওয়ার পেছনের কারণ হলো বাচ্চা প্রসবের কতদিন পর থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সেই বিষয়ে সঠিক জ্ঞানের অভাব। তবে আজকের এই অনুচ্ছেদের শেষের দিকটা পড়ার মাধ্যমে বিষয়টি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

খুব কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা নিলে কি কি সুবিধা হতে পারে?

কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা নিলে তেমন কোনো শারীরিক সুবিধা নেই তবে অন্যান্য কিছু সুবিধা রয়েছে বলেও মনে করা হয়।‌ যেমন:

✓কাছাকাছি দুইটি বাচ্চা নেওয়ার পর পরিবার পরিকল্পনা সহজ হয় বিশেষত শিঘ্রই জন্ম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি (পুরুষদের ক্ষেত্রে ভেসেকটমি এবং মহিলাদের জন্য টিউবাল লাইগেশন) গ্রহণ করা যেতে পারে।

✓শহরের পরিবেশে সাধারণত একটি শিশু অন্য একটি পরিবারের শিশুদের সাথে মেশার সুযোগ পায় না। সেখানে একই পরিবারে কাছাকাছি সময়ে দুইটি বাচ্চা হলে নিজেরা খেলাধুলা করার সঙ্গী পায় এবং আনন্দের সাথে বেড়ে উঠতে পারে।

✓আমাদের দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে একই সময়ে দুই জন সহোদর লেখাপড়া করলে খরচ কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখিত সুবিধা গুলোর জন্য খুব কাছাকাছি সময়ে আবার বাচ্চা নেয়ার বিষয়টি আপনার জন্য সঠিক হবে কিনা তার জন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত। কারণ স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আপনার জন্য কাছাকাছি বলতে কত সময় পরে বাচ্চা নেওয়া নিরাপদ হবে তা চিকিৎসক নির্ধারণ করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারবেন।

বেশি বয়সের ব্যবধানে বাচ্চা নিলে কি কি অসুবিধা হতে পারে?

খুব কাছাকাছি বাচ্চা নিলে যেমন নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে তেমনি ভাবে বেশি বয়সের ব্যবধানে বাচ্চা নিলেও কিছু অসুবিধা হতে পারে। যেমন:

✓গবেষনায় দেখা গেছে যে খুব বেশি গ্যাপে দুইটি বাচ্চা নেওয়া হলে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের সময় প্রিএক্লাম্পিশার (preeclampsia) মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে।‌ তবে বেশি গ্যাপে বাচ্চা নেওয়ার সাথে প্রিএক্লাম্পশিয়ার ঠিক কি যোগসূত্র রয়েছে তা এখনো গবেষকদের কাছে স্পষ্ট নয়। সাধারণত খুব বেশি গ্যাপ বলতে ৫ বছর বা তার বেশি সময়কে বোঝানো হয়ে থাকে।

✓যারা দেরিতে বিয়ে করেছেন অথবা প্রথম সন্তান অনেক দেরিতে নিয়েছেন তারা যদি পুনরায় আবার অনেক দেরিতে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন সেক্ষেত্রে অধিক বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

অধিক বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কি কি স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে আর এমতাবস্থায় করণীয় কি তা জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

✓প্রথম সন্তানের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দ্বিতীয়টির বেলায় ব্যবহার করার মাধ্যমে কিছুটা খরচ সাশ্রয়ী করা যায়। কিন্তু বাচ্চা নেওয়ার গ্যাপ অনেক বেশি হলে অনেক সময় তা করা সম্ভব হয় না।

✓এছাড়াও দুই সন্তানের বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

বেশি বয়সের ব্যবধানে বাচ্চা নিলে কি কি সুবিধা হতে পারে?

অধিকাংশ পরিবার একটি সন্তান নেওয়ার বেশ পরে আরেকটি সন্তানের কথা চিন্তা করেন। কারণ একটি সন্তান পেটে আসার পর থেকে প্রসব পরবর্তীতে তার জন্য অনেক যত্ন নেওয়া এবং সময় দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ছোট্ট শিশুটি বড় হয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ গুলো গুছিয়ে না‌ নিতে পারার আগেই আরেকটি বাচ্চা নেওয়া হলে সেক্ষেত্রে মা বাবার জন্য অনেক বেশি ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বেশি বয়সের গ্যাপে বাচ্চা নেওয়া হলে এই ঝামেলা পোহাতে হয় না। বরং কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। যেমন:

  • আগের সন্তানটি বড় হয়ে ছোট শিশুর কিছু দেখাশোনা করতে পারে
  • হঠাৎ করে সংসারের উপর আর্থিক চাপ পড়ে না
  • গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুতি নিতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়
  • শিশু সঠিক ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে ইত্যাদি

ঝুঁকির বিষয়গুলো চিন্তা করা উচিত

দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার পূর্বে কিছু বিশেষ ঝুঁকির ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত। সাধারণত বর্তমান সময়ে অধিকাংশ নারীরাই সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করে থাকেন।‌ আর সেক্ষেত্রে একবার সিজারের পর পুনরায় গর্ভধারণের জন্য নূন্যতম ২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। এই সময়ের আগে পুনরায় গর্ভধারণ করলে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:

  • আগেরবার করা সিজারের জায়গায় ছিঁড়ে যেতে পারে (scar dehiscence)
  • Placenta accreta নামক একটি জটিলতর সমস্যা হতে পারে যেখানে গর্ভফুল (Placenta) জরায়ুর প্রাচীরের মধ্যে ঢুকে যায়
  • গর্ভকালীন সময় শেষ হওয়ার অনেক আগেই বাচ্চা প্রসব হতে পারে ইত্যাদি

একজন নারীর জীবনে সর্বোচ্চ কতবার সিজারিয়ান ডেলিভারি করানো নিরাপদ সেই বিষয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত হলো সর্বোচ্চ ৩ বার তবে এই সংখ্যা শরীরের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কম বেশি হতে পারে। আর তাই সিজারিয়ান ডেলিভারির পরবর্তীতে গর্ভধারণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

২ বাচ্চার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত

বাচ্চা নেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের সাথে মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। খুব কাছাকাছি অথবা খুব বেশি সময় গ্যাপ নেওয়ার নানাবিধ সুবিধা অসুবিধা উপরের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেকার যে বিষয়গুলো সরাসরি স্বাস্থ্য বা রোগের সাথে সম্পর্কিত তা নিয়ে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ, অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি সহ অন্য কোনো রোগ রয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে হবে। অতঃপর অবস্থা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে হবে। (Lindberg, 2021)

গর্ভধারণের পূর্বে কেমন প্রস্তুতি নিতে হবে তা জানতে এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন।

২ বাচ্চার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান নিয়ে বাবা-মায়ের পরামর্শ করা উচিত

বাচ্চা নেওয়ার বিষয়টি মা বাবা দুজনের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আর তাই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিতে হবে। কারণ একটি সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পুনরায় আরেকটি সন্তান নিতে চাইলে সেক্ষেত্রে পরিবারে যে বাড়তি খরচ হবে সেটি একটি মুখ্য বিবেচনার বিষয়।

সেই সাথে দুইটি সন্তানের যত্ন ও দেখাশোনার জন্য মায়ের পাশাপাশি বাবাকেও সময় দিতে হবে। একটি সন্তান নেওয়ার কত সময় পরে আরেকটি সন্তান নিলে দুইটি সন্তানের যত্ন নেওয়া ও লালন পালন করা সহজ হবে সেটি নির্ভর করে পরিবারের আয় এবং মা বাবার পেশার উপর। আর তাই নিজেরা পরামর্শ করে সঠিক সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে হবে যে কোন সময়টা সবচেয়ে ভালো হবে।

সন্তান প্রসবের কত সময় পরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে? 

সাধারণত একজন মা যতদিন পর্যন্ত তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করান ততদিন পর্যন্ত তার মাসিক বন্ধ থাকে। এর কারণ হলো বুকে দুধ উৎপাদনের জন্য মায়ের শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোলাক্টিন (Prolactin) হরমোন উৎপাদন হয় যা ওভারি থেকে ডিম্ব নিঃসরণ এবং মাসিক বন্ধ রাখতে ভূমিকা রাখে।

তবে হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ এর উপর নির্ভর করে মাসিক কতদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে তা ব্যক্তিভেদে ভিন্নতর হয়ে থাকে। আর তাই অনেকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত মাসিক বন্ধ থাকে আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২ মাস পরেই মাসিক হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ভাবে মাসিক হতে দেখা যায়। (Brusie, 2018)

অনেকেই মাসিক শুরু হওয়ার পর ধরে নেন যে গর্ভধারণের জন্য শরীর তৈরি হয়েছে এবং তখন থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকেন। এই কাজটি ভুলেও করা যাবে না কারণ তাতে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্ঘটনা বলতে অপরিকল্পিতভাবে গর্ভে সন্তান জন্ম (Conceive) নিতে পারে।

মূলত মাসিকের আগে ওভারি থেকে ডিম্ব নিঃসরণ হয় এবং তা শুক্রাণুর সাথে মিলিত হতে না পারলে তখন জরায়ুর প্রাচীর (Endometrium) ভেঙে মাসিক শুরু হয়। অর্থাৎ আগে হয় ডিম্ব নিঃসরণ এবং পরে হয় মাসিক। আর গর্ভধারণের জন্য মাসিক হওয়া জরুরি নয়, বরং প্রয়োজন ডিম্ব  নিঃসরণের যা পুরুষের শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে। প্রসবের পর মাসিক না হলে তার উপর ভরসা করা উচিত হবে না কারণ কখন ডিম্ব নিঃসরণ হবে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় না। আর তাই প্রসবের পরই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

একটি বাস্তব গল্প

মাসিক এবং ডিম্বাণু নিঃসরণের একটি বিষ্ময়কর ঘটনা দিয়ে আজকের অনুচ্ছেদটি শেষ করছি। এটি একটি বাস্তব ঘটনা তবে গোপনীয়তার স্বার্থে রোগীর নাম পরিচয় উল্লেখ করা যাচ্ছে না। একদা একটি কিশোরী মেয়েকে সাথে নিয়ে তার মা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন কারণ তার মেয়ের শরীরে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তবে তার মেয়ের বিয়ে হয় নি এবং বিষ্ময়কর বিষয়টি হলো তার মেয়ের এখনো মাসিকই শুরু হয়নি। চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে যখন নিশ্চিত হলেন যে মেয়েটির গর্ভে সন্তান রয়েছে তখন তার বিশ্লেষণ দিলেন এভাবে যে মেয়েটি হয়তো কখনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলো।

আর মাসিক শুরু না হলেও তখন হয়তো ডিম্ব নিঃসরণ হয়েছিলো যার ফলে গর্ভধারণ হয়েছে। আশা করি পাঠক এই ঘটনার দ্বারা মাসিকের আগে ডিম্ব নিঃসরণ হয় সেই বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। মাসিক, স্ত্রীরোগ অথবা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে কোনো কৌতুহল পূরণ করতে আপনার প্রশ্ন লিখে কমেন্ট করুন।

 

 

References

BBC. (2018, October 30). Pregnancy gap should be at least a year – researchers. Retrieved from BBC: www.bbc.com/news/health

Brusie, C. (2018, January 25). How Soon Can You Get Pregnant After Having a Baby? Retrieved from Healthline: www.healthline.com/health/pregnancy/how-soon-can-you-get-pregnant-after-baby

Lindberg, S. (2021, March 23). Child Spacing: Is There an Ideal Age Gap Between Children? Retrieved from Healthline: www.healthline.com/health/birth-control/child-spacing-gap-between-children#thoughts-from-pediatricians

Mayoclinic. (2020, February 5). Family planning: Get the facts about pregnancy spacing. Retrieved from Mayo Clinic: www.mayoclinic.org/healthy-lifestyle/getting-pregnant/in-depth/family-planning/art-20044072

 

Last Updated on April 4, 2022

Was this article helpful?
YesNo